উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসে নিম্নমানের কাজ, কাঠগড়ায় সরকারি সংস্থা

307

জ্যোতি সরকার, জলপাইগুড়ি : ১৮ কোটি টাকার নির্মাণকাজ ঘিরে সরকার অনুমোদিত নির্মাণ সংস্থা ম্যাকিনটশ বার্নের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ করার গুরুতর অভিযোগ উঠল। এই অভিযোগ করেছে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে জলপাইগুড়ি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষ। নিম্নমানের কাজ সম্পর্কে লিখিত অভিযোগ পূর্ত বিভাগের কাছে ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জয়েন্ট ইনস্পেকশন হয়েছে। চাপে পড়ে সংস্কারের কাজ শুরু করেছে নির্মাণকারী সংস্থা। বিশাল অঙ্কের টাকা খরচ করে নির্মিত জলপাইগুড়ি দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ভবনের চারদিকের ফাটল ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নির্মাণের পাঁচ বছরের মধ্যেই ভবনের ভিতরে এবং বাইরে ফাটল প্রকট হয়ে উঠেছে। ভবন দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে জল পড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষার সময়ে ক্যাম্পাস কর্তৃপক্ষকে পরীক্ষার হল পরিবর্তন করতে হয়েছে। ক্যাম্পাস চত্বরে জল জমে থাকে। বেশ কয়েটি ঘরেও জল জমে। নিম্নমানের কাজকে ঘিরে পূর্ত দপ্তর ম্যাকিনটশ বার্ন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বর্তমানে যুদ্ধকালীন তত্পরতায় সংস্কারের কাজ চলেছে।

উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের ইনচার্জ ডঃ সুবীর সরকার বলেন, নতুন ভবনের নিম্নমানের কাজ ঘিরে আমরা বিব্রত। বর্ষার সময়ে দুর্ভোগের শেষ নেই। প্রায় সব ঘর দিয়ে চুইয়ে চুইয়ে জল পড়ে। ভবনের চারিদিকে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাত্রছাত্রীরাও বর্ষার সময়ে দুর্ভোগের মুখে পড়েন। পরীক্ষার হলের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষকে পরিবর্তন করতে হয়েছে। কারণ হলের ভেতরে জল জমেছিল। তাঁরা পূর্ত বিভাগের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ে করেছেন বলে জানান সুবীরবাবু। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জলপাইগুড়ির পূর্ত বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত হাইতের নেতত্বে জয়েন্ট ইনস্পেকশন হয়েছে। সুবীরবাবু বলেন, সংস্কার করার পর সমস্যার কতটা সমাধান হবে তা সময়ই বলবে। উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসে ছাত্র এবং ছাত্রী আবাস নির্মাণের জন্য পূর্ত বিভাগকে অর্থ দিয়েছে। এখনও দুটি আবাস নির্মিত হয়নি। ফলে ছাত্রছাত্রীদের অসুবিধা হচ্ছে।

- Advertisement -

এই প্রসঙ্গে সুব্রত হাইত বলেন, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাস নির্মাণ করেছে ম্যাকিনটশ বার্ন। ভবনে ফাটলের অভিযোগ পাওয়ামাত্র নির্মাণকারী সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সংস্কারের কাজ করছে। ভবনের মধ্য দিয়ে জল পড়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্মাণকারী সংস্থাকেই এ ব্যাপারে পদক্ষেপ করতে হবে। আমরা অভিযোগ পাওয়ামাত্রই জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসে জয়েন্ট ইনস্পেকশনে গিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করেছি। পূর্ত দপ্তরের কাছ থেকে নির্দেশ পেয়ে ম্যাকিনটশ বার্ন কর্তৃপক্ষ কার্যত অভিযোগ মেনে নিয়ে সংস্কারকাজে নেমে পড়েছে। ভবনের একটি বৃহত্ অংশে সংস্কারকাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অপর প্রান্তে এখন কাজ চলছে।

অপরদিকে, জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসের নিম্নমানের কাজকে ঘিরে সমালোচনা শুরু হয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, কাজের তদারকির দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন, তাঁদের দায়বদ্ধতা এখন প্রশ্নের মুখে। বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, নির্মাণকাজকে ঘিরে কোনো কাটমানির খেলা হয়েছে কিনা, তা তদন্ত করে দেখতে হবে। জলপাইগুড়ি জেলাপরিষদের সহকারী সভাধিপতি তথা জেলা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা দুলাল দেবনাথ বলেন, জলপাইগুড়ি ক্যাম্পাসের ভবন নির্মাণের জন্য সরকারি টাকা যথায়থভাবে খরচ করতে হবে। কাজের ক্ষেত্রে কোনো গাফিলতি হয়ে থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।