রাঙ্গালিবাজনা : পাইপ ফেটে যাওয়ায় জল পড়ছে না কলে। ফলে মিলছে না পানীয় জল। অথচ সেই পাইপ ফাটা জলেই টইটুম্বুর হয়ে গিয়েছে পুকুর। ঘটনাটি মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের খয়েবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতে মাদারিহাট-বীরপাড়া ব্লকের খয়েবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের পানীয় জলের পরিসেবা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ দীর্ঘদিনের। সেই ক্ষোভ নিরসনে চার কোটি টাকা ব্যয়ে জলপ্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্প নির্মাণের কাজ শুরু হয় ২০১২ সালে। ২০১৫ সালের শেষের দিকে আলিপুরদুয়ার থেকে রিমোট কনট্রোলের বোতাম টিপে প্রকল্পের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। জলপ্রকল্পটির জলাধারের সাড়ে চার লক্ষ লিটার জলধারণ ক্ষমতা রয়েছে। ওই প্রকল্প মোতাবেক, ৬২ হাজার মিটার পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার গ্রামবাসীর কাছে পানীয় জল সরবরাহ করার কথা। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রকল্পটি জন্মলগ্ন থেকেই ত্রুটিপূর্ণ। সারাবছরই পাইপলাইন মেরামতের জন্য পিএইচই কর্মীদের খোঁড়াখুঁড়ি করতে দেখা যায়। এক জায়গায় মেরামত করা হলে আর এক জায়গায় ফুটো হয় পাইপ।

রাঙ্গালিবাজনা চৌপথির দোকানদার তথা ইসলামাবাদ গ্রামের সূত্রধরপাড়ার বাসিন্দা বুদ্ধদেব সূত্রধর বলেন, রাঙ্গালিবাজনা চৌপথির কাছে দুতিন জায়গায় ফুটো হয়ে গিয়েছে পাইপলাইন। হাজার হাজার লিটার পানীয় জল অপচয় হচ্ছে প্রতিদিনই। স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন এলাকার ট্যাপকলে জল মিলছে না। ইসলামাবাদ গ্রামের বাসিন্দা জিয়ারুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকায় মাটির নীচে সম্ভবত পাইপলাইন ফেটে গিয়েছে। তাই যে পুকুরের পাশ দিয়ে পাইপলাইন গিয়েছে, সেই পুকুরটি জলে ভরাট হয়ে রয়েছে। পশ্চিম খয়েরবাড়ির কলোনিপাড়ার বাসিন্দা অমল রায় বলেন, নানা জায়গায় পাইপলাইন ফেটে যাওয়ায় আমাদের এলাকায় জল মিলছে না। দক্ষিণ খয়েরবাড়ির কাজিপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত চার বছরে তিন-চারমাস ঠিকঠাক জল মিলেছিল ট্যাপে। বর্তমানে কখনও সরু হয়ে জল পড়ছে। অনেকসময় জলই পড়ছে না। মধ্য ছেকামারি গ্রামের বাসিন্দা লক্ষ্মণ ছেত্রী বলেন, আমরা ট্যাপে জল পাই না। খয়েবাড়ির পানীয় জলের প্রকল্পটি সরকারি টাকার অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। এলাকার অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সামনেও একটি ট্যাপ রয়েছে। কিন্তু সেটিতে জল মেলে না। আমাদের বাড়ির সামনে ট্যাপ বসানোর জন্য পাইপলাইন পোঁতা হলেও আজ পর্যন্ত ট্যাপই বসানো হয়নি।

এ প্রসঙ্গে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের আলিপুরদুয়ারের নির্বাহী বাস্তুকার সুব্রত ধর বলেন, পাইপলাইন ফাটার খবর পেলেই আমাদের কর্মীরা যান। তাই  ত্রুটির খবর পেলে সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দপ্তরে জানাতে গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কিন্তু গ্রাম পঞ্চায়েতের তরফে সহযোগিতা মিলছে না। দ্রুত পাইপলাইন মেরামতের ব্যবস্থা করা হবে। খয়েরবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান জয়দেব দাস বলেন, স্থানীয় বাসিন্দাদের উচিত এ ধরনের খবর আমাকে জানানো। কারণ কোথায় কোন পাইপ ফেটে গিয়েছে, আমার পক্ষে সবটা জানা সম্ভব নয়।