ছেলে দেখে না, কাগজ কুড়িয়ে সংসার চালান বৃদ্ধা বকুল

113

আলিপুরদুয়ার: ‘ছেলে আমার মস্ত মানুষ মস্ত অফিসার, মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার’-নচিকেতার বিখ্যাত বৃদ্ধাশ্রম গানটির কিছুটা চিত্র মিলে যায় আলিপুরদুয়ারের বকুল দে’র সঙ্গে। নচিকেতা গানের প্রতিটা শব্দে যখন সমাজের একটা ছবি চোখের সামনে তুলে ধরেছে। কীভাবে বৃদ্ধ বাবা মায়ের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নেয় ‘লায়েক’ ছেলেমেয়েরা। তেমনই কিছু হয়েছে সত্তুর ছুঁই ছুঁই বৃদ্ধা বকুল দে’র সঙ্গেও।

আলিপুরদুয়ার ট্যাক্সি স্ট্যান্ডের ভিতরে ছোট ঘরেই সংসার বকুল দে’র। চারপাশের বড় ইমারতের মাঝে এক কোণায় তাঁর একচালা ঘর যদিও কারোরই তেমন নজরে পড়ে না। তাঁর অস্তিত্ব জানা যায়, যখন ছোট ঘর থেকে বেরিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকা কাগজ, বোতল কুড়িয়ে বেড়ান তিনি। এগুলোই তাঁর সম্পদ। এটাই তাঁর উপার্জন। একসময় বারবিশায় বাড়ি ছিল ওঁনার। তারপর স্বামীর সঙ্গে শহরে এসে ওঠা। সঙ্গে ছেলে এবং মেয়ে। বর্তমানে যেটা ট্যাক্সি স্ট্যান্ড, একসময় সেই সরকারি জায়গাতেই ঘর ছিল তাঁদের। বেশ লম্বা ঘর। যে ঘর ভাড়া দিয়েই সংসার চলত। প্রায় ১২ বছর আগে যখন ট্যাক্সি স্ট্যান্ড বানানোর কাজ শুরু হয়। তখন তাঁদের ঘর ভাঙা পড়ে, যেহেতু সেটা সরকারি জমি। তৎকালীন মহকুমা শাসককের কাছে আর্জি জানিয়ে ট্যাক্সি স্ট্যান্ডেই থাকার ছোট জায়গা নিয়েছিলেন বকুল দে।

- Advertisement -

স্বামী মারা যান অনেক আগেই। তারপর ঘরও যায়। তবে বকুল দে’র সব থেকে দুঃখের বিষয় হয়, তার ছেলেও অন্য জায়গায় গিয়ে বাড়ি করে এবং সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। বকুল দে বলেন, ‘ছেলে চলে গিয়েছে প্রথমে দুঃখ হত। বহু বছর হয় গিয়েছে। আর এখন দুঃখ হয় না। মেয়ের বিয়ে হয়েছে শহরেই। সে খোঁজ রাখে কিছুটা। তার সংসারেও সমস্যা রয়েছে, স্বামী অসুস্থ। কাগজ, বোতল কুড়িয়ে সংসার চলে। বেশি কাজও করতে পারি না। ভাতা পাই। সেটায় একটু সাহায্য হয়। থাকার একটা ঘর অনেকে বলেছিল দিবে, তবে কোনও খবর নেই সেই বিষয়ে।’ বকুলের ঘর এমনই যে, যেখানে সূর্যের আলো পৌঁছোয় না। বিদ্যুতের কাল্পনিক আলো ছাড়া ঘর অন্ধকার। সব ছেড়ে তাঁর সঙ্গী শুধু এক বিড়াল। লকডাউনের শুরুতেই নতুন সঙ্গী পেয়েছেন বকুল। তাঁর সঙ্গেই বেশ মানিয়ে নিয়ে চলছে। আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর ভাইস চেয়ারম্যান রুমা চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘ওঁনার বিষয় খোঁজ নেওয়া হবে।’