রাজ্য সড়কের হালে ক্ষোভ বাড়ছে রতুয়ায়

শেখ পান্না, রতুয়া : পুকুর ভাবলে ভুল হবে। রতুয়া-১ ব্লকের এটাই রাজ্য সড়ক। সংস্কারের অভাবে রতুয়ার ব্লক মোড়ে রাস্তার মধ্যে বিশাল পুকুর তৈরি হয়ে গিয়েছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ভয় বুকে নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এলাকার মানুষজনকে। তাঁদের বক্তব্য, বেহাল রাস্তায় ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই রয়েছে। কিন্তু কারও ভ্রূক্ষেপ নেই। প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তায় যে কোনও মুহূর্তে বড়সড়ো দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। এনিয়ে সরব হয়েছে সিপিএম। সমস্যা যে রয়েছে, তা মেনে নিচ্ছেন এলাকার তৃণমূলের জেলা পরিষদের সদস্য হুমাযুন কবির। এপ্রসঙ্গে রতুয়া ১-এর বিডিও সারওয়ার আলি জানান, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি। চিঠি করে পিডব্লিউডি দপ্তরে জানানো হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি রাস্তা মেরামতির কাজ শুরু করা হবে। পরবর্তীতে খারাপ রাস্তাগুলির স্থায়ী সংস্কার করা হবে। মানুষের চলাচলের ক্ষেত্রে যেন কোনও সমস্যা না হয়, তার জন্য এখন আপাতত গ্রাম পঞ্চায়েতের মাধ্যমে অস্থায়ীভাবে মেরামত করার ব্যবস্থা করছি।

রতুয়া-১ ব্লকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ব্লক মোড়। এখান থেকে মালদা, হরিশ্চন্দ্রপুর ও চাঁচল, মানিকচকের রাস্তা বেরিয়েছে। এই মোড় সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে বাসস্ট্যান্ড, থানা, বিডিও অফিস, হাসপাতাল সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই মোড় দিয়ে যাতায়াত করেন। অসংখ্য যানবাহনও এই মোড় দিয়ে চলাচল করে। কিন্তু বেহাল রাস্তার জন্য এই মুহূর্তে প্রত্যেকের অসুবিধে হচ্ছে। বিশেষত যানবাহনের চালকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। তাঁরা জানাচ্ছেন, রতুয়া-১ ব্লকের অনেক জায়গাতেই রাস্তার হাল খুব খারাপ। বিশেষ করে রতুয়া ব্লক মোড় ও বাহারাল মোড়ের পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে রাস্তার অবস্থা। গর্তে গাড়ি নামালে সামনের দিকের অংশ রাস্তায় ধাক্কা খাচ্ছে। গর্ত থেকে ওঠার সময় পিছনের অংশে সেই অবস্থা। যদি কেউ বাঁকা করে গাড়ি গর্তে নামানোর চেষ্টা করেন, তবে গাড়ি উলটে যাওয়া অনিবার্য। দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পেরোতে হচ্ছে। প্রশাসন যদি দ্রুত এই রাস্তা সংস্কার না করে, তবে যে কোনও মুহূর্তে বড়সড়ো দুর্ঘটনা ঘটবে। তাতে জীবনহানি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে তার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে। রাজ্য সড়কের এই অবস্থার জন্য বিরোধী ও নিত্যযাত্রীরা দায়ী করেছে বর্তমান রাজ্য সরকারকে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা ও নিত্যযাত্রী সুধীর সরকার, অনিলচন্দ্র মিশ্র জানান, প্রতিদিন রতুয়া, বাহারাল দিয়ে কয়েক হাজার পণ্যবোঝাই লরি ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল করে। রাস্তা বেহাল থাকায় সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় চালকদের। রাস্তার যেখানে সেখানে হয়েছে ছোট, বড় গর্ত। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনা। প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। রাস্তা বেহাল থাকায় প্রতিদিন যানজট বাড়ছে রতুয়া বাসস্ট্যান্ডে। রতুয়া দিয়ে চাঁচল, ভালুকা, হরিশ্চন্দ্রপুর ও পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহারেও মানুষ যাতায়াত করে। অথচ প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। এই রাস্তার ওপর দিয়ে একাধিক সরকারি আধিকারিক, আমলাদের গাড়ি প্রতিদিন যাতায়াত করছে। তবুও রাস্তার মেরামতির কাজ হচ্ছে না। যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটবে। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে ব্লক প্রশাসন বা গ্রাম পঞ্চায়েত রাস্তার মেরামতি করুক। অভিজিৎ পাল নামে এক বাসচালক জানান, সরকারকে রীতিমতো ট্যাক্স দিয়ে আমরা বাস চালাচ্ছি। অথচ সরকার রাস্তা মেরামতির কোনও পদক্ষেপ করছে না। রাস্তায় এত বড় গর্ত হয়েছে যে, আমাদের সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আমরা চাই, অতি শীঘ্রই রাস্তা মেরামতি হোক।

রতুয়া-১ ব্লক সিপিএম লোকাল কমিটির সম্পাদক জহুর আলম জানান, বামফ্রন্ট জমানায় পশ্চিমবঙ্গ মাছ চাষে এগিয়ে ছিল। কিন্তু বর্তমান তৃণমূল সরকার রাস্তার মধ্যেই মনে হয় মাছ চাষ করার পরিকল্পনা করেছে। রতুয়া, বাহারাল, বালুপুর সহ বিভিন্ন রাস্তা খানাখন্দে ভর্তি। মাছ চাষ করার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে রাস্তায়। অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার করা দরকার। সাধারণ মানুষ বেহাল রাস্তার জন্য প্রতিনিয়ত সমস্যার মুখে পড়ছেন। রাস্তা দেখলে মনে হবে, মুখ্যমন্ত্রীর উন্নয়ন রাস্তায় মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বিগত দিনে আমরা কয়েকবার রতুয়া-১ ব্লক প্রশাসনকে স্মারকলিপি দিয়ে রাস্তা মেরামতির কথা জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ এখনও কিছু হয়নি। জেলা পরিষদ সদস্য হুমায়ুন কবির বলেন, রাস্তা খারাপের বিষয়টি জেলা শাসক ও বিডিওকে জানিয়েছি। তাড়াতাড়ি মেরামতির কাজ শুরু হবে। পরে জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলে স্থায়ীভাবে সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করব।