বাগডোগরা : পরিকাঠামো বাড়িয়ে নবরূপে সাজছে বাগডোগরা বিমানবন্দর। এবার বিমানবন্দরে একসঙ্গে ১৬টি বিমান দাঁড়াতে পারবে। এর জন্য ৬১ হাজার বর্গমিটারের বেশি অ্যাপ্রোন এরিয়া বাড়ানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে বিমানবন্দর সম্প্রসারণের জন্য এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়াকে ১১০ একর জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাজ্য সরকার। নয়া সাজে বিমানবন্দরের নকশাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ করে পরিকাঠামো নির্মাণ করতে প্রাথমিকভাবে ৫০০ কোটি টাকা খরচ ধরা হয়েছে। তবে তা চূড়ান্ত হিসেব নয। বাগডোগরা বিমানবন্দরের ডিরেক্টর সুব্রহ্মণি পি বলেন, আমরা নয়া পরিকাঠামোর প্রাথমিক নকশা তৈরি করেছি। পরিকাঠামো নির্মাণের জন্য প্রস্তুত আছি। জমি পেলেই কাজ শুরু করে দেব। অর্থের কোনো অভাব হবে না।

দীর্ঘদিন ধরে জমিজটে আটকে ছিল বিমানবন্দরের সম্প্রসারণের কাজ। বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রস্তাবিত বিমানবন্দরের টার্মিনাল বিল্ডিং হবে ৩৮ হাজার বর্গমিটার এলাকা নিয়ে অ্যাপ্রোন এরিয়া হবে ৬১,৬২৩.৯০ বর্গমিটার। গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট এরিয়া হবে ৬,২১৩.৫২ বর্গমিটার। শুধু সার্ভিস এরিয়া হবে ১১,৪১৪.২৭ বর্গমিটার। অ্যাপ্রোন ফুয়েল সার্ভিস এরিয়া হবে ৬,২৯৬.৯১ বর্গমিটার। পার্কিং গ্রাউন্ড করা হচ্ছে ৩২,৩৮৭.৬৩ বর্গমিটার এলাকাজুড়ে। এয়ারপোর্টের পরিকাঠামো হবে ১,৩২,২৩৫ বর্গমিটার।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অ্যাপ্রোন এরিয়া এতটাই বাড়িয়ে করা হচ্ছে যে সেখানে একসঙ্গে ১৬টি বিমান দাঁড়াতে পারবে। বর্তমানে অ্যাপ্রোন এরিয়া যা রয়েছে তাতে এখন মাত্র একসঙ্গে পাঁচটি বিমান দাঁড়াতে পারে। রোজ ৩৭টি বিমান ওঠানামা করে। সম্প্রসারণের কাজ শেষ হলে যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য অনেকটাই বাড়বে বলেই বিমানবন্দর কর্তপক্ষের আশা।

গত ২৮ ডিসেম্বর রাজ্যের পর্যটনমন্ত্রী গৌতম দেব আশ্বাস দিয়েছিলেন, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ১১০ একর জমি বিমানবন্দর কর্তপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া শুরু করে দিয়েছে রাজ্য সরকার। বিমানবন্দরের ডিরেক্টর বলেন, জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি রাজ্য সরকারের। প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। সম্প্রসারণের জন্য একটি চা বাগানের জমি, সামরিক বিভাগের জমি এবং রায়তি জমি চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জমি অধিগ্রহণের জন্য আগেই ২৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করে রাখা রয়েছে। এই অর্থ মঞ্জুর একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত বলে মনে করছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। ভারতের অন্য কোনো রাজ্যে বিমানবন্দরের আধুনিকীকরণের জন্য জমি সেই রাজ্যের সরকার অধিগ্রহণ করে দেয়, তার পরে এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (এএআই) পরিকাঠামো গড়ে তোলে। বাগডোগরায় জমি অধিগ্রহণের জন্য দীর্ঘদিন ধরে জমিজট রয়েছে। এই রাজ্যে অনিচ্ছুক জমির মালিকের কাছে জমি নেওয়া যাবে না আইন বহাল থাকায়, জমি অধিগ্রহণে জট বেঁধে যায়। এদিকে, বাগডোগরা বিমানবন্দরে উড়ান বাড়ার পাশাপাশি যাত্রীদের দুর্ভোগ ক্রমেই বাড়ছে।  বাধ্য হয়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ২৫ কোটি টাকা মঞ্জুর করে রেখেছে। বিমানবন্দরের ডিরেক্টর জানান, জমি পেলেই ক্ষতিপূরণের মূল্য মিটিয়ে দেওয়া হবে।

তথ্য- খোকন সাহা