গোরু পাচারের মামলা চার্জশিটে ৫ অভিযুক্তের জামিন

90

আসানসোল: শুক্রবার গোরু পাচার মামলায় সিবিআইের পেশ করা চার্জশিটে নাম ৫ অভিযুক্তর জামিন মঞ্জুর করল আসানসোলের সিবিআই আদালত। সেই ৫ জনের নাম হল জামিনে থাকা বিএসএফের কম্যান্ড্যান্ট সতীশ কুমারের স্ত্রী তানিয়া সান্যাল, সতীশ কুমারের শ্বশুর বাদলকৃষ্ণ সান্যাল, এনামুল হকের স্ত্রী রশিদা বিবি, গোলাম মুস্তাফা ও আনারুল শেখ। তারমধ্যে অসুস্থ থাকায় বাদলকৃষ্ণ সান্যাল এদিন আসানসোলের সিবিআই আদালতে হাজির হতে পারেননি। অনলাইনের মাধ্যমে তার শারীরিক অবস্থা দেখেন বিচারক জয়শ্রী বন্দোপাধ্যায়। বাকি ৪ জন সমন জারি হওয়ায় জামিন নিতে এদিন আদালতে হাজির হয়েছিলেন।

এই মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত ধৃত এনামুল হক আসানসোল জেল বা বিশেষ সংশোধনাগারে রয়েছে। অন্য আরও এক অভিযুক্ত বিনয় মিশ্র এখনো ফেরার রয়েছে। গত ১ মার্চ এনামুল হককে আসানসোল আদালতে তোলা হয়েছিলো। কিন্তু তার আইনজীবী গরহাজির থাকায় বিচারক তার জামিন নাকচ করে আবার ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন। পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে আগামী ১৫ মার্চ। সেদিন আবার এনামুলকে বিচারকের সামনে পেশ করা হবে। অভিযুক্তদের আইনজীবী শেখর কুণ্ডু এদিন বলেন, ‘গোলাম মুস্তাফা ও আনারুল শেখকে ২ লক্ষ টাকা করে বন্ডে জামিন দিয়েছেন বিচারক। বাকিদের ক্ষেত্রে অবশ্য কোন বন্ড চাওয়া হয়নি।’

- Advertisement -

প্রসঙ্গত, গত ৮ ফেব্রুয়ারি আসানসোল সিবিআই আদালতে চার্জশিট পেশ করেছে সিবিআই৷ সিবিআইয়ের পেশ করা চার্জশিটে অভিযুক্ত হিসাবে পুরানো চারজনের সঙ্গে নতুন করে আরো তিনজনের নাম যুক্ত করা হয়। এই গোরু পাচারের মামলার অন্যতম অভিযুক্ত বিএসএফের কম্যান্ড্যান্ট সতীশ কুমারকে সিবিআই আগেই গ্রেপ্তার করেছিল। আপাতত সতীশ কুমার জামিনে বাইরে আছেন। তাকে আবার আগামী ২৬ মার্চ আদালতে হাজিরা দিতে হবে।

উল্লেখ্য গত ২০২০ সালের ১১ ডিসেম্বর আসানসোল বিশেষ সিবিআই আদালতে আত্মসমর্পন করেছিল এনামুল হক। তারপর থেকে সে জেল হেপাজতেই রয়েছে। ৬০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া না হলে, গত ১০ ফেব্রুয়ারি বুধবার এনামুলের জামিন পাওয়া একবারে নিশ্চিত ছিল। সেই জামিন আটকাতেই ঠিক ৬০ দিনের মাথায় আদালতে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করে সিবিআই। এদিকে, গোরু ও কয়লা পাচারের মামলায় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের রাজ্য নেতা বিনয় মিশ্রকে ইতিমধ্যেই ফেরার ঘোষণা করেছে আসানসোলের সিবিআই আদালত। এই মর্মে সিবিআইয়ের আবেদনের ভিত্তিতে আদালত নোটিশ জারি করেছে। সিবিআই সূত্রে জানা গিয়েছে, বিনয় মিশ্রর বাড়িতে সেই নোটিশ লাগানোও হয়েছে। বিচারক নির্দেশ মতো,  আগামী ২২ মার্চের মধ্যে বিনয় মিশ্রকে হাজিরা দিতে হবে। তা না হলে, তার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হবে। এদিন আরও জানা গিয়েছে, সিবিআই নিশ্চিত যে, নিজের তিনটি পাসপোর্ট ব্যবহার করে দেশের বাইরে পালিয়েছে। তবুও সিবিআই ইন্টারপোলকে দিয়ে রেড কর্ণার জারির পথে হাঁটতে পারে।