সবার জন্য ঘর প্রকল্পে ছমাসেই ফাটল, ছাদ চুইয়ে জল

311

প্রণব সূত্রধর, আলিপুরদুয়ার : সবার জন্য ঘর প্রকল্পের ঘর তৈরিতে নিম্নমানের কাজের অভিযোগ উঠল আলিপুরদুয়ার পুরসভায়। পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের আনন্দনগর এলাকায় বাড়ি তৈরির ছয় থেকে আট মাসের মধ্যে একাধিক ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে। কোনও বাড়ির টয়লেটের প্লাস্টিকের দরজা ভেঙে পড়েছে। হাত দিলে উঠে আসছে সিমেন্টের আস্তরণ। ছাদ চুইয়ে জল পড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই এই প্রকল্পের ঘরের এই হাল নিয়ে বহু বাসিন্দা ক্ষুব্ধ। এই বিষয়ে অভিযোগ জানিয়ে কোনও সমাধান হয়নি বলে তাঁদের অভিযোগ।

পুরসভার তালিকাভুক্ত ঠিকাদার সূত্রের খবর, কাজ হয়ে যাওয়ার পর বেশিরভাগ ঘরের মালিকই পর্যাপ্ত জল দেননি। অনেক বাড়ির মালিক জলের মোটর না কেনায় প্রয়োজন মতো জল পাওয়া যায়নি। জল না দেওয়ায় ফাটল দেখা দিচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, অনেক বাড়ির মালিক কাজে বাধা দিয়েছেন। নিজেদের ইচ্ছেমতো কাজ করিয়েছেন। ফলে  মিস্ত্রি ও শ্রমিকদের সমস্যা হয়েছে। ঠিকাদারদের দাবি, সিমেন্ট ও বালির সঠিক পরিমাণ দেওয়া হয়েছে। তবে উপভোক্তাদের অভিযোগ, এই প্রকল্পের ঘরগুলিতে ছাদের দৈর্ঘ্য অন্যান্য ঘরের থেকে কম। ছাদ থেকে পাইপ দিয়ে জল বের করার ব্যবস্থা না থাকায় অনেক সময় ছাদ চুইয়ে জল পড়ে। উপভোক্তাদের ক্ষোভ সম্পর্কে এই প্রকল্পে যুক্ত ঠিকাদার কমল রায় বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। বৃষ্টি ও জলের জন্য ঘরগুলি মেরামত করতে পারছি না। তবে অবিলম্বে ঘরগুলোর মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। স্থানীয় বাসিন্দা কনক অধিকারী বলেন, ঘরের একাধিক সমস্যা। অনেক জায়গায় সিমেন্টের আস্তরণ খসে পড়ছে। প্লাস্টিকের দরজাটি গতকাল ভেঙে পড়েছে। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা সানি কুণ্ডু বলেন, খুব নিম্নমানের কাজ হয়েছে। ঘরে ফাটল দেখা দিচ্ছে। আরেক বাসিন্দা অরুণ কুণ্ডু বলেন, দুটি ঘরে দেওয়ালে ফাটল ধরেছিল। আমরা নিজেরাই সেই ফাটল ঠিক করেছি। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, সবার জন্য ঘর প্রকল্পে কয়েকটি কিস্তিতে গ্রাহকের নিজস্ব অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকে যায়। অনেক গ্রাহক সেই টাকার সঙ্গে আরও কিছু টাকা মিলিয়ে নিজেরাই ঘর তৈরি করে নেন। সেক্ষেত্রে ঠিকাদারদের কোনও দায় থাকে না। তবে কিছু ঠিকাদারকে দিয়ে ঘর তৈরি করানো হয়। সেইসব ঘরেই একাধিক সমস্যা দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার কমলকৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, আমাদের কাছে বিষয়টি নিয়ে লিখিত কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি।  তাই কোন ঘরে কী সমস্যা হয়েছে তা আমাদের জানা নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

- Advertisement -