উত্তর বারোঘড়িয়ায় রাস্তার মাটি সরে বিপদের আশঙ্কা

229

কৌশিক দাস  ক্রান্তি : গত বছর বর্ষায় মাল ব্লকের রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর বারোঘড়িয়ার তিনবাড়িতে ঝোরা পারাপারের সেতুটি ভেঙে যায়। এর ফলে পাঁচটি গ্রামের মধ্যে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের তরফে সেতু বানিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের তরফে বাঁশের সাঁকো বানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর সেটিও ভেঙে যায়। তারপর গ্রাম পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ মাটি এবং পাথর দিয়ে ঝোরার উপরেই রাস্তা তৈরি করে দিয়েছিল। কিন্তু এবার বর্ষা শুরু হতেই সেই রাস্তার মাটি সরতে শুরু করেছে। ফের যাতায়াত বন্ধ হওয়ার আশঙ্কায় দিন গুনছেন বাসিন্দারা।

বাসিন্দারা জানান, গত সাত বছরে তিনবার সেতু ভেঙেছে। এই ঝোরা পেরিয়ে তিনবাড়ি, শালবাড়ি, মেচপাড়া, মধ্যবাড়ি, ঘুঘুটারি গ্রামের প্রায় ৭ হাজার বাসিন্দা যাতায়াত করেন। কাছেই রয়েে আপালচাঁদ বনাঞ্চল এবং চেল নদী। ক্ষুব্ধ গ্রামবাসীরা জানান, শেষবার সেতু ভেঙে যাওয়ার পর নতুন সেতু বানানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় মাটি ফেলে যাতায়াত করার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এখন সেই রাস্তার মাটিও সরে যাচ্ছে। এভাবে মাটি পুরোপুরি সরে গেলে কিছুদিন পর এই পথে চলাচল করা আর সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন তাঁরা। এর আগে ঝুঁকি নিয়ে সাঁকোর উপর দিয়ে ঝোরা পারাপার করতে গিয়ে অনেকে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা পবিত্র রায় বলেন, মাত্র কয়ে কবছর আগে সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছিল। ঠিকঠাক সামগ্রী দিয়ে সেতু নির্মাণ করলে সেটি ভাঙার কথা না। সাঁকোর উপর দিয়ে হেঁটে অথবা কষ্ট করে সাইকেল, বাইক নিয়ে যাতায়াত করা সম্ভব হলেও অ্যাম্বুল্যান্স কিংবা পণ্যবাহী গাড়ি যেতে পারত না। এখন তো যাতায়াত প্রায় বন্ধের মুখে। আরেক গ্রামবাসী প্রফুল্ল রায় বলেন, এখন ঝোরায় জল কম, পারাপার করা সহজ। কিন্তু বেশি বৃষ্টি হলেই যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়বে। রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আবদুল মোতালেব হোসেন বলেন, সেতুর কাজের টেন্ডার হয়ে গিয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হবে। জেলা পরিষদের তরফে এই কাজ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

- Advertisement -