পেটের টানে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে পথে সুলেখারা

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : জন্ম থেকেই নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে বসবাস। সেখানেই যাত্রীদের সামনে হাত পেতে যেটুকু অর্থ পাওয়া যেত, তা দিয়ে দুমুঠো ভাতের জোগাড় করত ওরা। কিন্তু করোনা সংক্রমণের জেরে সারাদিনে হাতেগোনা ট্রেন আসে স্টেশনে। যাত্রীরাও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব স্টেশন ছাড়েন। ফলে আগের মতো আর রোজগার হয় না। তাই স্টেশনের গণ্ডি ছাড়িয়ে ওরা এখন সেবক রোড, হিলকার্ট রোডে হাজির হচ্ছে। আর এতেই প্রমাদ গুনছেন ড্রপিং সেন্টারের কর্তারা। কারণ জন্ম থেকেই স্টেশনে কাটানোর ফলে ওরা কীভাবে শহরের ব্যস্ত রাস্তায় মানিয়ে নেবে, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন তাঁরা।

ওরা বলতে পিংকি বৈদ, শান্তি বৈদ, চৈতানিয়া বৈদ, সুলেখা বৈদের মতো একদল শিশু-কিশোর। জন্ম থেকেই তাদের ঠিকানা নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন। ওদের পূর্বপুরুষরা একসময় হরিশচন্দ্রপুর থেকে এই স্টেশনে চলে এসেছিলেন। সেই থেকে এখানেই আছে বৈদ পরিবার। বাইরের জগতের সঙ্গে তাদের যোগাযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। স্টেশন চত্বরেই থাকা-খাওয়া, তার ফাঁকে পড়োশানাও করত ওরা। কখনও যাত্রীদের কাছে হাত পেতে, আবার কখনও ট্রেনে-প্ল্যাটফর্মে ঝাড়ু দিয়ে উপার্জন করত ওরা। কিন্তু এখন ট্রেন না চলায় পেটের দায়ে রেল থেকে সড়কপথে আসতে বাধ্য হয়েছে শান্তি-পিংকিরা। কিন্তু অপরিচিত রাস্তায় যাতায়াত করতে গিয়ে পদে পদে হোঁচট খেতে হচ্ছে। হিলকার্ট রোডে মানুষের কাছে হাত পাতার মধ্যেই সুলেখা বৈদ বলেন, প্ল্যাটফর্ম, ট্রেন আমাদের সবকিছু। রাস্তায় কোনওদিন আগে বের হইনি। পেটের টানে বাইরে বেরোলেও গাড়ির কারণে ভয় পেয়ে যাই। অনেক সময় রাস্তা চিনতে পারি না।

- Advertisement -

একই সুরে চৈতানিয়া বৈদ বলছিলেন, বংশপরম্পরায় এনজেপি স্টেশনেই আমাদের সব কিছু। করোনা আসার পর থেকে এখন আর আগের মতো ট্রেন চলে না। যাত্রীও তো নেই। তাই শহরে এভাবে ঘুরে ঘুরে বেড়ানো। বাচ্চারা যে পড়াশোনা করত সেটাও এখন বন্ধ। এখানেই উদ্বিগ্ন ড্রপিং সেন্টারের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর তাপস কর্মকার। তিনি বলেন, স্টেশনের বাইরের পরিবেশ নিয়ে ওদের কোনও ধারণা নেই। পেটের টানে বের হওয়ায় ওদের প্রাণের ঝুঁকি বাড়ছে। পরিবেশও যে খুব একটা ভালো নয়। তিনি বলেন, ওরাও তো একপ্রকার পরিযায়ী। দুমুঠো খাবারের ব্যবস্থা কেউ করে দিলে ওরা অন্তত খেয়ে বাঁচতে পারবে। এপ্রসঙ্গে শিলিগুড়ির পুর প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্য শংকর ঘোষ বলেন, আমি গিয়ে স্টেশনে ওদের সঙ্গে কথা বলব। ওয়ার্ড কমিটির মাধ্যমে কয়েকদিন খাওয়ার ব্যবস্থা করে দেব।