জমা জলে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ, রাস্তা এখন মশার আঁতুড়

292

রাজশ্রী প্রসাদ, পুরাতন মালদা : কয়েক পশলা বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে প্রায় হাঁটু জল জমে যায়। সেই জল জমে থাকে মাসের পর মাস। নোংরা পচা জল থেকে শুধু দুর্গন্ধই ছড়ায় না, মশার আঁতুড় হয়ে ওঠে রাস্তার জল। মাঝেমধ্যেই বিষধর সাপ ঢুকে পড়ে রাস্তা লাগোয়া ঘরবাড়িতে। আবার বৃষ্টি একটু বেশি হলে ঘরের ভেতরে ঢুকে যায় জল। নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় এমনই বেহাল দশা পুরাতন মালদার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শিবমন্দির ঘোষপাড়া এলাকার। অভিযোগ, পঞ্চায়েত  প্রধানকে বহুবার সমস্যার কথা বলা সত্ত্বেও কোনও পদক্ষেপ নেননি তিনি। এরপর গোটা এলাকার জমা জলের ছবি ও ভিডিও সহ বিষয়টি পুরাতন মালদার বিডিওকে জানান এলাকার বাসিন্দারা। তাতেও কোনও কাজ না হওয়ায় এবার জেলা শাসকের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকার ভূক্তভোগী মানুষজন।

কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টি। আর তাতেই জল জমে রাস্তা বন্ধ সাহাপুর শিবমন্দির ঘোষপাড়ায়। জল নামার জন্য নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যা দীর্ঘায়িত হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন বাসিন্দারা। সাহাপুর শিবমন্দির মোড়ের উলটো দিকেই একটি রাস্তা সরাসরি সাহাপুর হাইস্কুলের দিকে চলে গিয়েছে। অপর একটি গলি রাস্তাও রয়েছে তার পাশে। তবে রাস্তার ধারে কোনও নিকাশিনালা না থাকায় জল জমে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। কয়েক ঘণ্টার অল্প বৃষ্টিতেই জল জমেছে ঘোষপাড়ার গলিতে। এলাকার বাসিন্দা ঝুমা ঘোষ জানালেন, একটু বৃষ্টি হলেই গলিতে জল জমে যায়। বাড়ি থেকে বেরোতেই পারছি না। নোংরা জল থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। প্রচুর মশাও জন্মাচ্ছে। ছোটো ছোটো বাচ্চাদের নিয়ে আতঙ্কে আছি। পঞ্চায়েতকে বারবার বললেও কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। এলাকার আরেক বাসিন্দা ঝর্ণা ঘোষ বলেন, জলে সাপ ঘুরে বেড়ায়। কখনও আবার ঘরেও ঢুকে যাচ্ছে সাপ। যে কোনও সময় কিছু অঘটন ঘটে যেতে পারে। আমরা খুব সমস্যার মধ্যে আছি। কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধান সব জেনেশুনেও চুপ করে আছেন। ওই গ্রামের বাসিন্দা সুশীল ঘোষ জানালেন, দশ মিনিট টানা বৃষ্টি হলেই রাস্তার জল উপচে আমার বাড়ির ভিতর ঢুকে যায়। আকাশে মেঘ দেখলেই আতঙ্কে থাকি। পঞ্চায়েত সদস্য, প্রধান সব কিছু জানেন। বারবার বলেও কাজ হয়নি।

- Advertisement -

ওই এলাকারই বাসিন্দা সিম্পিতা দাস জানালেন, গলি অপেক্ষাকৃত নীচু হওয়ায় মালদা-বুলবুলি রাজ্য সড়কের জলও গলিতে ঢুকে পড়ে। নিকাশিনালা না থাকায় জল বেরোতে পারে না। আমরা বহুবার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনের কাছে সমস্যার কথা জানিয়েছি। কিন্তু কাজ হয়নি। রাস্তার জমা জলের ছবি ও ভিডিও সহ পুরাতন মালদার বিডিওকেও বিষয়টি জানাই। কিন্তু প্রায় দেড় মাস হতে চলল, ব্লক প্রশাসনের তরফেও কোনও উদ্যোগ লক্ষ করা যায়নি। আমরা চাই জেলা শাসক আমাদের সমস্যা অনুধাবন করে একটা সমাধানের উপায় করুন। গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছেন, স্থানীয় পঞ্চায়েত  প্রধান উকিল মণ্ডলের কাছে সমস্যার কথা জানাতে গেলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, সমস্যা মেটানো সম্ভব নয়। অগত্যা বিডিওকে বিষয়টি জানান তাঁরা। তাতেও সমস্যা না মেটায়, জেলা শাসককে ঘটনাটি জানিয়ে একাধিকবার মেইল করার চেষ্টা করেছেন গ্রামবাসীরা। তাঁরা চাইছেন, জেলা শাসকের হস্তক্ষেপে যেন সমস্যার সমাধান হয়। এদিকে রাস্তায় জমে থাকা জলের পাঁক নিজেদের উদ্যোগেই পরিষ্কার করেছেন গ্রামবাসীরা। বিষয়টি নিয়ে সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত  প্রধান উকিল মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও তা সম্ভব হয়নি। প্রশাসনিকভাবে  সমস্যার সমাধান না হলে রাস্তা অবরোধের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ওই গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা।