প্রাণপ্রতিম পাল, কোচবিহার : বছরখানেক আগে কোচবিহার শহরের ১৯ নম্বর ওয়ার্ডে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি অডিটোরিয়ামের উদ্বোধন করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী ওই অডিটোরিয়ামটির নাম রেখেছিলেন উৎসব। অডিটোরিয়ামে যাওয়ার রাস্তার মাঝে বাগান ও ফোয়ারা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই বাগান ও ফোয়ারা বেহাল দশায় রয়েছে। একবছর আগেই তৈরি হওয়া অডিটোরিয়ামের বাগান ও ফোয়ারার এই দশায় ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ। তাঁরা ওই বাগান ও ফোয়ারার সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। এবিষয়ে কোচবিহারের অতিরিক্ত জেলাশাসক (সাধারণ) অভিজিৎ ভট্টাচার্য বলেন, উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তর অডিটোরিয়াম, রাস্তা ও বাগান তৈরি করেছে। বাগান ও ফোয়ারার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

কোচবিহার শহরের প্রাণকেন্দ্র সাগরদিঘির পশ্চিমপাড়ে রয়েছে জেলাশাসকের দপ্তর। ওই দপ্তর এবং জেলা তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মাঝে পেভার্স ব্লকের দুটি রাস্তা সোজা উৎসব অডিটোরিয়ামে চলে গিয়েছে। ওই রাস্তা দুটির মাঝেই রয়েছে বাগান ও ফোয়ারা। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্যের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা যখন এসেছিলেন, তখন ওই বাগানে বেশকিছু ফুলগাছ ও বাহারি গাছের টব আনা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে বাগানটি আগাছায় ভরে গিয়েছে। ওই বাগানটির পাশাপাশি উৎসব অডিটোরিয়ামের সামনের বাগানেরও এখন বেহাল অবস্থা। ফোয়ারাটি আদৌ চালু করা হয়েছিল কিনা, তাও স্থানীয়দের মনে নেই।

কোচবিহারের বাসিন্দা তথা আইনজীবী শিবেন্দ্রনাথ রায় বলেন, লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে অডিটোরিয়াম, অডিটোরিয়ামে যাওয়ার রাস্তা, বাগান ও ফোয়ারা তৈরি করা হয়েছে। অথচ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা নষ্ট হতে বসেছে। জেলাশাসক সহ প্রশাসনের আধিকারিকদের চোখের সামনেই বাগানটির এই দশা হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে অডিটোরিয়ামটির উদ্বোধন করেছিলেন। সেটির এই হাল কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। উৎসব অডিটোরিয়ামের সামনের বাগানটি সংস্কারের পাশাপাশি ফোয়ারাটি দ্রুত চালু করা দরকার।