অলিগলি এখন এঁদো ডোবা, সাহাপুরের বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ

268

রাজশ্রী প্রসাদ, পুরাতন মালদা : সাহাপুর ৩ নম্বর বিমল দাস কলোনির অলিগলিতে এখন পথচলা দায়। অবশ্য অলিগলি বলা ভুল হবে। কারণ একঝলক দেখলে মনে হবে এঁদো ডোবা। কোনও গলিতে হাঁটুজল, কোথাও জল গোড়ালি পর‌্যন্ত। আবার কোথাও পচা পাঁক জমে রাস্তাই গায়েব হয়ে গিয়েছে। শুধু যে বৃষ্টিতে এই হাল হয় তেমন নয়। প্রায় বছরভর এই যন্ত্রণা সইতে সইতে গা সওয়া হয়ে গিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান ওই এলাকারই বাসিন্দা। তিনিও বেশ ভালো রকম জানেন সমস্যার কথা। যদিও সমাধানের সুলুক দিতে পারেনি পঞ্চায়েত ।

পুরাতন মালদার সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৩ নম্বর বিমল দাস কলোনিতে সবচেয়ে খারাপ অবস্থা হরিমন্দির সংলগ্ন রাস্তার। রাস্তাটি ঢালাই হলেও তুলনামূলক অনেক নীচু। তার ওপর নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় গলিতে জল জমে থাকে হামেশাই। গলির কোথাও হাঁটুজল, তো কোথাও গোড়ালি জল। সেই জল ভেঙেই যাতায়াত করতে হয় বাসিন্দাদের। জমা জল থেকে যেমন দূষণ ছড়াচ্ছে, তেমনই বাড়ছে রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, বছরের পর বছর রাস্তার বেহাল দশা থাকলেও উদাসীন প্রশাসন।

- Advertisement -

যুধিষ্ঠির হালদার নামে এক গ্রামবাসী বলেন, একটু বৃষ্টিতেই রাস্তায় জল জমে যায়। বৃষ্টি বেশি হলে কোমর পর্যন্ত জল জমে যায়। নোংরা জলের মধ্যে দিয়ে যাতায়াত করতে হয় আমাদের। বাড়ি থেকে বেরোনো দায় হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যা হালদার নামে এক গৃহবধূ জানালেন, বাড়িতে বাচ্চা আছে। সবসময় আগলে রাখতে হয়। জলে ডুবে য়ে কোনও সময় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। সব সময় আতঙ্কে থাকতে হয়। বারবার বললেও পঞ্চায়েত থেকে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ওই পাড়াতেই বাস সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মন্দিরা মণ্ডলের। এবিষয়ে তিনি জানান, আগের পঞ্চায়েত বোর্ড রাস্তা তৈরির সময় পরিকল্পনা ছাড়াই করেছে। নিকাশি ব্যবস্থা না থাকায় জল নামার ব্যবস্থা নেই। তাই জল জমে আছে। এখানকার নিকাশি সমস্যা না মিটলে জল জমার সমস্যা মিটবে না। সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান উকিল মণ্ডল এই বিষয়ে জানান, ওই এলাকায় জল জমার সমস্যা রয়েছে। পরবর্তী নিকাশি ও রাস্তা তৈরির প্রকল্পে ওই এলাকায় কাজ করা হবে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবার এমন আশ্বাস মিললেও বছরের পর বছর ধরে সমস্যার সমাধান হয়নি।