ফুটপাথ ভেঙে চলাচল বন্ধ, তিস্তা সেতুর হাল বিপজ্জনক

631

ময়নাগুড়ি : বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে তিস্তা সেতু। ইতিমধ্যে সেতুর ফুটপাথের এক অংশ পুরোপুরি ভেঙে গিয়েছে। মূল সেতুতে বিভিন্ন জায়গায় পাকা অংশ ভেঙে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। উত্তর-পূর্ব ভারতের সঙ্গে দেশের যোগাযোগের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই সেতুর দীর্ঘদিন ধরেই সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ হয় না বলে অভিযোগ। বেহাল এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও অন্যান্য গাড়ি যাতায়াত করে। যেকোনো সময় সেতুতে বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা উড়িয়ে দিতে পারছেন না কেউই।

সম্প্রতি প্রশাসনের এক সমীক্ষায জানা গিয়েছে, এই পথ দিয়ে প্রতিদিন অন্তত পঞ্চাশ হাজার যানবাহন চলাচল করে। যার মধ্যে বড়ো সংখ্যায় রয়েছে ভারী পণ্যবাহী গাড়ি। বর্তমানে এই সেতুতে ময়নাগুড়ির দিক থেকে জলপাইগুড়ি যাওয়ার পথে বাঁ দিকের ফুটপাথে বড়ো ধরনের ভাঙন ধরেছে। ইতিমধ্যে লোহার রড ও সিমেন্টের অংশ পুরোপুরি ভেঙে গিয়ে গর্ত তৈরি হয়েছে। ওই অংশে চলাচলের সময় সামান্য অসাবধান হলে সেতু থেকে নদীতে পড়ে যেতে পারেন কেউ। বর্তমানে ওই দিকের ফুটপাথের হাল এতটাই খারাপ যে, সেখান দিয়ে যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ।

- Advertisement -

ফুটপাথের ওই অংশ ছাড়াও এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সেতুটির অনেক অংশে সিমেন্টের অংশ ভেঙে গর্ত তৈরি হয়েছে। কোথাও কোথাও সেতুর মাঝে বিপজ্জনকভাবে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। তার উপর দিয়ে বিপজ্জনকভাবে গাড়িগুলি যাতায়াত করছে। সবচেয়ে বিপজ্জনকভাবে যাতায়াত করছে দুচাকার গাড়িগুলি। লোহার রডে লেগে নিযন্ত্রণ হারিয়ে মাঝেমধ্যেই ছোটোখাটো দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন দুচাকা গাড়ির আরোহীরা। বড়ো দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকছে প্রতি মুহূর্তে।

তিস্তা সেতু দিয়ে প্রতিনিয়ত যাতায়াতকারী যাত্রী তন্ময় চক্রবর্তী বলেন, একেবারেই বেহাল অবস্থায় রয়েছে তিস্তা সেতু। এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন যত যানবাহন চলাচল করে তাতে সেতুটির সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরীক্ষা করা দরকার। সুরজিত্ ধর নামে আরেক যাত্রী বলেন, সেতুতে যে আলোগুলি লাগানো রয়েছে প্রায় এক দশক ধরে জ্বলে না। ফলে রাতের বেলায় বড়ো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা আরও বেশি। জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের প্রোজেক্ট ডিরেক্টর প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, সেতুটির বাঁ দিকের ফুটপাথের এক অংশ ভেঙে যাওয়ার খবর পাওয়ামাত্রই ওই অংশ দিয়ে চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। আপাতত জায়গাটি প্রোটেকশন দিয়ে রাখা হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি ওখানে কাজ করা যাবে না। জায়গাটির অবস্থা ভালোভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।