সৌরভ রায়, কুশমণ্ডি : দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ার ফলে রাস্তার অবস্থা বেহাল। ফলে বিপাকে পড়েছে ওই রাস্তা দিয়ে নিত্যদিন যাতায়াতকারী কয়েটি স্কুল-কলেজের পড়ুয়া থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘদিন ধরে বেহাল রাস্তা সারাই না হওয়ার কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষক-শিক্ষিকা থেকে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। উ‌সবের মরশুম শেষ হওয়ার পরেই রাস্তাটি সংস্কারের জন্য পদক্ষেপ করা হবে বলে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের তরফে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

কুশমণ্ডির মহাগ্রাম মোড় থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে রয়েছে কুশমণ্ডি কলেজ। তার প্রায় দুশো মিটার আগে রয়েছে একটি আইটিআই। এছাড়াও ওই পথেই রয়েছে মহাগ্রাম এমএসকে এবং পোইনালা প্রাথমিক বিদ্যালয়। ফলে প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয় প্রায় কয়েক হাজার পড়ুয়া সহ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের। এছাড়াও নানা প্রয়োজনে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হয় মহাগ্রাম, পোইনালা, বারোঘরিয়া, লক্ষ্মীতলা এবং ঢালপুকুরের বাসিন্দাদের। সংস্কারের অভাবে রাস্তাটি খারাপ হয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন সকলেই। প্রায় দুই বছর আগে বন্যার সময় ওই রাস্তার পিচ উঠে গিয়ে ইট বেরিয়ে আসে বহু জায়গায়। খুব ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলিকে বন্যার পরে কোনোমতে সংস্কার করলেও বাকি রাস্তায় আর কোনো সংস্কারকাজ হয়নি বলে দাবি বাসিন্দাদের।

কুশমণ্ডি সরকারি কলেজের অধ্যাপক গৌতম দত্ত, টিআইসি গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, পোইনালা মহাগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজেদার রহমান জানান, গত কয়েক বছরে রাস্তাটি সংস্কার করা হয়নি। বন্যার পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। আইটিআই ও সরকারি কলেজের সমস্ত পড়ুয়া ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে। বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রীকে রাজ্য সড়ক থেকে টোটো করে কলেজে আসতে হয়। রাস্তা খারাপ হওয়ার কারণে টোটোচালকরা অনেকেই ওই পথে আসতে চান না। অধ্যাপক ও শিক্ষকদের অনেকেই গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু বেহাল সেই রাস্তা দিয়ে গাড়ি চালিয়ে নিয়ে যাওয়াও দুস্কর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এলাকার বাসিন্দারা বলেন, রোগীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে সুস্থরাও অনেকসময় অসুস্থ হয়ে পড়েন। বিশেষ করে গর্ভবতীদের ওই বেহাল রাস্তায় গাড়িতে আনার সময় বিপাকে পড়তে হয়। কেন রাস্তা সংস্কার হচ্ছে না তার সঠিক কারণ বোঝা যাচ্ছে না। যে কোনো ঘটনা ঘটলেই এলাকার সব রাজনৈতিক দলের নেতার মুহূর্তের মধ্যে ছুটে চলে আসেন। কিন্তু এই বেহাল রাস্তা ঠিক করার জন্য কেউই উদ্যোগী হন না। কুশমণ্ডি পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুনন্দা বিশ্বাস বলেন, উৎসবের মরশুম শেষ হলেই বিষয়টি জেলাতে জানানো হবে। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের মেন্টর শুভাশিস পাল বলেন, নানা জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদে কোনো কাজ হয়নি। পুজোর ছুটি শেষ হলেই বেশ কিছু রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দেওয়া হবে।