দেবদর্শন চন্দ, কোচবিহার : কোচবিহার শহর লাগোয়া শালবাগান প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রটি অনেকদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। কয়েক বছর আগে বন দপ্তরের তরফে শালবাগানে একটি শিশু উদ্যানও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বহুদিন সঠিকভাবে সংস্কার এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উদ্যানটি আগাছা এবং জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে। পর্যটনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত শালবাগান এবং সংলগ্ন শিশু উদ্যানটির বেহাল দশা নিয়ে শহরবাসীর ক্ষোভ বাড়ছে।

পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত শালবাগানকে সাজিয়ে তুলতে প্রায় বছরখানেক আগে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের তরফে এক কোটি পাঁচ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। কিন্তু প্রায় বছরখানেক হয়ে গেলেও শালবাগান একই অবস্থায় রয়েছে। ডিএফও বিমান বিশ্বাস বলেন, প্রোজেক্ট জমা দেওয়া হলেও এখনও অনুদান না মেলায় শালবাগানের সংস্কারের কাজ শুরু করা যায়নি। অনুদান পেলে শীঘ্রই কাজ শুরু করা হবে। উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষ বলেন, আমরা টাকা বরাদ্দ করলেও শালবাগান সংস্কারের দায়িত্ব বন দপ্তরকে দেওয়া হয়েছে। তারাই ওই কাজ করবে।

শীত দোরগোড়ায়। প্রকৃতির মাঝে শীতের আমেজ উপভোগ করতে শালবাগানে আসেন পিকনিকপ্রেমীরা। শান্ত, নির্জন পরিবেশে অবস্থিত হওয়ায় সারাবছরই শালবাগানে কমবেশি পর্যটকের ভিড় দেখা যায়। কিন্তু বর্তমানে বেহাল দশার কারণে পিকনিক স্পট হিসেবেও শালবাগানের জনপ্রিয়তা কমে যাচ্ছে। বাগান এবং শিশু উদ্যানটির বেহাল দশার কারণে বর্তমানে সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা আগের চাইতে অনেক কমে গিয়েছে। তাই পর্যটক ও পিকনিকপ্রেমীদের কাছে শালবাগানের গুরুত্ব বাড়াতে বাগানটি সংস্কার ও সৌন্দর্যায়ন করার দাবি উঠেছে। কোচবিহারের শালবাগান প্রায় ১০০ বিঘারও বেশি জায়গা নিয়ে রয়েছে। বছরের একটা সময় পর্যটকদের ভিড় দেখা গেলেও অন্য সময় এখানে পর্যটকরা সেভাবে আসেন না। সেসময় সমাজবিরোধীদের আড্ডা, মদের আসর বসে বলে অভিযোগও রয়েছে। নজরদারির অভাবে প্রায় সারাবছরই বাগানে মদের বোতল, খাবারের অবশিষ্টাংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়।

শালবাগান সংলগ্ন শিশু উদ্যানটিতে একসময় শহর এবং আশপাশের এলাকার মানুষ ভিড় করতেন। শান্ত ও নির্জন পরিবেশে ছুটির দিনে বিকেলবেলা শিশু উদ্যানে কচিকাঁচা এবং অভিভাবকদের ভিড় জমাতে দেখা যেত। ২০১৫-১৬ আর্থিক বর্ষে বন দপ্তরের উদ্যান ও কানন শাখা শালবাগানের সৌন্দর্যায়নের জন্য বিভিন্ন কাজ করেছিল। সেসময় শিশুদের খেলাধুলোর সরঞ্জাম সহ বিভিন্ন জিনিস ওই শিশু উদ্যানে রাখা হলেও কিছুদিন য়েতে না যেতেই তা বেহাল হয়ে পড়ে। বছরখানেক ধরে শিশু উদ্যানটি বন্ধ অবস্থায় রয়েছে। শুধু তাই নয়, উদ্যানটি আগাছায় ভরে গিয়েছে। সেখানকার দোলনা, স্লাইড, বসার জায়গা সহ বিভিন্ন জিনিসে এখন আগাছা জন্মেছে। ফলে উদ্যানে বিভিন্ন খেলার সরঞ্জাম থাকা সত্ত্বেও সেখানে খেলার সুযোগ পাচ্ছে না শিশুরা।