নীহাররঞ্জন ঘোষ ও সুকমল ঘোষ, মাদারিহাট ও ফালাকাটা : পর্যটনে একদা সাড়া ফেলে দেওয়া ফালাকাটা ব্লকের কুঞ্জনগর ইকো পার্কটি এখন গোচারণভূমিতে পরিণত হয়েছে। ১৯৯৬ সালে এই পার্কটি তৈরি করেছিলেন প্রয়াত তত্কালীন বনমন্ত্রী যোগেশচন্দ্র বর্মন। এখানে এলাকার কিছু শিক্ষিত বেকার ছেলেমেয়ের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছিল। সরকারের কোষাগারেও আসছিল মোটা টাকা। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে এখান থেকে সব বন্যপ্রাণীকে শিলিগুড়ির কাছে বেঙ্গল সাফারি পার্কে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর থেকেই পার্কটি পর্যটকশূন্য হয়ে গিয়েছে। এখানেই প্রায় ১০০ একর জমির উপর মার্কেট কমপ্লেক্স, রিসর্ট ও বেকার ছেলেমেয়েদের পর্যটন নিয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রশিক্ষণকেন্দ্র করার কথা ছিল। ২০১০ সালে রাজ্য পর্যটন দপ্তর ওই বিপুল পরিমাণ জমি রাজ্য বন উন্নয়ন নিগমের হাতে তুলেও দিয়েছিল। কিন্তু ওই জমিতে আজ পর্যন্ত এক কোদাল মাটিও কাটা হয়নি। ফলে থমকে রয়েছে এলাকার আর্থিক উন্নয়ন।

কুঞ্জনগর ইকো পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন বলোয়া তিরকি, দুলাল ধর সহ কয়েকজন। বলোয়াবাবু জানান, তাঁদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে পার্কের সব বন্যপ্রাণীকে বেঙ্গল সাফারিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কুঞ্জনগরকে অন্ধকার কূপে ঠেলে দিয়ে এই পার্কের লাইসেন্স দিয়ে বেঙ্গল সাফারি পার্কটি তৈরি করা হয়েছে।  তিনি বলেন, কুঞ্জনগর ইকো পার্কটি তৈরির পর রমরমিয়ে চলছিল। হাতির পিঠে চড়ে জয় রাইডিং বিখ্যাত হয়ে উঠেছিল। হরিণ ও চিতাবাঘ পাশাপাশি খাঁচায় রাখা হয়েছিল। যা দেখতে প্রতিদিন কয়েকশো পর্যটক আসতেন। এখানে একটি রিসর্টের ধারে সরকারি কাঠের ব্রিজ ছিল। চোরেরা ব্রিজের তক্তা, বাটাম সব চুরি করে নিয়ে গিয়েছে।

কুঞ্জনগর যৌথ বন পরিচালন কমিটির সভাপতি দুলাল ধর বলেন, ১০০ একর জমি ২০১০ সালে বন উন্নয়ন নিগমের হাতে তুলে দিয়েছিল পর্যটন দপ্তর। এই জমিতে মার্কেট কমপ্লেক্স, অত্যাধুনিক রিসর্ট ও বেকার ছেলেমেয়েদের জন্য স্কিল ডেভেলপমেন্ট সেন্টার করার কথা ছিল। সেসব তো করা দূরের কথা, আজ পর্যন্ত এক কোদাল মাটিও পড়েনি। তাঁর আক্ষেপ, বিষয়টি নিয়ে প্রাক্তন বনমন্ত্রী বিনয়কৃষ্ণ বর্মনের কাছে বহুবার গিয়েছেন। রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপালের কাছে গিয়েছেন। কিন্তু কোথাও কোনো কাজ হয়নি। এবার দিদিকে বলোতে জানিয়েছেন। তবে এখনও ওপ্রান্ত থেকে উত্তর আসেনি। ওই পার্কের সামনে খাবার দোকান দিয়েছিলেন অরুণ সাহা। তিনি জানান, প্রতিদিন কয়েক হাজার টাকা বেচাকেনা হত। জীবজন্তুগুলিকে নিয়ে যাওয়ার পর কেউ আর ঘুরতে আসেন না। কেনাকাটা হয় না বলে দোকানও প্রায় বন্ধ। অপর দোকানদার দিলীপ রায়সিংহ জানান, বছর খানেক আগে একটি হেলিপ্যাড তৈরি করা হয়েছিল। বলা হয়েছিল, দেশ-বিদেশের পর্যটকরা হেলিকপ্টারে এসে এখানে থাকবেন, ঘুরবেন। এলাকার অর্থনৈতিক  পরিকাঠামো আবার ফিরে আসবে। হেলিপ্যাডটি তৈরির কয়েকদিন বাদে একটি হেলিকপ্টার এসে কয়েক চক্কর পাক কেটে আবার আকাশে উড়ে যায়।

এব্যাপারে রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব বলেন, ওই ১০০ একর জমি  বন উন্নয়ন নিগমের হাতে রয়েছে। নিগম কী করবে, সেটা তাদের ব্যাপার। রাজ্য বন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান উদয়ন গুহ জানান, ওই জমির ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। কলকাতা থেকে ফিরেই ওই জায়গার বিষয়ে খোঁজ নেবেন। রাজ্যের প্রধান মুখ্য বনপাল(বন্যপ্রাণ) রবিকান্ত সিনহা বলেন, কুঞ্জনগরের লাইসেন্স দিয়ে বেঙ্গল সাফারি পার্ক করা হয়েছে। সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট থেকে নতুন করে লাইসেন্স না দেওয়ায় ওই লাইসেন্স ব্যবহার করা হয়েছে।