পুড়ে ছাই মূল্যবান নথি, নগদ টাকা, বাগবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী

60

কলকাতা: সাতসকালে বাগবাজারে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষতিগ্রস্তদের ঘর তৈরি করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, চাল, ডাল, আলু ও বাচ্চাদের দুধ দেওয়া হবে জানিয়ে রাখেন। তিনি বলেন, ‘যার যেখানে ঘর, পুরসভা ঘর তৈরি করে দেবে। ৫ কেজি করে চাল-ডাল-আলু ও বাচ্চাদের দুধ দেওয়া হবে।’

বৃহস্পতিবার সকালেই কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম, মন্ত্রী শশী পাঁজা, কলকাতা পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে বাগবাজারে হাজির হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সরোজমিনে বুধবার রাতে পুড়ে যাওয়া একশটি বস্তির যেমন সরজমিনে তদন্ত করে দেখেন। তেমনি সেখানকার বাসিন্দাদের পাশে থেকে সবরকমের সাহায্য করার আশ্বাসও দেন তিনি।

- Advertisement -

এদিন তিনি সেখানে গিয়েই সোজাসুজি কলকাতা পুলিশ কমিশনার ও কলকাতা পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিমকে নির্দেশ দেন ওই অগ্নিকাণ্ডে গৃহহীন হয়ে পড়েছেন যে প্রায় ৭০০ জন মানুষ তাদেরকে বাগবাজার উইমেন্স কলেজে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার। এর পাশাপাশি তাদের পোশাক, চাল, ডাল, আলু, কম্বল, বিস্কুট দেওয়ার নির্দেশও দেন।

সেই সঙ্গে তিনি সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা বিপদে পড়েছেন। আমরা আছি। যতদিন না আপনাদের থাকার স্থায়ী ব্যবস্থা করা হচ্ছে ততদিন আপনারা উইমেন্স কলেজেই থাকবেন। তবে নোংরা করবেন না। ভালভাবে থাকবেন। যারা যেখানে ছিল সেখানেই তাদের ঘর করে দেবে কলকাতা পুরসভা। তারপর সেখানে তারা থাকবেন। ততদিন আপনারা ওখানেই থাকুন। আপনাদের সমস্ত দায়িত্ব সরকারের।’

সেই সঙ্গে তিনি তাদের এও জানিয়েছেন, যতদিন না তাদের স্থায়ী থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হচ্ছে, ততদিন তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা নেবে কলকাতা পুরসভা। মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে উৎফুল্ল হন সেখানকার গৃহহীন মানুষজনেরা। তাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে পাশে পেয়ে নিজেদের আবেগ যেমন ধরে রাখতে পারেননি, তেমনি মুখ্যমন্ত্রীর এই সাহায্যে তাঁরা আপ্লুতও হন।

মুখ্যমন্ত্রী প্রায় আধঘন্টা সেখানে ছিলেন। তারপর সেখান থেকে তিনি তাঁর পরবর্তী গন্তব্য স্থলে চলে যান। উল্লেখ্য, বুধবার সন্ধ্যায় এক বিধ্বংসী অগ্নিকান্ডে ভস্মীভূত হয়ে যায় বাগবাজারের। প্রায় একশটি বস্তি। সেইসঙ্গে আগুন লাগে পাশেই থাকা রামকৃষ্ণ মিশনের একটি আশ্রমের কিছু অংশ। গতকাল রাত থেকেই নিরাশ্রয় হয়ে পড়েন ওই বস্থিতে থাকা প্রায় ৭০০ মানুষজন। প্রাথমিকভাবে তাদেরকে রাতে বাগবাজার ওমেন্স কলেজ থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছিল। আর যতদিন না তাঁদের স্থায়ী বাসস্থান এর ব্যবস্থা সরকার করতে পারছে ততদিন তাঁরা যাতে সেখানেই থাকতে পারেন তাঁর ব্যবস্থাও পাকাপাকিভাবে করে দিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।