এক বছরেই বেহাল প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা

325

অমিতকুমার রায়, হলদিবাড়ি : নির্মাণকাজ শেষের পর এক বছর না পেরোতেই প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনার রাস্তা বেহাল হয়ে পড়েছে। কয়েকদিনের বৃষ্টিতে হলদিবাড়ি ব্লকের উত্তর বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েছের অধীন কাশিয়াবাড়ি কালুরাম হাইস্কুলের কাছে কংক্রিটের এই রাস্তাটির পাশের মাটি ধসে মরণফাঁদ তৈরি হয়েছে। এর জেরে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। রাস্তার কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোচবিহার জেলাপরিষদের পূর্ত দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ আবদুল জলিল আহমেদ বলেন, পাঁচ বছর ধরে রাস্তাটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অর্থ বরাদ্দ আছে। ইঞ্জিনিয়ারকে বলে কাজের বরাতপ্রাপ্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে রাস্তাটি সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।

রাস্তাটি বেহাল হয়ে পড়ায় সেটির উপর দিয়ে চার চাকার গাড়ির যাতায়াত বন্ধ হয়ে পড়েছে। রাতবিরেতে সাইকেল বা বাইক নিয়ে রাস্তাটি দিয়ে চলাচল করা খুবই বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায় বলে বাসিন্দারা জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই রাস্তাটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়েছে। পিচের আস্তরণ উঠে গিয়ে ভিতরের অংশ বেরিয়ে পড়েছে। রাস্তার উপর থাকা কালভার্টটিও বেহাল হয়ে পড়েছে। রাস্তাটি বর্তমানে য়েরকম অবস্থায় আছে তাতে য়েকোনো সময় বড়োসড়ো বিপদ হতে পারে বলে বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন। এই সমস্যার জেরে কাশিয়াবাড়ি মাস্টারপাড়া, বড়ো মাঠ কলোনি, পয়ামারি, দুইশো বিঘা, নদীর পাড় সহ সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা খুবই সমস্যায় পড়েছেন। তাঁদের অভিযোগ, সমস্যা মেটাতে বহুবার স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়ে কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়ে কোনো লাভ হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা নারায়ণ রায়, উত্পল রায়, বাবাই চক্রবর্তী, শুভ বর্মন, অপু রায় প্রমুখ জানান, পুরোনো এই রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে ছিল। সেটি সংস্কারে বহু আবেদন নিবেদন করেও কোনো কাজ হচ্ছিল না। শেষপর্যন্ত গত বছর কোচবিহার জেলাপরিষদের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় রাস্তাটি সংস্কারের কাজ শুরু হয়। তবে ওই কাজ শুরু হতেই কাজের মানের পাশাপাশি এই কাজে ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নারায়ণবাবু বলেন, এজন্য বাসিন্দারা মিলে বেশ কয়েকবার রাস্তার কাজে বাধাও দেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার প্রায় জোর করেই রাস্তার কাজ শেষ করেন।

- Advertisement -

বিজেপির দক্ষিণ মণ্ডলের সহসভাপতি দীনবন্ধু রায় বলেন, তণমূল কংগ্রেসের নেতারা কাটমানি খেয়ে রাস্তার কাজ করাতেই এই সমস্যা হয়েছে। সমস্যার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে দেখা হবে বলে উত্তর বড় হলদিবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জুহিলিকা মজুমদার ও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নূপুর বর্মন আশ্বাস দিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দা তথা  জেলাপরিষদের খাদ্য দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ গোপাল রায় বলেন, সমস্যার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানাব।