তৈরির ৬ মাসে উঠছে রাস্তার পিচের চাদর, ক্ষোভ সাতকুড়া কুটিশাকদলে

387

সঞ্জয় সরকার,  দিনহাটা : তৈরির ৬ মাসেই বেহাল হয়েছে দিনহাটা-১ ব্লকের দিনহাটা ভিলেজ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাতকুড়া কুটিশাকদল এলাকার একটি রাস্তা। ফলে নির্মাণের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে ফের ভাঙা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হবে। সম্প্রতি তাঁরা রাস্তা নির্মাণে অনিয়ম এবং কাটমানির অভিযোগে স্থানীয় বিডিও-কে স্মারকলিপি দিয়েছেন। যদিও স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান জয়ন্তকুমার দাস অনিয়মের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন।

২০১৯-২০ অর্থবর্ষে সাংসদের উন্নয়ন তহবিলের টাকায় ওই রাস্তা তৈরি হয়। প্রায় ২ কিমির ওই রাস্তা তৈরিতে প্রায় ৪২ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা খরচ হয়। এই রাস্তার ওপর সাতকুড়া, নিগমনগর, দ্বিতীয় খণ্ড ভাংনী, বুড়িরহাট, বাসন্তীরহাট সহ বিভিন্ন এলাকার বহু বাসিন্দা নির্ভরশীল। আনুষ্ঠানিকভাবে রাস্তার উদ্বোধন না হলেও ইতিমধ্যেই যাতায়াত শুরু হয়েছে। যদিও ইতিমধ্যেই রাস্তার একাধিক অংশে পিচের চাদর উঠে গিয়েছে বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, রাস্তাটি ভেঙেও গিয়েছে। এরফলে ফের সড়ক যন্ত্রণার আশঙ্কা করছেন তাঁরা। রাস্তার বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থা ও স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের বিরুদ্ধে নিম্নমানের কাজ করা ও আর্থিক তছরুপের অভিযোগ উঠছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা সুজন দত্ত বলেন, দীর্ঘদিন দাবি জানিয়ে রাস্তা পেয়েছি। অথচ ৬ মাসেই তা বেহাল হয়ে গিয়েছে। রাস্তার হাল থেকেই স্পষ্ট, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ করা হয়েছে। আরেক বাসিন্দা তথা বিজেপির জেলা কমিটির সদস্য আনোয়ার হোসেন বলেন, নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে সরকারি টাকা তছরুপ হয়েছে। এলাকার মানুষের স্বার্থে রাস্তাটি ফের সংস্কার করা দরকার। পাশাপাশি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও আর্থিক তছরুপের বিষয়গুলির তদন্ত করা প্রযোজন। এলাকার বাসিন্দা পুতুল বর্মন, গোপাল বর্মন, জয়ন্ত বর্মন, নজরুল মিয়াঁ, স্বপন শীল, পার্থ মোদকরাও দ্রুত বিষয়গুলি সম্পর্কে যথায়থ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

যদিও পঞ্চায়েত প্রধান জয়ন্তকুমার দাস বলেন, কাজে অনিয়মের অভিযোগ ভিত্তিহীন। পিচের রাস্তা তৈরির ক্ষেত্রে তিনটি স্তরে কাজ হয়। প্রথম দুটি স্তরের কাজের সময় বৃষ্টি হয়নি। তবে তৃতীয় স্তরের কাজের ক্ষেত্রে বৃষ্টি হওয়ায় অসুবিধা হয়েছিল। অন্যদিকে, ওই রাস্তার দুপাশে কৃষিজমি থাকায় ট্র‌্যাক্টর ও ট্রলি যাতায়াত করে। যার ফলে রাস্তার সামান্য ক্ষতি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থাকে রাস্তা সংস্কারের জন্য বলা হয়েছে। অন্যদিকে, ব্লক প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।