মৃত মহিলার দেহ ঘিরে ক্ষোভে উত্তাল বাগনান, তৃণমূলের কোপে আহত ১

337

হাওড়া: মেয়ের ইজ্জত বাঁচাতে গিয়ে দুষ্কৃতীদের ধাক্কায় সিঁড়ি থেকে পড়ে মঙ্গলবার রাতেই মারা গিয়েছিলেন মা সীমা দত্ত(৪৫)। বুধবার তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার তাঁর দেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পরেই সমগ্র গোপালপুর জুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

সেই উত্তেজনা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পায়,ঘটনায় মূল অভিযুক্ত কুশ বেরার স্ত্রী তথা বাগনান পঞ্চায়েত সমিতির তৃণমূলের সদস্য রমা বেরা কিছু তৃণমূল সমর্থক নিয়ে বিক্ষোভকারীদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়লে। তাঁদের ছোঁড়া দায়ের কোপে এক যুবক আহত হয়েছেন। তাঁকে উদ্ধার করে নিকিটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল সূত্রে খবর, ওই যুবকের পায়ের অবস্থা খারাপ। পা কেটে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা আছে।

- Advertisement -

এদিকে সীমা দেবীর মরদেহ ঘিরে থাকা উত্তেজিত জনতা পুলিশের উপস্থিতিতে অভিযুক্ত কুশের বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে বিশাল পুলিশবাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান উলুবেড়িয়া মহকুমা পুলিশ অফিসার।

অন্যদিকে, ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা সীমা দেবীর মরদেহ নিয়ে হাজির হন উলুবেড়িয়া আদালত প্রাঙ্গণে। সেখানে তাঁরা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কঠোর সাজার দাবি করতে থাকার পাশাপাশি আদালতের আইনজীবীদের কাছে অনুরোধ করেন যাতে তাদের মধ্যে কেউই যেন ওই ঘৃণ্য ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের হয়ে না দাঁড়ান।

এর পরপরই কড়া পুলিশ প্রহরায় অভিযুক্ত কুশ বেরা ও শোভন মন্ডল কে পুলিশ আদালতে হাজির করে। তবে উলুবেড়িয়া আদালতের কোনও আইনজীবী ওই আসামীদের হয়ে দাঁড়াননি। পুলিশের তরফে ওই ঘটনায় আটক দু’জনকে তাঁদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন না করায় ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের দু’জনকেই ১৫ দিনের জন্য জেল হেফাজতে পাঠাবার নির্দেশ দেন। এর পরপরই সীমা দেবীর দেহ শ্মশানে নিয়ে সৎকার করা হয়।

এর মাঝে এদিন সকালেই বাগনানের গোপালপুরে পৌঁছান বিজেপি মহিলা মোর্চা সভানেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি মরদেহের সঙ্গেই মৃতার বাড়িতে পৌঁছে যান। সেখানে তাঁকে সীমা দেবীর মেয়ে ও স্বামী তপনবাবুকে সান্ত্বনা দিতে দেখা যায়।

অগ্নিমিত্রা পলের পরপরই একে একে মৃতের বাড়িতে গিয়ে হাজির হন আমতার কংগ্রেস বিধায়ক অসিত মিত্র ও সিপিএম নেত্রী কনীনিকা ঘোষ। তবে ঘটনাস্থলে তৃণমূলের কোনও নেতাকে হাজির হতে দেখা যায়নি। উল্টে ওই ঘটনা নিয়ে হাওড়া শহর এলাকার তৃণমূলের সভাপতি তথা রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ রায়ের বুধবারের করা মন্তব্যের সমালোচনায় মুখর হতে দেখা যায় গোপালপুরের বাসিন্দাদের।

অরূপ বাবুর অভিযোগ করেছিলেন যে, মৃতার মেয়ের সঙ্গে অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের সম্পর্ক ছিল। মন্ত্রীর এই বক্তব্য মিথ্যা বলে জানিয়ে দেন গোপালপুরে স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই সঙ্গে তাঁদের মুখে মুখে ঘুরছিল ওই ঘটনার মূল আসামী কুশ বেরার বিভিন্ন অপকর্মের কাহিনী। তৃণমূল কংগ্রেসের হাওড়া গ্রামীণ এলাকার তৃণমূলের সভাপতি তথা বিধায়ক পুনরায় ওই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেন।

উল্লেখ্য, বাগনান কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী রিমা দত্ত( নাম পরিবর্তিত), রাত বারোটা নাগাদ তাঁদের বাড়ির ছাদে ওঠার সিঁড়ির শেষপ্রান্তে উঠে মোবাইলে গেম খেলতে যায়। সিঁড়িতে বসতে গিয়েই সে দেখতে পায় যে তাঁর আগেই ছাদে উঠে বসে আছে কুশ বেরাও অপর এক যুবক। তাঁদের মধ্যে একজন তাঁর পা ধরে টান দেয়। অপরজন তাঁর মুখ চেপে ধরে। কিন্তু এরই ফাঁকে রিমা চিৎকার করে উঠলে তাঁর মা সিঁড়ি বেয়ে তড়িঘড়ি ছাদে উঠতে যান। বেগতিক বুঝে দুষ্কৃতকারীরা সীমা দেবীকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। ফলে তিনি সিঁড়ি দিয়ে গড়িয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় নিচে পড়ে যান। পরে মারা যান।