কুশমণ্ডির বেড়ইলে রাস্তায় সাঁতার কাটছে হাঁস

491

সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : রাস্তার মাঝে দিব্যি সাঁতার কেটে বেড়াচ্ছে হাঁস। বৃষ্টির জল রাস্তার গর্তে জমে এখন কার্যত ছোটখাটো পুকুরে পরিণত হয়েছে। আর সেখানেই নিজেদের অবাধ বিচরণক্ষেত্র গড়ে তুলেছে হাঁসের দল। কুশমণ্ডির বেড়ইল গ্রাম পঞ্চায়েতের এই রাস্তাতেই মঙ্গলবার ধানের চারা রোপণ করে নিজেদের ক্ষোভ প্রকাশ করলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ শ্যামল সাহাকে। বিষয়টি জানতে পেরে রাস্তা সম্পর্কে খোঁজখবর নেবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন গঙ্গারামপুরের মহকুমা শাসক মানবেন্দ্র দেবনাথ।

বেড়ইল গ্রাম পঞ্চায়েতের একডালা গ্রামের প্রায় আড়াই কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে কাঁচা। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে একডালা, ডাঙ্গাপাড়া, বাহাকুড়ি, মনপুরা, পাকুড়িয়া সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। বহুবার রাস্তাটি পাকা করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে স্থানীয় বাসিন্দারা দরবার করেছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পাকা হয়নি কাঁচা রাস্তা। বর্ষার মরশুম শেষ হলেও সেই রাস্তা চলাচলের উপযোগী হয়ে ওঠেনি। ওই গ্রামের সামসুল হক বলেন, গত ৩০ বছর ধরে ওই রাস্তা সংস্কারের জন্য বিষয়টি আমরা ব্লক থেকে জেলা প্রশাসনের নজরে এনেছি। কিন্তু কোনও এক অজ্ঞাতকারণে কেউ রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ নেয়নি। ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের দশম শ্রেণির ছাত্রী লাকি আফসানা জানায়, প্রায় হাজারের ওপর ছাত্রছাত্রী ওই বেহাল রাস্তা দিয়ে সাতাশগ্রাম হাই মাদ্রাসা, একডালা জুনিয়ার স্কুল এবং একডালা প্রাথমিক স্কুলে যাতায়াত করে। রাস্তা খারাপ থাকার কারণে সকলেই সমস্যার মধ্যে পড়ে।

- Advertisement -

বর্ষার সময় সবচাইতে খারাপ অবস্থা হয় বলে জানিয়েছেন অপর এক গ্রামবাসী আবদুর রশিদ। তিনি বলেন, বর্ষার সময় রাস্তা খারাপ থাকার কারণে গ্রামের গুরুতর অসুস্থ এক রোগীকে ঘাড়ে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে রাস্তাতেই তাঁর মৃত্যু হয়। গ্রামে চার চাকার কোনও গাড়ি তো দূরের কথা, ভুটভুটি পর্যন্ত ঢোকে না। সম্প্রতি কারবালা হাই মাদ্রাসার মিড- ডে মিলের চাল দিতে এসে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষিকা দীপান্বিতা সরকার কাদা রাস্তায় পড়ে গিয়ে আহত হন। বারবার রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়ে কোনও কাজ না হওয়ায় এদিন  শেষ পর্যন্ত স্থানীয় বাসিন্দারা পথে নামতে বাধ্য হন। কয়েকটি গ্রামের মানুষ একত্রিত হয়ে বেহাল রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে নিজেদের অসন্তোষের বিস্ফোরণ ঘটান। ঘটনাস্থলে পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় জেলা পরিষদের সদস্য শ্যামল সাহাকে। তিনি নিজেও মানুষের দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। একডালার ডাঙ্গাপাড়ার রাস্তা সত্যিই খুব খারাপ। রাস্তা সংস্কারের কথা আমি জেলা শাসকের নজরে আনব। এই প্রসঙ্গে ওই পঞ্চায়েতের সদস্যা সাইনুর রেবা কোনও কিছু বলতে চাননি।

জেলা পরিষদের খাদ্য কর্মাধ্যক্ষ আশ্বাস দিলেও ভুলতে নারাজ গ্রামবাসীরা। তাঁরা জানান, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা প্রশাসন রাস্তা সংস্কারের সিদ্ধান্ত না নিলে তাঁরা কুশমণ্ডি বিডিও অফিস ঘেরাও করে প্রতিবাদ আন্দোলনে নামবেন।  কাদা রাস্তায় ধানের চারা রোপণ করে বিক্ষোভ প্রদর্শনের খবর পেয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মহকুমা শাসক মানবেন্দ্র দেবনাথ। তিনি জানান, ওই রাস্তার বিষয়ে খোঁজ নেবেন। আড়াই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা কেন গত ৩০ বছর ধরে পাকা করা গেল না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।