মোস্তাক মোরশেদ হোসেন, রাঙ্গালিবাজনা : আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন রুটে চলাচল করা যাত্রীবাহী ছোটো গাড়িগুলির জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীদের একাংশ। বছরের পর বছর জেলাজুড়ে যাত্রীবাহী ছোটো গাড়িগুলির অনেকগুলির দরজার লক খারাপ হয়ে রয়েছে। ড্রাইভার বা তাঁর সহকারী ছাড়া কোনো প্যাসেঞ্জার ওই বিগড়ে যাওয়া লক আটকানো দরজা খুলতে পারেন না। কারণ, এ ধরনের দরজা খুলতে গেলে জানতে হয় বিশেষ কায়দা। অনেকের অভিযোগ, এইসব গাড়িতে রি-সোল করে পুরোনো টায়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেক নিত্যযাত্রী।

আলিপুরদুয়ার জেলার বিভিন্ন প্রান্তে, বিশেষত পকেট রুটগুলিতে বাসের বিকল্প হয়ে উঠেছে ছোটো গাড়ি। ফলে ম্যাক্সিক্যাব সহ অন্য ছোটো যাত্রীবাহী গাড়ির ওপর ভরসা করতে হয় হাজার হাজার মানুষকে। জেলা সদর আলিপুরদুয়ার থেকে ফালাকাটা রুটে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান ভরসা এইসব ছোটো গাড়ি। সেখান থেকে হাসিমারা, হ্যামিল্টনগঞ্জ, কালচিনি রুটেও প্রচুর ম্যাক্সিক্যাব চলাচল করে। ফালাকাটা-মাথাভাঙ্গা, জয়গাঁ-ফালাকাটা, বীরপাড়া-ফালাকাটা রুটেও যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ভরসা ম্যাক্সিক্যাব। এছাড়া, বীরপাড়া থেকে ফালাকাটা, খগেনহাট, এথেলবাড়ি, বিন্নাগুড়ি, মাদারিহাট ও মাদারিহাট থেকে ফালাকাটা পর্যন্ত প্রচুর ম্যাক্সিক্যাব চলাচল করে। মাঝে মাঝেই এই গাড়িগুলি দুর্ঘটনার কবলে পড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই, ছোটো গাড়িগুলির প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের ব্যাপারে গাড়ির মালিক ও পরিবহণকর্মীদের দায়বদ্ধতার পাশাপাশি মোটর ভেহিকল দপ্তরের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অনেক গাড়িই যে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে, তা মানছে পুলিশও।

সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, ছোটো যাত্রীবাহী গাড়িগুলির মধ্যে এমন অনেক গাড়ি রয়েছে য়েগুলির দরজা সরাসরি লক করা যায় না। বোল্ট দিয়ে লাগাতে হয়। দড়ি ও লোহার শিক বেঁকিয়ে তৈরি করা আংটার মাধ্যমেও অনেক ছোটো গাড়ির দরজা আটকানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বহু ছোটো গাড়ির উইন্ডস্ক্রিন মোছার জন্য ওয়াটার ওয়াইপার নেই। ফলে, মুষলধারে বৃষ্টির সময় সামনে প্রায় কিছুই দেখা যায় না। চালককে অনুমান করে গাড়ি চালাতে হয়। সেসময় প্রতি মুহূর্তে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। এর পাশাপাশি, টায়ার ক্ষয়ে যাওয়ার পর সেগুলির ওপর রাবারের প্রলেপ লাগিয়ে বা রি-সোলিং করে গাড়িতে লাগানো হয়। কিন্তু, রি-সোলিং করা টায়ার কখনোই নয়া টায়ারের মতো হয় না। ব্রেক কষলেও অনেক সময়ই যে চাকা পিছলে অনেকটা এগিয়ে যায় তা মানছেন চালকরাও। হ্যামিল্টনগঞ্জ থেকে ফালাকাটা রুটের নিত্যযাত্রী পেশায় শিক্ষক রঞ্জন রায় বলেন, রুটের ছোটো গাড়িগুলির বেশিরভাগই নিরাপদ নয়। দরজা একবার বন্ধ হলে খুলতে চায় না। তার উপর অনেক সময় দরজা আংটা দিয়ে আটকানো থাকে। দুর্ঘটনা ঘটলে দরজা খুলে বের হওয়া একপ্রকার অসম্ভব। সবচেয়ে বড়ো ঝুঁকির ব্যাপার হল, গাড়িগুলি মাত্রাতিরিক্ত গতিতে ছুটে চলে।

গাড়ির গতি সম্পর্কে মাদারিহাট ও বীরপাড়া দুই থানার বক্তব্য, মাত্রাতিরিক্ত গতিতে ছুটে চলা যানবাহনের চালকদের বিরুদ্ধে লাগাতার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বীরপাড়া থানার ট্রাফিক ওসি সুজান মোচারি বলেন, আমরা নিয়মিত নজরদারি চালাচ্ছি। তবে গাড়ির দরজা, জানালা, চাকা ঠিকঠাক আছে কিনা তা দেখা মোটর ভেহিকল দপ্তরের কাজ। ম্যাক্সিক্যাব মালিকদের বীরপাড়ার সংগঠনের সম্পাদক সুজিত ঘোষ বলেন, আমরা সংগঠনের তরফে বিষয়টি নিয়ে মাঝে মাঝেই সচেতনতামূলক আলোচনা করি। সবসময় সংগঠনের তরফে নজর রাখা সম্ভব নয়। পরিবহণ দপ্তরের উচিত, গাড়িগুলির ফিটনেস পরীক্ষার সময় বিষয়গুলির ওপর নজর রাখা। আলিপুরদুয়ারের আরটিও প্রবীণ লামা বলেন, জরাজীর্ণ গাড়িগুলির ওপর নজরদারির দায়িত্ব পরিবহণ দপ্তরের কারিগরি বিভাগের। কিছুদিন আগে কারিগরি দপ্তরকে নিয়ে আমরা অভিয়ানও চালিয়েছিলাম। শীঘ্রই ফের অভিযান চালানো হবে।