জল নামতেই প্রকাশ্যে রাস্তার কঙ্কাল

196

সেনাউল হক, বৈষ্ণবনগর : কোথাও বড়ো বড়ো গর্তে ফালা ফালা হয়ে গিয়েছে রাস্তা। আবার কোথাও রাস্তাটাই প্রায় নেই। জলকাদা মিশে চষা মাঠের আকার নিয়েছে। বন্যার জল নামতেই রাস্তার এমন কঙ্কালসার দশা বেরিয়ে এসেছে।

অনেক রাস্তা অবশ্য এখনও জলের তলায় রয়েছে। তবে বেশিরভাগ বাড়ি থেকেই জল নেমে গিয়েছে। যদিও বাড়ির আশেপাশে জল জমে রয়েছে। গ্রামবাসীরা মনে করছেন, সেই জল নামতে আরও কয়েকদিন লাগতে পারে। এদিকে বন্যার জলে গ্রামের বেশিরভাগ রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন কাটছে গ্রামবাসীদের। এদিকে রোগব্যাধিও ছড়াতে শুরু করেছে বন্যা কবলিত বৈষ্ণবনগরের শোভাপুর পারদেওনাপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায়। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বন্যার জল নামার পরেই অনেক রকম অসুখ দেখা যায়। কয়েকদিন ধরে পেটের অসুখে ভুগতে শুরু করেছে গ্রামের মানুষজন। বন্যার পরে গ্রামে অসুখবিসুখ হয়ে থাকে। এটা প্রশাসন জানে। তাও এখন পর্যন্ত গ্রামে কোনো মেডিকেল টিম দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

গ্রামের বাসিন্দা সাহিদুর শেখ বলেন, বন্যার জলে ডুবে গিয়েছিল বাড়িঘর। এখন বাড়ির সীমানা থেকে জল নেমেছে। যদিও পুরোপুরি জল নামতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। রাজকুমার বিশ্বাস বলেন, সব থেকে বড়ো বিষয় হচ্ছে জল নামতে শুরু করেছে বলে প্রশাসনের লোকজনদের আর দেখা মিলছে না। এমনকি গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যরাও আর আসছেন না। গ্রামের বাসিন্দা রাধারানি মণ্ডলের অভিযোগ, এখন ব্লিচিং ছিটানো দরকার। কারণ অনেক আবর্জনা জলে ভেসে এসেছে। সেগুলি পড়ে রয়েছে। পচে গিয়ে ব্যাপক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। তাছাড়া গ্রামে এখনো কোনো মেডিকেল টিম দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না।

কালিয়াচক-৩ ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক গৌতম দত্ত বলেন, গ্রামের রাস্তা থেকে জল নেমেছে। এটা অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে। তবে রাস্তাগুলি বেহাল হয়ে পড়েছে। সেগুলি খুব শীঘ্রই মেরামত করা হবে। আমরা আগেই রাস্তার বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। জেলাপরিষদ থেকে তৈরি রাস্তাগুলির মেরামত জেলাপরিষদ করবে। পঞ্চায়েতের তৈরি রাস্তাগুলি গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সারানো হবে। জলবাহিত কিছু রোগব্যাধী ছড়াতে পারে। তাই আমরা পিএইচইর সঙ্গে কথা বলেছি। তারা শীঘ্রই কাজে নামবে। ব্লিচিং পাউডার সহ মেডিকেল টিম দুয়েক দিনের মধ্যেই পাঠানো হবে।