প্রতীকী ছবি

দীপংকর মিত্র, রায়গঞ্জ : পুজো মানেই ঢাকের বাদ্যি। কিন্তু যাঁদের দুই কাঠির খেলায় সবার কোমর দুলে ওঠে, তাঁরাই আজ ভালো নেই। তাঁদের নেই কোনো সরকারি অনুদান, নেই কোনো ভাতা। লোকশিল্পীরা নিয়মিত সরকারি ভাতা পেলেও তাঁদের কোনো ভাতা জোটেনি। পুজোর আর কদিন বাকি। কিন্তু রায়গঞ্জের রূপাহারের বৈশ্যপাড়ায় এখনো কোনো ব্যস্ততা নেই। সবাই য়েন নির্লিপ্ত।

রূপাহারের বৈশ্যপাড়ায় মূলত ঢাকিদের বাস। কিন্তু সরকারের নিষ্পৃহতায় এখন পুজোর আগে এলাকায় ঢাকের বোল আর শোনা যায় না। এলাকায় নিয়মিত কাজ নেই। পরিবারে অভাব নিত্যসঙ্গী। অনেকেই অভাবে নিজেদের ঢাক বিক্রি করে দিয়েছেন। কারোর ঢাক ফেটে গেলেও মেরামত করাননি। সবার একটাই ক্ষোভ, সরকার আমাদের কোনো ভাতা দিচ্ছে না। জুটছে না কোনো সরকারি সুবিধা। ৫১টি ঢাকি পরিবার রয়েছে এই গ্রামে। এতদিন ঢাক বাজিয়ে পরিবারের অন্নসংস্থান হলেও এখন আর কাজ নেই বললেই চলে। পুজোর উদ্যোক্তারা প্যান্ডেল, লাইট ও প্রতিমায় লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করলেও ঢাকিদের ন্যায্য পারিশ্রমিক দিতে চায় না। একদিকে কাজ নেই, অন্যদিকে নেই ন্যায্য পারিশ্রমিক। তাই অনেকেই এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছেন। কেউ ভ্যান, রিকশা কিনেছেন, কেউ বা দিনমজুরি করে দিনযাপন করছেন। আবার অনেকে ভিন রাজ্যেও কাজ করতে চলে গেছেন। ঢাকে বোল তুলে এই ঢাকিরা মানুষকে আনন্দ দেন। কিন্তু তাঁরা নিজেরা সারাবছর থাকেন নিরানন্দে। তাঁরা পুজোর সময় দুপয়সা আয় হওয়ার আনন্দে থাকলেও এখন সিডি কিংবা ইনটারনেটের অডিয়ো থেকেই অনেক প্যান্ডেলে ঢাকের বোল বাজে। বৈশ্যপাড়ার সূর‌্য বৈশ্য, বাবলু বৈশ্য, ফ্যাকাস বৈশ্য, নকুল বৈশ্য, ঝড়ু বৈশ্যদের অভিযোগ, রাজ্য সরকার বাউল সহ অন্যান্য বাদ্যকার এবং লোকশিল্পীদের ভাতা দিচ্ছে। কিন্তু আমরা বঞ্চিত। শিল্পী হয়ে আমরা সেই মর্যাদা পাচ্ছি না। স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত, শাসকদলের নেতা-নেত্রীদের কাছে দরবার করেও কোনো লাভ হয়নি।

বৈশ্যপাড়ার ঢাকিদের কাছে যেতেই তাঁরা নিজেদের ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। ঢাকি বাবলু বৈশ্য বলেন, সারাবছর আমাদের খোঁজ কেউ রাখে না। ভোট আর পুজো আসলেই আমাদের খোঁজ পড়ে। এনিয়ে প্রশ্ন করা হলে জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি আধিকারিক রানাদেব সাহা বলেন, ২০১৬ সালের পর শিল্পীভাতার আবেদন নেওয়ার জন্য কোনো সরকারি নির্দেশিকা আসেনি। সেই নির্দেশিকা এলেই আমরা ঢাকিদের জানিয়ে দেব। তবে গ্রামেগঞ্জে এখন অনেক দালাল হয়ে গেছে যারা শিল্পীভাতা পাইয়ে দেওয়ার নামে টাকা আদায় করছে। এদের থেকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

বিজেপির জেলা সভাপতি নির্মল দাম এবিষয়ে বলেন, রাজ্য সরকার ঢাকিদের মর্যাদা দিচ্ছে না। নিয়মিত কাজ ও পারিশ্রমিক না পেয়ে এই জেলার ঢাকিরা নিজেদের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে য়াচ্ছেন। অথচ যারা কোনো শিল্পীই নয়, তারা সরকারি ভাতা পাচ্ছে। আমরা কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে এই সব শিল্পীদের ভাতা দেওয়ার চেষ্টা করছি। এদিকে কোনো সরকারি ভাতা না পেলে পুজোর পরেই আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন বৈশ্যপাড়ার ঢাকিরা।