ফের জামিন নাকচ, ৭ দিনের জেল হেপাজতে এনামুল হক

140

আসানসোল: দীর্ঘ সওয়াল জবাব শেষে এবারও জামিন পাওয়া হল না গোরু পাচার মামলায় অন্যতম ধৃত এনামুল হকের। বুধবার আরও ৭দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ আদালতের। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানির দিন ঠিক হয়েছে। এদিন সিবিআইয়ের তরফে বেশকিছু তথ্য সহ কাগজ আদালতের বিচারকের কাছে জমা দেওয়া হয়। বুধবার সকালে এনামুলকে আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগার থেকে পুলিশের কড়া পাহারায় আসানসোলে বিশেষ সিবিআই আদালতে আনা হয়।

সিবিআইয়ের বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়ের এজলাসে সকাল থেকে এনামুল হকের আইনজীবী শেখর কুন্ডু তাঁর জামিনের হয়ে জোর সওয়াল করেন। তিনি বলেন, ‘আমার মক্কেল সবমিলিয়ে ৮৪ দিন সিবিআইয়ের কন্ট্রাক্টে রয়েছে। যারমধ্যে ৫৫ দিন জেলে রয়েছে। তাকে জেরা করে তাঁর বিরুদ্ধে প্রমাণ দেওয়ার মতো কোন তথ্য এখনও সিবিআই আদালতে পেশ করতে পারেনি। এই মামলায় ২জনকে ধরা হয়েছে। আরও ২জনের নামে ওয়ারেন্ট জারি হয়েছে। সেই দুজনের নামে অন্য মামলাও রয়েছে। তাঁরা কোথাও কেউ জানেনা। সিবিআই এখনও পর্যন্ত এমন কোনও কিছু  জোগাড় করতে পারেনি, যাতে প্রমান হয় যে, এনামুল গোরু পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

- Advertisement -

অন্যদিকে, এনামুল হকের জামিনের বিরোধিতায় সিবিআইয়ের আইনজীবী কালিচরন মিশ্র ও রাকেশ সিং পালটা সওয়াল করে বিচারককে বলেন, ‘আমরা অনেক কাগজ জমা দিয়েছি। এখনই তাকে জামিন দেওয়া হলে, এই মামলার অনেক ক্ষতি হবে। সে যথেষ্টই প্রভাবশালী। সে জামিন পেয়ে বাইরে গেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করবে। প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করবে। তাকে ১৪ দিনের জন্য জেলে পাঠানো হোক।‘ তখন এনামুল হকের আইনজীবী শেখর কুন্ডু বলেন, ‘তা কি করে হবে? ৫৫ দিন তো জেল হাজতে থাকা হয়ে গেছে। ৬০ দিন তো নির্দিষ্ট রয়েছে। এরপর বিচারক সিবিআইয়ের জমা দেওয়া তথ্য প্রমাণ খতিয়ে দেখেন।‘

শেষ পর্যন্ত সওয়াল-জবাবের শেষে বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায় এনামুল হকের জামিন নাকচ করে ৭ দিনের জেল হাজতের নির্দেশ দেন। বিচারক বলেছেন, ‘আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী দিন শুনানির জন্য ধার্য করা হল। সেদিন আবার এনামুল হককে এজলাসে পেশ করা হবে।‘

এদিকে, শুনানি শেষে এনামুল হককে জেলে নিয়ে যাওয়ার সময়, সে সাংবাদিকদের বলে, ‘আমি নির্দোষ। আমাকে লাইভ করতে দেওয়া হোক। আধ ঘন্টায় সব বলে দেব। আমার কাছে সব তথ্য আছে।‘