দুই জেলার ঠেলাঠেলিতে রাস্তা মেরামত হচ্ছে না, সমস্যায় মানুষ

292

বারবিশা :  প্রতিবেশী দুই জেলার স্থানীয় প্রশাসনের ঠেলাঠেলিতে গ্রামে যাতায়াতের প্রধান রাস্তা মেরামত হচ্ছে না। টানা কয়েক দশক ধরে থমকে রয়েছে রাস্তার উন্নয়ন। রাস্তা সংস্কারের দাবিতে ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে প্রশাসনের কর্তাদের কাছে বহুবার দরবার করা হলেও আখেরে লাভ হয়নি কিছুই। ঘটনার জেরে যাতায়াতের সমস্যায় ভুগছেন আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার বেশ কিছু গ্রামের মানুষ। অসম সীমান্তবর্তী ৩১সি জাতীয় সড়কের নাজিরান দেউতিখাতা থেকে মাঝেরডাবরি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি সংস্কারের অভাবে কয়েক দশক ধরেই বেহাল। শেষ কবে রাস্তা সংস্কার হয়েছিল সেটা মনে করতে পারছেন না বারবিশা লাগোয়া নাজিরান দেউতিখাতা এলাকার বাসিন্দারা। কেউ বলছেন, ১৫ বছর আগে একবার বালি-পাথর ফেলে রাস্তা মেরামত হয়েছিল। আবার কেউ বলছেন, ১৫ বছরেরও আগে স্থানীয় বাসিন্দারাই রাস্তা মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে রাস্তা বেহালের বিষয়টি অবশ্য মেনে নিয়েছেন ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে অন্য রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতারাও।

আলিপুরদুয়ার জেলার কুমারগ্রাম ব্লকের ভল্কা বারবিশা-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান স্বর্ণমযী বর্মন বলেন, ওই রাস্তাটি দুটি জেলার মধ্যে পড়েছে। সম্প্রতি আমাদের জেলার মধ্যে থাকা রাস্তার বেহাল অংশ মেরামত করা হয়েছে। কোচবিহার জেলার রামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে থাকা ওই রাস্তার ভাঙা অংশ মেরামত না করায় সাধারণ মানুষ যাতায়াত সমস্যায় ভুগছেন। এদিকে, রামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মালতী বর্মন বলেন, রাস্তাটির বেশ কিছু অংশ আলিপুরদুয়ার জেলার মধ্যে পড়েছে। ফলে কাজ করতে গিয়ে বাস্তবে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। বিষয়টি স্থানীয় নেতাদের বলেছি। এ নিয়ে জেলা পরিষদের সঙ্গেও কথা হয়েছে। এ ব্যাপারে তৃণমূল কংগ্রেসের কুমারগ্রাম ব্লক সভাপতি ধীরেশচন্দ্র রায় বলেন, নানা সরকারি প্রকল্পে ওই এলাকায় আলিপুরদুয়ার জেলার মধ্যে থাকা রাস্তাগুলি সম্প্রতি পাকা করা হয়েছে। কোচবিহার জেলার মধ্যে থাকা ওই রাস্তার বেশ কিছু অংশ মেরামত না করায় সমস্যা হচ্ছে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে সীমান্ত গ্রামের ওই রাস্তা মেরামতের ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের তুফানগঞ্জ-২ ব্লক আহ্বায়ক ধনেশ্বর বর্মন বলেন, রাস্তাটি দুই জেলার মধ্যে থাকায় স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত প্রশাসনের পক্ষে মেরামত করার ক্ষেত্রে অতীতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল ঠিকই, সেটা কাটিয়ে ওঠা গিয়েছে। সমস্যা মেটাতে কোচবিহার জেলা পরিষদের সঙ্গে কথা হয়েছে। স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্যা চৈতী বড়ুয়া এবং সহ সভাপতি পুষ্পিতা ডাকুয়া ইঞ্জিনিয়ারকে সঙ্গে নিয়ে বেহাল রাস্তাগুলি সরেজমিনে ঘুরে দেখে গিয়েছেন। জেলা পরিষদের উদ্যোগে থাকা রাস্তা নির্মাণের সমীক্ষা হয়ে গিয়েছে। আশা করছি, পুজোর আগেই এলাকার মানুষ নতুন পাকা রাস্তা পাবেন।

- Advertisement -

অসম সীমান্তের ৩১সি জাতীয় সড়ক থেকে নাজিরান দেউতিখাতা-বারুইপাড়া হয়ে মাঝেরডাবরি বিষ্ণুনগর কলোনি পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছেন ১০-১৫টি গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ। বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুই জেলার সীমানা বরাবর রাস্তাটি মেরামতের পরিবর্তে একে অপরকে দোষারোপ করে দায়ভার এড়াতে চাইছে আলিপুরদুয়ার জেলার ভল্কা-বারবিশা-২ এবং কোচবিহার জেলার রামপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ। দুই গ্রাম পঞ্চায়ে কর্তৃপক্ষের ঠেলাঠেলিতে বছরের পর বছর ধরে যাতায়াত সমস্যায় নাকাল হতে হচ্ছে দুই জেলার সীমান্তবর্তী নাজিরান দেউতিখাতা, বারুইপাড়া, শালবাড়ি, মাঝেরডাবরি, বিষ্ণুনগর, ছাট ভল্কা, গোয়ারভাঙ্গা, ফলিমারি, রামপুর, জোড়াই সহ আশপাশের আরও বেশ কয়েটি গ্রামের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে। অনেকেই বলেন, জেলা আলাদা হলেও তুফানগঞ্জ-২ ব্লক আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রেই পড়েছে। আমরা একই লোকসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা। তারপরেও দশকের পর দশক ধরে রাস্তা সংস্কারের ব্যাপারে আমাদের বঞ্চিত থাকতে হবে কেন?

গাড়িচালক চন্দন দাস বলেন, বর্ষাকালে রাস্তাজুড়ে হাঁটুজল জমে যায়। তখন ওই পথে চলাচল করা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অন্তঃসত্ত্বা বা রোগীদের নিয়ে চরম বিপাকে পড়তে হয়। আমি ১৬ বছর ধরে এই রুটে গাড়ি চালাচ্ছি। সম্প্রতি আলিপুরদুয়ার জেলার মধ্যে থাকা সাড়ে তিন কিলোমিটার রাস্তা পাকা হয়েছে। কোচবিহার জেলার মধ্যে থাকা রাস্তার বাদবাকি অংশ বেহাল থাকায় যাতায়াতের সমস্যা থেকেই গিয়েছে।