বিশ্বজিৎ সাহা, মাথাভাঙ্গা : পূর্ত বিভাগ ও পুরসভার টানাপোড়েনে মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের সামনের রাস্তাটি প্রায় তিন বছর ধরে বেহাল হয়ে পড়ে রয়েছে। এবড়োখেবড়ো রাস্তার কারণে গর্ভবতী মহিলা থেকে শুরু করে অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে ঢুকতে সমস্যায় পড়তে হয়। এছাড়া, পূর্ত বিভাগ ও মাথাভাঙ্গা পুরসভার বিরোধের জেরে হাসপাতালের গেটের সামনে কালভার্ট অর্ধেক তৈরি হয়ে পড়ে রয়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও রোগীর আত্মীয়রা জানান, অর্ধনির্মিত কালভার্টের পাশে একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সেখানে লোহার ব্যারিয়ার বসিয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। স্থানীয় ব্যবসায়ী বিজয় ঘোষ বলেন, কালভার্টের পাশে রাস্তার মাঝে গর্ত এবং রাস্তাটির বেহাল দশার কারণে প্রতিনিয়ত আমাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এলাকার বাসিন্দা শুভজিৎ দাস, প্রণয়কান্তি বিশ্বাস-রাও একই কথা জানান। তাঁরা অবিলম্বে কালভার্টটির কাজ শেষ করা ও বেহাল রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

মাথাভাঙ্গা পুরসভার চেয়ারম্যান লক্ষপতি প্রামাণিক বলেন, পূর্ত বিভাগের আপত্তিতেই রাস্তাটি বেহাল দশায় রয়েছে ও কালভার্টটি অসম্পূর্ণ আছে। প্রায় তিন বছর আগে পূর্ত বিভাগের মৌখিক অনুমতি নিয়ে হাসপাতালের সামনের রাস্তায় কালভার্ট তৈরি ও রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দেয় মাথাভাঙ্গা পুরসভা। ওই কাজ অর্ধেক হওয়ার পর পূর্ত বিভাগের তরফে লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়ে বলা হয়, তাদের রাস্তা পুরসভা কেন সংস্কার করছে? এর ফলে সংস্কার কাজ মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী এবং তাঁদের আত্মীয়দের সুবিধার কথা মাথায় রেখেই পুরসভা রাস্তা ও কালভার্ট তৈরির কাজ শুরু করেছিল। পূর্ত বিভাগ ওই কাজ মাঝপথে বন্ধ করে দিলেও গত তিন বছরে তা শেষ করতে পারেনি। এর ফলে প্রতিনিয়ত রোগী ও এলাকার বাসিন্দাদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তা নিয়ে রোগীকল্যাণ সমিতির সভাতেও আলোচনা হয়েছে।

এব্যাপারে পূর্ত বিভাগের মাথাভাঙ্গার অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার অরুণাভ দত্তের প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। তবে, ওই বিভাগের কোচবিহারের এগ্জিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার নিমাইচন্দ্র পাল বলেন, মাথাভাঙ্গা মহকুমা হাসপাতালের সামনের রাস্তা এবং কালভার্ট তৈরির জন্য টেন্ডার ও ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গিয়েছে। শীঘ্রই কাজ শুরু হবে।