সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : রাস্তায় নয়, বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার পর গর্তে পড়ে পাতি ভাঙছে বাসের। বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে হাঁটাচলা করতে গিয়ে হোঁচট খেতে হচ্ছে যাত্রীদেরও। বালুরঘাটে সরকারি বাসস্ট্যান্ডের এমন বেহাল দশায় বাসের কর্মচারী থেকে শুরু করে যাত্রীদের সকলেই ক্ষুব্ধ। সমস্যা মেটাতে উদ্যোগী হয়েছে এনবিএসটিসি কর্তৃপক্ষ।

বালুরঘাট শহরের নারায়ণপুরে গড়ে উঠেছে এনবিএসটিসি-র বাসস্ট্যান্ড। এই বাসস্ট্যান্ড হয়ে প্রতিদিন হাজারে হাজারে মানুষ যাতায়াত করেন। বছর কয়েক আগে সরকারি উদ্যোগে বাসস্ট্যান্ড চত্বরে একটি ভবন তৈরি হয়েছে। এই ভবনে টিকিট ঘর, যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা, অফিস ইত্যাদি রয়েছে। কিন্তু বাসস্ট্যান্ড চত্বর একেবারে বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। যেখান থেকে যাত্রীদের ওঠানামা করতে হয়, সেই চত্বর জুড়ে তৈরি হয়েছে বড়ো বড়ো গর্ত। এমন খানাখন্দে ভরা গর্তগুলিতে নেমে গিয়ে ঝাঁকুনিতে বাসগুলির ক্ষতি হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষার এই মরশুমে সামান্য বৃষ্টিতেই গোটা বাসট্যান্ড চত্বর জুড়ে জল জমে যাচ্ছে। জলকাদার মধ্যেই চলাচল করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এ নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে যাত্রীদের মধ্যে। প্রতীক্ষালয়ের অবস্থাও তথৈবচ। সেখানে পানীয় জলের যেমন ব্যবস্থা নেই, তেমনই এক পাশে ডাঁই করে রাখা রয়েছে জঞ্জাল। বিশ্রামাগারটিও নিয়মিত পরিষ্কার হয় না। প্রতীক্ষালয়ের ফ্যানগুলি এত আস্তে ঘোরে যে তা না থাকারই সমান। অবিলম্বে কর্তৃপক্ষ এই সমস্যাগুলো মেটানোর উদ্যোগ নিক বলে দাবি যাত্রীদের।

শ্যামলী রায়, অনিমা বর্মনদের মতো যাত্রীদের অভিযোগ, বাসের জন্য ঘণ্টা দুয়ের ধরে অপেক্ষা করতে হয়। কিন্তু প্রতীক্ষালয়ে জলের ব্যবস্থা নেই। এই গরমে ফ্যানও প্রায় ঘোরে না বললেই চলে। এসব বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসকর্মী বলেন, সারা রাস্তা জুড়ে কোথাও কোনো ঝাঁকুনি হয় না। কিন্তু বাসস্ট্যান্ডে ঢোকার পরেই বড়ো বড়ো গর্তে আটকে গিয়ে বাসের পাতি ভেঙে যাচ্ছে। বারবার কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও এই বেহাল অবস্থার পরিবর্তন করা যায়নি। এনবিএসটিসির বালুরঘাট ডিপো ইন-চার্জ গৌতমকুমার ধর বলেন, বালুরঘাট বাসস্ট্যান্ড চত্বরের খানাখন্দগুলি ভরাট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।