ময়নাগুড়ি সেরিকালচার ফার্ম যেন খণ্ডহর, পোয়াবারো চোরেদের

377

বাণীব্রত চক্রবর্তী, ময়নাগুড়ি : নেই কর্মী। নেই নৈশপ্রহরীও। বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন। এই মওকায় খণ্ডহর ময়নাগুড়ি সেরিকালচার ফার্ম হাউস ও অফিসের দরজা-জানালার কপাট ভেঙে চুরি হচ্ছে। চুরি হযে যাচ্ছে এলাকার ভেতরের পুরোনো সব গাছও। গুদামঘর ভেঙে ভেতরের সমস্ত আসবাবপত্র সাফ করে দেওয়া হয়েছে। কর্তৃপক্ষের সাফাই, কর্মীরা বেশিরভাগ অবসরগ্রহণ করার পর আর নতুন করে এখানে নিয়োগ হয়নি। তাই তাদের পক্ষে দেখভাল করা সম্ভব নয়।

ময়নাগুড়ি লাগোয়া খাগড়াবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চাময়নাগুড়ি সেরিকালচার ফার্ম যেন খণ্ডহর, পোয়াবারো চোরেদের| Uttarbanga Sambad | Latest Bengali News | বাংলা সংবাদ, বাংলা খবর | Live Breaking News North Bengal | COVID-19 Latest Report From Northbengal West Bengal Indiaয়েত এলাকার টেকাটুলির একহালিয়ার বাড়িতে শৌলি নদীর ধারে ২২ একর জমি নিযে সেরিকালচারের এই অফিস ও ফার্ম। একটি অফিস ঘর, গুদাম সহ সাতটি আবাসন এবং একটি রেশম পালনের জন্য রেয়ারিং হাউস রয়েছে এখানে। সবগুলোই বর্তমানে ভগ্নদশায় পরিণত হয়েছে। আগাছা আর জঞ্জালে ছেযে গিয়েছে গোটা চত্বর। ১৯৮৯ সালে এই অফিস চালু করা হয়। এলাকায় তুঁত চাষ করে রেশম পালনের জন্য চাষিদের এখানে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। এই অফিস চত্বরে এখনও তুঁত গাছ রয়েছে। রয়েছে পুরোনো গামার ও শিশু গাছ। সেই পুরোনো গাছগুলি এখন রাতের অন্ধকারে লুঠ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে অসংখ্য গামার ও শিশু গাছ কেটে লুঠ করা হয়েছে। কর্মীরা এখন এখানে কেউ থাকেন না। সচরাচর আসেনও না। পাশেই রয়েছে নদী এবং চারিদিক জঙ্গলে ঘেরা। আর এই সুযোগটাই পুরোপুরি কাজে লাগাচ্ছে চোরেরা।

- Advertisement -

সেই সময় সরকারি উদ্যোগে টেকাটুলি, বাশিলারডাঙ্গা, একহালিয়ার বাড়িতে চাষিদের তুঁত গাছ চাষ এবং রেশম পালনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হত। বাইরে থেকে পাইকাররা এসে সেইসব রেশম কিনে নিয়ে যেতেন। সেরিকালচার অফিসেও সেগুলি বিক্রি করা যেত। সরকারিভাবে এই প্রক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে টেকাটুলিতে এখনও কয়েকজন চাষি রেশম চাষ করছেন। বাবুলাল রায় নামে এক অস্থায়ী কর্মী বলেন,এখানকার সমস্ত পুরোনো গাছ লুঠপাট হয়ে যাচ্ছে। রাতের অন্ধকারে কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। অফিসের ইনচার্জ ভবেশ বর্মন বলেন, সমস্ত বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জানানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, সন্ধের পর এখানে সমাজবিরোধীদের আড্ডা বসে। মদ ও জুয়ার ঠেক বসে এখানে। আগে সিকিউরিটি দুজন ছিলেন। তাঁরা দুজনেই অবসরগ্রহণ করেছেন।

খাগড়াবাড়ি-২ গ্রাম পঞ্চাযে প্রধান বাবলু রায় বলেন,এই অফিস চালু হওয়ার সময় স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এখানকার জমিতে গাছ লাগানো হয়। ইতিমধ্যে রাতের অন্ধকারে কয়েকশো গাছ কেটে নিযে গিয়েছে দুষ্কৃতীরা। এখনও বেশ কিছু গাছ রয়েছে। আটকাতে না পারলে এগুলিও লুঠ হযে যাবে। আমরা সেরিকালচার দপ্তরের কাছে এই জায়গাটা চেয়েছি। গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে এখানে নতুন করে প্রকল্প গড়ে তোলার চেষ্টা চালাব। সেরিকালচার দপ্তরের জলপাইগুড়ির ডেপুটি ডাইরেক্টর সত্যব্রত পাল বলেন, কর্মী নেই। অধিকাংশই অবসরগ্রহণ করেছেন। একজন আছেন, মাঝেমধ্যে যান। আমাদের পক্ষে দেখভাল করা সম্ভব নয়। কয়েক বছর ধরেই গাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। আমরা মাঝেমধ্যে এই বিষয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করি।