অরিন্দম চক্রবর্তী, কামাখ্যাগুড়ি : কুমারগ্রাম ব্লকে বাংলা গ্রাম সড়ক যোজনায় একটি রাস্তা তৈরির এক বছরের মধ্যেই সেটি ভাঙতে শুরু করেছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়েছে। এখনই রাস্তার এই হাল হওয়ায় বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে বলে বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন। এ বিষয়ে আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদও উদ্বিগ্ন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকার বলেন, রাস্তাটি এত দ্রুত খারাপ হল কেন তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঠিকাদারি সংস্থাটিও আমাদের মতো উদ্বিগ্ন। রাস্তাটির বিষয়ে ফের উপরমহলে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মার্চের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই অনুমোদন পাওয়ার কথা। অনুমোদন এলেই কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।

কুমারগ্রাম ব্লকের পশ্চিম চকচকা থেকে রহিমাবাদ চা বাগান পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তাটি খোঁয়ারডাঙ্গা-১ এবং রায়ডাক গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে গিয়েছে। ২০১৯ সালের গোড়ার দিকে এই রাস্তাটির কাজ শুরু হয়। প্রায় ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকায় রাস্তাটির নির্মাণকাজ গত বছরের ১৫ মার্চ শেষ হয়। এর আগে দীর্ঘ প্রায় এক দশক ধরে রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় ছিল। রাস্তার বেহাল দশার জন্য স্থানীয় বাসিন্দা, স্কুল পড়ুয়া থেকে শুরু করে রায়ডাক, তুরতুরি এলাকায় হাট করতে যাওয়া ব্যবসায়ীরাও সমস্যায় পড়তেন। রাস্তাটি ঠিক করতে তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিলেন। রাস্তাটি তৈরির ফলে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলি ছাড়া কয়েকটি বনবস্তির বাসিন্দারাও উপকৃত হয়েছেন।

- Advertisement -

কিন্তু এক বছরের মধ্যে রাস্তাটি ফের বেহাল হতে শুরু করায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। পাশাপাশি, পাল্লা দিয়ে ক্ষোভও বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা বিরসা টপ্পো বলেন, এত কম সময়ের মধ্যেই রাস্তাটি বেহাল হতে শুরু করায় বর্ষার সময় পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। রায়ডাক হাটের ব্যবসায়ী সুশীল পণ্ডিত বলেন, রাস্তাটি এত দ্রুত ভেঙে যাওয়ার কথা নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজর দেওয়া উচিত। রাস্তা তৈরিতে ব্যবহৃত সামগ্রীর গুণগতমান নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। টিয়ামারি বনবস্তির বাসিন্দা লালবাহাদুর নেওয়ার বলেন, দীর্ঘদিন বেহাল থাকার পর রাস্তাটি তৈরি হওয়ায় অনেকেই উপকৃত হচ্ছিলেন। আমাদের ধারণা, নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছে। নইলে এত কম সময়ে মধ্যে রাস্তাটি ভাঙার কথা নয়।

তৈরির পর এত কম সময়ে মধ্যে রাস্তা ভাঙতে শুরু করায় রাস্তার কাজের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারি সংস্থাও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, ১০ টন লোড সহ্য করার মতো রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন ৭০-৮০ টনের প্রচুর ওভারলোডেড ডাম্পার চলাচল করছে। এর জেরেই রাস্তাটি এত তাড়াতাড়ি বেহাল হয়ে পড়ছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে রাস্তা তৈরির অভিযোগ তারা মানতে চায়নি।