ছাদে ফাটল, পলেস্তারা খসে পড়ছে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের

158

গৌতম দাস, তুফানগঞ্জ : অন্দরান ফুলবাড়ি পূর্ব উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে এমএসডিপি প্রকল্পের আওতায় পানীয় জলের জলাধার তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল আড়াই বছর আগে। দেড় বছর আগে কাজ শেষ হলেও সেই জলে আয়রণ থাকায় তা ব্যবহারযোগ্য নয়। ভবনের ছাদে ধরেছে ফাটল, দেওয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। মেঝেতে উইপোকা ঢিবি তৈরি করে, দরজার কাঠ ভেঙে গিয়েছে। বর্ষাকালে জলকাদা পেরিয়ে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে যেতে হয় রোগীদের। এই অবস্থার মধ্যেই স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিষেবা দিতে হয়। কবে পরিস্থিতির উন্নতি হবে, সেই উত্তর খুঁজে বেড়াচ্ছেন সকলেই।

তুফানগঞ্জ-১ ব্লকের অন্দরান ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ৯/১৯৪ নম্বর বুথের নয়নেশ্বরী এলাকায় আটের দশকে এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গড়ে ওঠে। শুরুতে একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে পরিষেবা দেওয়া হত। প্রায় ২০ বছর আগে নয়নেশ্বরী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে ভবন গড়ে ওঠে। গত চার-পাঁচ বছর ধরে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সমস্যার বিষয়গুলি প্রশাসনের নজরে এনেও কোনও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ। এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের ওপর প্রায় ৬ হাজার বাসিন্দা নির্ভরশীল। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে ২ জন এএনএম, ৫ জন আশাকর্মী রয়েছেন। বর্তমানে পাঁচ বছর ও তার কম বয়সি ৩৬৭ জন শিশু বিভিন্ন ধরনের টিকা পেয়ে থাকে। ৪০ জন গর্ভবতী তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে আসেন। এই উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে থেকে একজন কুষ্ঠ রোগী ও ৫ জন টিবি রোগী চিকিৎসা পরিষেবা পান। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, ছাদে ফাটল ধরা পড়েছে, ঘরের দরজা ভেঙে পড়েছে। বর্ষাকালে উইপোকা ঢিপি তৈরি করে। পানীয় জলের সমস্যা শুরু থেকেই ছিল, এখনও রয়েছে। কয়েক মাস আগে জানালার উপর থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। ওই ঘটনায় অল্পের জন্য এক স্বাস্থ্যকর্মী রক্ষা পেয়েছেন।

- Advertisement -

উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রে শিশুকে টিকা দিতে নিয়ে আসা স্থানীয় বাসিন্দা অনিমা সাহা বলেন, মেঝেতে উইপোকা মাটির ঢিবি তৈরি করছে। দেওয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ছে। পানীয় জলের সমস্যা তো রয়েছেই। জলাধার চালু হওয়ার পরেও সেই সমস্যা রয়েছে। বাড়ি থেকে পানীয় জল নিয়ে যেতে হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিষেবা নিতে হয়। যে কোনও সময় ছাদ ভেঙে পড়তে পারে। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি সংস্কার করা জরুরি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গর্ভবতী বলেন, পানীয় জলের সমস্যা সবচেয়ে বড় সমস্যা। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিবেশ অস্বাস্থ্যকর। বর্ষাকালে কাদা পেরিয়ে যেতে হয়। পা পিছলে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়ে যায়। ছাদের ফাটলের বিষয়ে প্রশাসনের তরফে পদক্ষেপ করা উচিত। উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রের দ্বিতীয় এএনএম পূর্ণিমা বর্মন বলেন, বহুদিন পর জলাধারটি চালু করা হলেও কাজে আসছে না। পানীয় জলে আয়রন থাকায় তা ব্যবহারযোগ্য নয়। তিনি আরও বলেন, ঝুঁকি নিয়ে পরিষেবা দিতে হচ্ছে। বিভিন্ন সমস্যার কথা গ্রাম পঞ্চায়েত কার্যালয় ও ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

অন্দরান ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ধরণীকান্ত বর্মন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি বিডিওকে জানিয়েছি। ফান্ড এলে সংস্কার করা হবে। বিএমওএইচ ডাঃ সত্যেন্দ্র কুমার বলেন, কোনও স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংস্কার করা আমাদের কাজ না। লিখিত অভিযোগ জমা করলে আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানোর পর ভেরিফিকেশন করা হবে। তারপর রিপোর্ট জমা পড়ার পর ইঞ্জিনিয়ার এস্টিমেট করবেন। তারপর ফান্ড আসবে। সব মিলিয়ে ৭-৮ মাস লেগে যায়। তুফানগঞ্জ-১এর বিডিও শুভজিত্ দাশগুপ্ত বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। তিনি আরও বলেন, এমএসডিপি প্রকল্পের পানীয় জলের কমিউনিটি রিজার্ভারের জন্য এককালীন টাকা দেওয়া হয়। তারপর কোনও সমস্যা দেখা দিলে নিজেদের টাকায় করে নিতে হবে, অথবা রোগী কল্যাণ সমিতির সঙ্গে বা ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সঙ্গে যোগাযোগ করা যেতে পারে।