জামিন নাকচ, ফের ১৪ দিনের জেল হেপাজতে এনামুল হক

190

আসানসোল: দীর্ঘ সওয়াল জবাবের পরে জামিন নাকচ হল গোরু পাচার মামলায় অন্যতম ধৃত এনামুল হকের। বুধবার সকালে এনামুলকে আসানসোল বিশেষ সংশোধনাগার থেকে পুলিশের কড়া পাহারায় আসানসোলে বিশেষ সিবিআই আদালতে আনা হয়। সিবিআইয়ের বিচারক জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়ের এজলাসে সকাল থেকে এনামুল হকের আইনজীবী শেখর কুন্ডু তাঁর জামিনের হয়ে জোর সওয়াল করেন। তিনি জানান, সবমিলিয়ে ৭৪ দিন জেলে রেখে ও রিমান্ডে নিয়ে জেরা করে তাদের মক্কেলের বিরুদ্ধে প্রমাণ দেওয়ার মতো কোন তথ্য এখনও সিবিআই আদালতে পেশ করতে পারেনি। যার থেকে প্রমাণ হয়, এনামুল গোরু পাচারের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। এখানে কোন গোরু পাচার বা স্মাগলিং হয়নি। যে ২০ হাজার গোরু পাচারের কথা বলা হচ্ছে, তার কোনও ভিত্তি নেই। ১৬,৪১৫টি গোরু নিলাম করা হয়। যার মূল্য ১৬ কোটি ৫৫ লক্ষ ২৮ হাজার ৪৭৪ টাকা। সরকারকে কর বাবদ দেওয়া হয় ৩ কোটি টাকা। এর থেকে আয় হয়েছে, ১ কোটি ২৮ লক্ষ ৪৭ হাজার টাকা। এইসব কিছু রেকর্ড করা আছে।

তিনি আরও বলেন, ‘সিবিআই এনামুল হকের ২৯টি ব্যাংক একাউন্ট সিজ করেছিলে। কিন্তু হাইকোর্টের নির্দেশে সেইসব একাউন্টের ফরেনসিক পরীক্ষার পরে, সেগুলি চালু হয়েছে। সিবিআইয়ের অফিসাররা জেলে গিয়ে তাঁর মুখ দিয়ে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রথমসারীর নেতা, নেত্রী ও বেশকিছু মানুষের নাম বলানোর জন্য চাপ দিচ্ছেন।‘

- Advertisement -

এনামুলের আইনজীবী আরও বলেন, ‘সিবিআই তার মক্কেলের তিন ভাগ্নেকে দুবাই থেকে ভারতে এনেছে, এই মামলায় সাক্ষী দেওয়ানোর জন্য। এছাড়াও তার মক্কেলের কিছু শারীরিক অসুস্থতা রয়েছে। করোনা পরিস্থিতিতে তাকে যেকোনও শর্তে জামিন দেওয়া হোক। তার আইনজীবীরা বিভিন্ন মামলার কথা বিচারকের কাছে বলেন। তারা আবেদন করে বলেন, তাদের মক্কেল তদন্তে সবরকম সহযোগিতা করছে ও আগামী দিনেও করবে। তাই তাকে যেকোন শর্তে জামিন দেওয়া হোক।‘অন্যদিকে, এনামুল হকের জামিনের বিরোধিতায় সিবিআইয়ের আইনজীবী কালিচরন মিশ্র পালটা সওয়াল করে বিচারককে বলেন, ‘এখনই তাকে জামিন দেওয়া হলে, এই মামলার অনেক ক্ষতি হবে। সে যথেষ্টই প্রভাবশালী। সে জামিন পেয়ে বাইরে গেলে সাক্ষীদের প্রভাবিত করবে।এমনকি প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করবে।‘সিবিআই গত ১৪দিনে অনেককে ডেকে পাঠিয়ে জেরা করেছে। আরও জেরা করবে।সিবিআইয়ের আইনজীবী এদিন বিচারককে বলেন,‘তিনজনকে দুবাই থেকে ডাকা হয়েছে।ধৃত জেলে জেরা করার সময় সিবিআইয়ের অফিসারদের হুমকি দিচ্ছে।‘

জানা গিয়েছে, এরপর সিবিআই বেশকিছু তথ্য প্রমাণ বিচারকের কাছে জমা দেন। সিবিআইয়ের আইনজীবী বিচারকের কাছে সওয়াল করে বলেন, তাঁর জামিন নাকচ করে জেলে পাঠানো হোক। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ সওয়াল-জবাবের শেষে সন্ধ্যা নাগাদ বিচারক জয়শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় এনামুল হকের জামিন নাকচ করে ১৪ দিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। বিচারক বলেছেন, আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি এনামুল হককে আবার এজলাসে পেশ করতে হবে।এদিকে, বিচারকের নির্দেশ শেষে পুলিশ যখন এনামুল হককে জেলে নিয়ে যাওয়ার জন্য ভ্যানে তুলছিলো, তখন সে সাংবাদিকদের বলে, আপনারা সঠিক লিখতে পারবেন না। আমাকে মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সিবিআই মিথ্যে বলছে। আমার কাছে সব তথ্য আছে।