সারানোর দায় কার, টানাপোড়েনে রাস্তা এখন মরণফাঁদ

331

দেবদুলাল সাহা, হরিশ্চন্দ্রপুর : রাস্তা তুমি কার? পূর্তদপ্তর না প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার! শুধু এলাকাবাসীই নয়, এনিয়ে ধোঁযাশায় রয়েছে প্রশাসনও। এই টানাপোড়েনের জেরে এক দশকের বেশি সময় ধরে সংস্কারের অভাবে রাস্তা এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।

হরিশ্চন্দ্রপুরের গোপাল কেডিয়ার বাড়ি থেকে গোলামোড় পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ রাস্তার কঙ্কালসার অবস্থা। দীর্ঘদিন ধরে ওই রাস্তার বেহাল দশায় ক্ষুব্ধ হরিশ্চন্দ্রপুরের মানুষ। গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তার ধারে একটি মডেল স্কুল, আইটিআই, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতাল, ভূমি ও ভূমিসংস্কার দপ্তর, পিএইচই দপ্তর রয়েছে। অথচ ১০-১২ বছর ধরে ওই রাস্তাটি সংস্কারে কেউ উদ্যোগ নেয়নি। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে হরিশ্চন্দ্রপুর, দৌলতপুর, মশালদহ, ভালুকা গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের। রাস্তার পিচের চাদর উঠে গিয়ে খানাখন্দে ভরে গিয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই রাস্তার ওপর জল দাঁড়িয়ে যায়। ওই রাস্তা দিয়ে এখন ছোটো-বড়ো গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছে। সাইকেল বা মোটরবাইকে ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হতে হচ্ছে আরোহীদের। রাস্তাটির রক্ষণাবেক্ষণ কার দায়িত্বে রয়েছে, তা নিয়ে ধোঁযাশায় স্থানীয় পঞ্চায়েত, ব্লক প্রশাসন থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। যদিও ব্লক প্রশাসন রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য পূর্ত ও জেলাপরিষদকে লিখিতভাবে জানিয়েছে। বিষয়টি জানানো হয়েছে  উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদকেও। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি বলে অভিযোগ।

- Advertisement -

দীর্ঘদিন ধরে হরিশ্চন্দ্রপুরের ওই বেহাল রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিজবা খাতুন। তিনি বলেন, রাস্তাটি পূর্তদপ্তর বা জেলাপরিষদ যারই হোক, দ্রুত সংস্কার করা দরকার। পঞ্চায়েতের পক্ষে তো সাত কিমি দীর্ঘ পাকা রাস্তার কাজ করা সম্ভব নয়। রাস্তাটি নিয়ে জেলাপরিষদের সভাধিপতিকে বলা হয়েছে। ওই রাস্তাটি ঠিক হলে হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ও ২ ব্লকের আট থেকে দশটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কয়েক লক্ষ মানুষ উপকৃত হবেন। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও অনির্বাণ বসু জানান, হরিশ্চন্দ্রপুরের ওই রাস্তাটির রক্ষণাবেক্ষণ কে করবেন, তা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। কেউ কেউ রাস্তাটি বর্তমানে রাজ্য পূর্তদপ্তরের অধীনে রয়েছে বলে দাবি করলেও অনেকে আবার প্রধানমন্ত্রী গ্রামীণ সড়ক যোজনার অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করছেন। তবে আমি রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের জন্য পূর্তদপ্তর, জেলাপরিষদ ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন পর্ষদকেও লিখিতভাবে জানিয়েছি। যে কোনো দপ্তর থেকে অর্থ বরাদ্দ হলেই সমস্যার সমাধান হবে। রাস্তাটি খুবই খারাপ অবস্থায় রয়েছে। টাকা বরাদ্দ  হলেই  সংস্কারের কাজ শুরু হবে।