তৈরির দু‘বছরের মধ্যে বেহাল পাথরঘাটার প্রধান রাস্তা

359

রণজিৎ ঘোষ, শিলিগুড়ি : রাস্তা তৈরির দুই বছরের মধ্যেই পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে পাথরঘাটার সঙ্গে মাটিগাড়া, খাপরাইল মোড়ের  যোগাযোগের প্রধান রাস্তা। ফলে বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। ওই ভাঙাচোরা পথ দিয়ে তাঁদের চলাচল করতে হচ্ছে। কিন্তু একটা রাস্তা তৈরির দুই বছরের মধ্যেই কীভাবে ভেঙে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দাবি উঠেছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থাকে চাপ দিয়ে ওই রাস্তা দ্রুত মেরামতির ব্যবস্থা করা হোক। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, ওই রাস্তা আমার আমলে তৈরি হয়নি। তবে বিষযটি খতিয়ে দেখা হবে।

২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে উত্তরবঙ্গ উন্নযন দপ্তর থেকে পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতের খাপরাইল রোডের গোয়েল মোড় থেকে শ্রীরাম কলোনি এবং অনুকূল বর্মনের বাড়ি থেকে পদম খাড়িয়ার বাড়ি পর্যন্ত দুটি ধাপে প্রায় আড়াই কিলোমিটার রাস্তা নতুনভাবে তৈরির কাজের শিলান্যাস করা হয়। রাস্তা নির্মাণে প্রায় ৮৭ লক্ষ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়। রাস্তাটি তৈরি হয় ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে কিন্তু মাত্র দুই বছরের মধ্যেই রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। একটু বৃষ্টি হলেই গোটা রাস্তায় জল দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। অথচ এই রাস্তা দিয়ে ভুবনজোত, শ্রীরাম কলোনি সহ বেশ কিছু গ্রামের লোকজন যাতায়াত করেন। আবার মাটিগাড়ার দিক থেকে পাথরঘাটা গ্রাম পঞ্চায়েতে যাওয়ার এটাই একমাত্র পথ।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা তথা তৃণমূল কংগ্রেসের মাটিগাড়া ব্লক সভাপতি (২) খগেশ্বর রায় বলেন, রাস্তাটি তৈরি হওয়ার পর দেড় বছরও ভালোভাবে ব্যবহার হয়নি। প্রায় এক বছর ধরে রাস্তাটি ভেঙেচুরে রয়েছে। অথচ এই রাস্তা দিয়ে ৬-৭টি গ্রামের মানুষ যাতায়াত করেন। পাশাপাশি দার্জিলিং মোড়ের যানজট এড়াতে দার্জিলিংয়ে দিক থেকে মাটিগাড়ার দিকে যাতায়াতকারী যাত্রীবাহী এবং পণ্যবাহী ছোটো গাড়ি এই রাস্তাটি ব্যবহার করে। অথচ রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল হয়ে থাকলেও কেউ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। পাথরঘাটা এলাকা থেকে নির্বাচিত মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য মৌসুমি রাযঅধিকারী বলেন, আমাদের সব সময় ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে তৈরি একটা রাস্তা দুই বছরের মধ্যে কীভাবে নষ্ট হয়ে গেল, তা আমাদের মাথায় ঢুকছে না। বেশ কয়েকবার বিষযটি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিকে বলেছি। গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে কিছু পাথর, বালি ফেলে গর্তগুলি ভরাট করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই সেগুলি উঠে আবার রাস্তায় গর্ত হয়ে যাবে।