কলকাতাকে পথ দেখাচ্ছে শিলিগুড়ির বাঘা যতীন পার্ক

143

পারমিতা রায়, শিলিগুড়ি : শহরের ফুটপাথ জবরদখল বন্ধ করতে কলকাতায় ঠেলাগাড়িতে ব্যবসা করার কথা ভেবেছিল রাজ্য সরকার। কিন্তু বিভিন্ন মহলে প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক জাঁতাকলে সেই প্রস্তাব ভাবনাচিন্তার স্তরেই থেকে গিয়েছে। কিন্তু কলকাতা যা করতে পারেনি, তা করে দেখাচ্ছে শিলিগুড়ি শহর। বাঘা যতীন পার্ককে কেন্দ্র করে প্রতিদিন সন্ধ্যায় বহু ব্যবসায়ী তাঁদের ঠেলাগাড়ি নিয়ে ব্যবসা করতে আসছেন। রাতে ব্যবসার পর এলাকা পরিষ্কার করে ফিরে যাচ্ছেন তাঁরা। ফলে একদিকে যেমন ব্যবসায়ীদের সুবিধা হচ্ছে, তেমনই সকালে যখন ব্যবসা হয় না তখন ফুটপাথ ফাঁকা থাকায় যানজটের সমস্যাও হচ্ছে না। প্রতিদিন এই ধরনের ঠেলার সংখ্যা বাড়ছে। অনেকে আবার পার্ক থেকে একটু সরে এসে ছোট রেস্তোরাঁ বা ক্যাফে খুলেও ব্যবসা করছেন।

শিলিগুড়ি শহরের বাসিন্দাদের কাছে আড্ডা দেওয়ার অন্যতম এলাকা হল বাঘা যতীন পার্ক। এই পার্ক শহরের আবেগের জায়গা, ভালোবাসার জায়গা। নবীন প্রজন্ম তো বটেই, প্রবীণদের কাছেও এই পার্ক পছন্দের জায়গা। কাছেই শিলিগুড়ি কলেজ, বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার অফিস, প্রশিক্ষণকেন্দ্র থাকায় বেশ কিছু অস্থায়ী খাবার দোকান আগে থেকেই পার্কের আশপাশে ছিল। এখন সেই সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এখন আর শুধু স্টলগুলির মেনু মোমো, চাউমিনে সীমাবদ্ধ নেই। বিরিয়ানি থেকে পিঠে, চাইনিজ খাবার, ফুচকা থেকে চা, বিভিন্ন মকটেল, মিল্কশেক- সবই মিলবে পার্কের আশপাশে। এর বেশিরভাগটাই বিক্রি হয় ঠেলাগাড়িতে। কয়েকটি স্থায়ী দোকান রয়েছে।  সন্ধ্যাবেলা গেলেই চোখে পড়বে- পার্কের সীমানার ধারে বসে কেউ বন্ধুর সঙ্গে, কেউ আবার প্রেমিকার সঙ্গে আড্ডায় মশগুল। তবে প্রত্যেকের হাতেই কিছু না কিছু খাবার রয়েছে। চিকেন রোলে কামড় বসাতে বসাতে রাহুল ঘোষ নামে যুবক বললেন, প্রত্যেক সন্ধ্যায় বাঘা যতীন পার্কে একবার আসা হয়ে যায়। রোজ যে ফাস্টফুড খাই এমন নয়। কিন্তু কিছু না কিছু খেয়ে যাই। ভবিষ্যতে এই জায়গায় রেস্তোরাঁ খোলার ইচ্ছা আছে। কারণ ব্যবসার জন্য এই জায়গাটা বেশ লাভজনক। কিছুদিন আগে পার্কের কাছে চিকেন তন্দুরির দোকান খুলেছেন পরভেশ। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেই ব্যবসা চালু করেছি। এখন চিকেন তন্দুরির চাহিদা ভালোই। ৪০ টাকা থেকে দাম রেখেছি। প্রত্যেকদিন সন্ধ্যায় ব্যবসা শুরু করি। ভালোই বিক্রি হচ্ছে।  সোহিনী ভট্টাচার্য নামে আরও একজন বলেন, আড্ডা দেওয়ার জন্য প্রথম পছন্দ বাঘা যতীন পার্ক। দিনে দিনে আরও দোকান বাড়ছে। বিকেল বেলা থেকে এলাকাটা যেন একেবারে বদলে যায়। রাম প্রসাদ নামের একজন ফুচকা বিক্রেতা বলেন, এখন জিনিসের দাম বেড়েছে। তাই ১০ টাকায় চারটে ফুচকা দিতে হচ্ছে। তবে যাঁরা আগে থেকে আসতেন, তাঁরা এখনও আসেন। বাঘা যতীন পার্ক ছাড়াও অন্য জায়গায় ফুচকা নিযে বের হই। কিন্তু এখানে বিক্রি বেশি হয়।

- Advertisement -