টিনের চাল উড়ে গিয়েছে, বারান্দাতেই ক্লাস

382

ক্রান্তি: প্রায় আট বছর আগে ঝড়ে উড়ে গিয়েছে শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল। বারবার লিখিত আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে বারান্দাতেই বসছে রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উত্তর চ্যাংমারি শিশুশিক্ষাকেন্দ্র। শিশুশিক্ষাকেন্দ্রে পড়ুয়া রয়েছে ৭৫ জন। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা।

স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, নানা সমস্যায় জর্জরিত এই শিশুশিক্ষাকেন্দ্রটি। বহু বছর আগে উত্তর চ্যাংমারির মতো প্রান্তিক এলাকায় শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি নির্মাণ করা হলেও এরপরে কেন্দ্রটির কোনো সংস্কার করা হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ে দেয়ালের পলেস্তরা খসে গিয়েছে। শ্রেণিকক্ষের টিন ফুটো হয়ে জল পড়ত। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের থেকে বিষয়টি লিখিত আকারে ঊর্ধ্বতন মহলে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি। এর মধ্যে বছর আটেক আগে এক বিধ্বংসী ঝড়ে স্কুলের শ্রেণিকক্ষের প্রায় সবকটি টিনের চাল উড়ে গিয়েছে। তারপর আর কোনো মেরামতির কাজ হয়নি। বর্ষার দিনে বারান্দার মেঝেতে আর শীতের দিনে খোলা আকাশের নীচে এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ক্লাস করান  দুই দিদিমণি। সবথেকে বড়ো কথা, শিশুশিক্ষাকেন্দ্রটির পাশেই বাড়ি রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের বর্তমান উপপ্রধানের। এলাকার বাসিন্দা অনিল রায় বলেন, এ এক চরম লজ্জা আমাদের। শ্রেণিকক্ষের টিনের চাল আট বছর আগে উড়ে গিয়েছে অথচ এতদিন পর্যন্ত সেটি সংস্কার করে উঠতে পারল না। সব থেকে আশ্চর্যের বিষয়, স্থানীয় পঞ্চায়ে সদস্যা তথা রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বাড়ি স্কুল থেকে কয়েক হাত দূরে। বিষয়টি নিয়ে তাঁর কোনো হেলদোল যে নেই সেটা বোঝাই যাচ্ছে। স্কুলের শিক্ষিকা শিখা বসু বলেন, আট বছর ধরে এরকম অবস্থায় আমরা রয়েছি। এরমধ্যে রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েতের আগের দুই প্রধান সহ বর্তমান প্রধানকেও লিখিত আকারে জানিয়েছি। পাশাপাশি এলাকার জনপ্রতিনিধিদেরও বহুবার জানানো সত্ত্বেও হাল ফেরেনি। বৃষ্টির দিনে বাচ্চারা বারান্দাতেও বসতে পারে না। প্রশাসনের ভূমিকায় আমরা সত্যিই হতাশ। ক্রান্তি ব্লক তৃণমূল যুবর সভাপতি তথা রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েছের সদস্য মেহবুব আলম বলেন, বিষয়টি সত্যিই হতাশাজনক। পঞ্চায়েতের তরফ থেকে হলেও অনেক আগেই শিশুশিক্ষাকেন্দ্রটির সংস্কার করা উচিত ছিল। আমরা যদি পড়ুয়াদের শিক্ষার পরিবেশই দিতে না পারি তবে জনপ্রতিনিধি হিসেবে সেটি আমাদের ব্যর্থতা। উপপ্রধান ঝর্ণা রায় বলেন, টেন্ডার প্রক্রিয়ার কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গিয়েছে। বর্তমান পঞ্চায়ে বোর্ডই তদবির করে বিদ্যালয়ে সমস্যা মেটাতে অগ্রণী হয়েছে। খুব দ্রুত স্কুলঘরের কাজ শুরু হবে।

- Advertisement -