হিলিতে তাপ্পি মারা রাস্তার কঙ্কাল বেরিয়েছে

বিধান ঘোষ, হিলি : প্রায় দুই কিলোমিটার রাস্তার পিচ উঠে কঙ্কাল বেরিয়ে গিয়েছে। রাস্তা নিয়ে হিলির বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। মাস পাঁচেক আগে এই রাস্তার কাজ নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ সামনে এসেছিল। সেসময় রাস্তা তৈরির জন্য আসা ইট ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছিলেন গ্রামবাসীরা। এর মধ্যে যমুনা হয়ে পদ্মায় গিয়ে মিশেছে অনেক জল। তবু রাস্তার হাল ফেরেনি। জেলা পরিষদের টালমাটাল অবস্থা মিটলেও পরিস্থিতি বদলায়নি। তবে আশার কথা, রাস্তার হাল ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা।

হিলি রমানাথ উচ্চবিদ্যালয় থেকে দক্ষিণপাড়া পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার বিস্তৃত রাস্তার কাজ কোনওরকমে তাপ্পি মেরে করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। বর্ষায় হাঁটু পর্যন্ত কাপড় তুলে যাতায়াত করতে হয় বাসিন্দাদের। বেহাল রাস্তায় নিত্যদিন ছোটো-বড়ো দুর্ঘটনা ঘটে। সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার রাস্তা হওয়ার দরুন, সীমান্তরক্ষার কাজে বেগ পেতে হয় বিএসএফ জওয়ানদেরও। প্রশাসনিক কর্তাদের দুয়ারে দরবার করেও লাভ হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের। গত সেপ্টেম্বর মাসের শেষে হিলি পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে লক্ষাধিক টাকা বরাদ্দ করে ভাঙা ইট দিয়ে রাস্তাটি মেরামত করা হয়। সেই সময় প্রশাসনের বিরুদ্ধে পিঠ বাঁচানোর অভিযোগ তুলে সরব হয় ক্ষুব্ধ জনতা। প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে স্থানীয়দের তুমুল বাগযুদ্ধ হয়। শীঘ্রই সংস্কারের আশ্বাসে সেবার গর্তগুলিতে ভাঙা ইট দিয়ে মেরামত করে প্রশাসন। কিন্তু ফের বেহাল পরিণতি রাস্তার।

- Advertisement -

এদিকে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের দ্বন্দ্ব প্রায় মিটে গিয়েছে। ফলস্বরূপ এখন রাস্তা সংস্কারের জোর দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা। এপ্রসঙ্গে স্থানীয় বাসিন্দা সনজিৎ দাস, সুশীল মালো জানান, গত সাত বছর ধরে বেহাল দশা রাস্তার। চলাচল করা দুঃসাধ্য। যানবাহন যাতায়াত করতে চায় না। পঞ্চায়েত প্রধান, বিডিও ও জেলা পরিষদে বহুবার মৌখিক ও লিখিত ভাবে দরবার করা হয়েছে। শাসক নেতা থেকে আধিকারিকরা শুধুই প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এমনকি দিদিকে বলো কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জানানো হয়। কিন্তু কোনও ফল মেলেনি। তাই ফের অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানানো হয়েছে।

হিলির বিডিও সৌমেন বিশ্বাস বলেন, নতুন কাজে যোগ দিয়েছি। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব। হিলি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি শুভঙ্কর মাহাত বলেন, রাস্তাটির ক্ষোভ নিয়ে অনেকেই এসেছেন। পঞ্চায়েত সমিতির তরফে মেরামত করা হয়েছিল। জেলা পরিষদের টালমাটাল অবস্থার জন্য সংস্কার করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে জেলা পরিষদের দ্বন্দ্ব মিটেছে। যতটুকু জেনেছি সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জেলা পরিষদ। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সভাধিপতি লিপিকা রায় জানান, রাস্তার বেহাল পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা নেই। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেব।