সেতু সংস্কার হয়নি, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাপ্রোচ রোড

232

জলপাইগুড়ি : সেতু তৈরির পর গত ২২ বছরে তার নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ দূরের কথা, সেটির অবস্থা নিয়ে অভিযোগ জানালেও জেলা পরিষদ কর্তৃপক্ষ সংস্কারের বিষয়ে কোনও উদ্যোগ দেখায়নি বলে অভিযোগ জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের। তাঁরা আরও জানিয়েছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শোভাবাড়ির পাঙ্গা সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই রাস্তা ভেঙে নদীতে তলিয়ে যেতে পারে বলে এলাকাবাসীর আশঙ্কা।

খড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার শোভাবাড়ি, ননী শা নগর, তোড়লপাড়ার সঙ্গে ব্রহ্মোত্তরপাড়া, ফকিরপাড়া, বড়ুয়াপাড়া, বামনপাড়ার মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যম হল শোভাবাড়ি কালীমন্দিরের কাছে পাঙ্গা নদীর ওপরে থাকা এই সেতুটি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, বহু বছর আগে ওই জায়গায় একটি কাঠের সেতু ছিল। কিন্তু বর্ষায় জলের তোড়ে সেটি ভেসে গিয়েছিল। পরবর্তীতে নদী পারাপারের জন্য ওই জায়গায় বাসিন্দারাই সাঁকো তৈরি করেছিলেন। শোভাবাড়ির বাসিন্দা শোভন  রায় বলেন, বহু চেষ্টার পর জেলা পরিষদের উদ্যোগে ১৯৯৮ সালে প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা খরচে সেতু তৈরি করা হয়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেতু তৈরি করার পর সেটি রক্ষণাবেক্ষণের কোনও কাজ করা হয়নি। এদিকে, প্রতি বর্ষায় নদীর পাড় ভাঙছে। পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, নদীর পাশে থাকা পরিবারগুলিও সেখান থেকে সরে যাচ্ছে। আবার সেতুর পাশেই নদীর পাড়ে বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে, শোভাবাড়ি কালীমন্দিরের দিকে সেতুর অ্যাপ্রোচ রোডের মাটিও ধসে যাচ্ছে।

- Advertisement -

বাসিন্দাদের বক্তব্য, প্রতিদিন প্রায় এক হাজার নিত্যযাত্রী এই সেতু ব্যবহার করেন। নদীর অন্য পাড়ে ব্রহ্মোত্তরপাড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জুনিয়ার প্রাথমিক স্কুল, রেশন দোকান রয়েছে। আবার শোভাবাড়ি এলাকায় রয়েছে উচ্চবিদ্যালয়। স্থানীয় বাসিন্দা চিত্তরঞ্জন বর্মন বলেন, এটি কৃষিপ্রধান এলাকা। স্বাভাবিকভাবেই ছোট-বড় গাড়ি যাতায়াতের জন্য এই সেতু ব্যবহার করে। আবার আলু তোলার মরশুমে বড় বড় ট্রাক এই সেতু দিয়ে চলাচল করে। সুতরাং সেতুর অ্যাপ্রোচ রোড নদীগর্ভে চলে গেলে দুই এলাকার বাসিন্দাদের পাঙ্গা সাহেববাড়ি দিয়ে ৫ কিলোমিটার ঘুরে যাতায়াত করতে হবে। এই বিষয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য রিতা রায় বলেন, পুরো বিষয়টি নিয়ে দুই বছর আগে ছবি সহ জেলা পরিষদে জানানো হয়েছিল। সেই সময় এত ভাঙন হয়নি। তবে গত বছর বর্ষায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়। জেলা পরিষদের তরফে সেই সময় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এই পরিস্থিতি হত না বলে জানিয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, এই খবর আমার কাছে আসেনি। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।