চাঙড় ভেঙে বেরিয়ে এসেছে রড, বাজার যেন পোড়োবাড়ি

হরষিত সিংহ, মালদা : ছোটো ছোটো ঝোপঝাড়, আগাছায় ভরে গিয়েছে মার্কেট ভবনের ছাদ। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ছাদের উপর জন্মেছে বট-পাকুড়ের গাছ। দূর থেকে দেখে মনে হয় যেন কোনো পোড়োবাড়ি। যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে ছাদ। তবু সেই ছাদের নীচেই নিত্যদিন বসছে মালদা শহরের অন্যতম বড়ো বাজারটি। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে সেখানে আসছেন কেনাবেচা করতে। আর এমন ছবিই দেখা যাচ্ছে মালদা শহরের রথবাড়ির নেতাজি পুরবাজারে।

বাজারের বিক্রেতারা জানালেন, বেহাল ছাদ থেকে প্রতিদিনই খসে পড়ছে চাঙড়। ব্যবসায়ীরা তো বটেই, অনেক সময় জখম হচ্ছেন ক্রেতারাও। কিন্তু এর কোনো সুরাহা হয় না। এভাবেই গত কয়েক বছর ধরে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে আমরা দোকান চালাচ্ছি। ব্যবসায়ীদের আরও অভিযোগ, ছাদের চাঙড় খসে তার কঙ্কালসার চেহারা দেখা যাচ্ছে। বেরিয়ে এসেছে রড। ক্রেতারা অনেকেই জানান, এই ভয়ংকর পরিস্থিতিতে এখন বাজারে ঢোকার সময় আমরা রীতিমতো আতঙ্কিত বোধ করছি। বারবার পুরসভা থেকে শুরু করে প্রশাসনকে জানিয়ে কোনো সুরাহা না মেলায় ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগেই ছাদের নীচে টিনের চালা তৈরি করে নিয়েছেন। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এমনিতেই গোটা বছর ছাদের চাঙড় খসে পড়তেই থাকে।

- Advertisement -

তার সঙ্গে গোদের ওপর বিষফোড়ার মতো রয়েছে ছাদ চুঁইয়ে বৃষ্টির জল পড়া। গঙ্গানারায়ণ সাহা নামে এক ব্যবসায়ী জানান, এই বাজারে আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে দোকান করছি। তখন থেকে আজ অবধি একবারের জন্যও এই বাজার সংস্কার হয়নি। আমার দোকানে বর্ষার সময় জল পড়ত। তাই আমি বাধ্য হয়ে নিজের দোকানের অংশটুকু মেরামতি করে নিয়েছি। মন্টু সাহা নামে আরেক ব্যবসায়ী জানান, এখন এই বাজারে আমাদের দোকান করতেই ভয় হচ্ছে। সবসময় মনে হয় এই বুঝি বিশাল ছাদের চাঙড় ভেঙে পড়বে। আমরা বিষয়টি প্রশাসনকে একাধিকবার জানিয়েছি। কিন্তু এখনও আমাদের সমস্যার কোনো সমাধান হয়নি।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আরও জানান, পুরবাজার সংস্কারের জন্য প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু যে ভবনের ছাদের চাঙড় খসে পড়ছে সেই ভবনের জন্য কোনো টাকা বরাদ্দ করা হয়নি। স্থানীয় বাজার কমিটির সম্পাদক মানিক জয়সওয়াল বলেন, আমাদের বাজারে একাধিক সমস্যা রয়েছে। আমরা পুরসভাকে বহুবার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হয়নি। তাই আমরা আগামীতে আন্দোলনের পথে নামব। ওই ভবনের যা অবস্থা তাতে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গিয়েছে, নেতাজি বাজারের ওই জরাজীর্ণ ভবনটি আগে প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে ছিল। গতবছর জেলাশাসক ভবনটির পরিদর্শনে যান। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের কর্তা ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি বৈঠকের পর প্রশাসন সেই ভবনটি পুরসভার দায়িত্বে দেয়।

সেই সময় পুরসভা ভবনটি নতুন করে তৈরির প্রস্তাব দেয়। কিন্তু এতদিন কেটে যাওয়ার পরেও ভবন তৈরির জন্য কোনো উদ্যোগ নেয়নি পুরসভা। মালদা মার্চেন্ট চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুণ্ডু জানান, জেলাশাসক ভবনটির পরিদর্শন করেছিলেন। পুরসভা দায়িত্ব নিয়েছে তা নতুন করে তৈরি করার। কিন্তু এখনো তার কিছুই হয়নি। ভবনটির কাজ শুরু করারও আবেদন করেছি। আমরা মার্চেন্ট অফ চেম্বারের তরফে তাঁদের সবরকমের সাহায্য করতে রাজি আছি। ইরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান নীহাররঞ্জন ঘোষ জানান, এই পুর বাজারটি পুরসভা লিজ নিয়েছিল। আগামী ১১ নভেম্বর মিটিং আছে। ওইদিন আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সংস্কারের উদ্যোগ নেব।