কচুরিপানা ও জঙ্গলে ভরেছে কোচবিহারের কয়েদিখোঁড়াদিঘি

316

দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : কোচবিহার শহরের সুনীতি রোড সংলগ্ন ২০ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে কয়েদিখোঁড়াদিঘি। শহরের বেশিরভাগ দিঘির মতোই এই দিঘিটিও রাজ আমলে খনন করা হয়েছিল। তবে দিঘিটি ঠিক কবে নাগাদ খনন করা হয়, তা জানা যায়নি। বর্তমানে দিঘিটি একেবারেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে। দিঘির চারপাশ দখল হওয়ার পাশাপাশি দিঘিটি কচুরিপানা, আবর্জনা এবং ঝোপজঙ্গলে ভরে গিয়েছে।

এলাকাবাসীরা জানান, বর্তমানে দিঘিটির অবস্থা একেবারেই করুণ। আবর্জনা এবং কচুরিপানায় দিঘিটি মুখ বুজেছে। যদিও জেলা প্রশাসনের ঘোষিত হেরিটেজের তালিকায় এই দিঘিটির নামও রয়েছে। রাজ আমলে জেলখানার কয়েদিদের দিয়ে  ইট প্রস্তুত করা, লেমোনেড, পাউরুটি সহ বিভিন্ন জিনিস তৈরি করা হত। মনে করা হয়, সেসময় জেলখানার কয়েদিদের দিয়ে এই দিঘিটি খোঁড়া হয়েছিল বলে এরকম নামকরণ করা হয়েছে। একসময় দিঘিটির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ছিল অধুনা বাংলাদেশের রংপুরের নলডাঙ্গার জমিদার ভবানীপ্রসন্ন তালুকদারের বাড়ি। যদিও বর্তমানে সেই বাড়িটি নেই। সেই থেকেই দিঘিটি বি পি তালুকদার দিঘি নামেও পরিচিত হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে বর্তমানে দিঘিটি বিশ্বাসপাড়ার দিঘি বা পচাদিঘি নামেই বেশি পরিচিত।

- Advertisement -

রাজ আমলের এই দিঘিটি এখন খুব খারাপ দশায় রয়েছে। দিঘিটি ঝোপজঙ্গলে ভরে গিয়েছে। হেরিটেজ তালিকায় থাকা দিঘিটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন শহরবাসী। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, শহরের বেশিরভাগ দিঘির প্রায় একই অবস্থা। জবরদখল হযে যেতে বসলেও তা দেখার কেউ নেই। প্রশাসনের এবিষযে নজর দেওয়া উচিত। কোচবিহার আর্কাইভের সভাপতি ঋষিকল্প পাল বলেন, রাজ আমলে কয়েদিদের দিযে নানারকম কাজ করানো হত। সেসময় জেলখানার কয়েদিদের দিয়ে এই দিঘিটি খোঁড়া হয়েদিল বলে দিঘিটির এরকম নামকরণ করা হয়েছে। ইতিহাসবিদ ডঃ নৃপেন্দ্রনাথ পাল বলেন, দিঘিটি সংস্কার করে সেখানে মাছ চাষ করা যায় কিনা, সেবিষযে ভাবা উচিত।