বিসর্জনেই আবাহন, রায়গঞ্জে শুরু বালাইচণ্ডীর পুজো

145

হেমতাবাদ: বিসর্জনেই আবাহন। প্রত্যেক বছর দশমীর দিন ‘অন্য দুর্গাপুজো’য় মেতে ওঠে উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ ব্লকের কমলাবাড়ি-২ নম্বর খাদিমপুর এলাকা। ছয় হাজার পরিবারের বাসিন্দার সম্মিলিত উদ্যোগে দশমীর রাত থেকে শুরু হয় ওই পুজো। চলবে মঙ্গলবার পর্যন্ত।

এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা রমনী বর্মন জানান, গ্রামের মঙ্গল কামনায় এলাকার বাসিন্দারা বালাইচণ্ডী পুজো করেন। প্রাচীন রীতিনীতি মেনে প্রতিবছর ভক্তরা এই পুজোয় শামিল হন। পুজো কমিটির সম্পাদক বিশ্বনাথ বর্মন জানান, তাঁরা সারা বছর ধরে এই পুজোর জন্য অপেক্ষা করেন। দশমীর রাত থেকে গ্রামের বাসিন্দারা নতুন পোশাক পরে পুজোর আনন্দে মেতে ওঠেন।

- Advertisement -

দেবী বালাইচণ্ডী প্রতিমার ১০ হাতের জায়গায় ৪ হাত রয়েছে। অসুর, মহিষের কোনও অস্তিত্ব নেই। সিংহের পিঠে দেবী বলাইচণ্ডীরর পাশে লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতীর মূর্তি রয়েছে। মন্দিরের পুরোহিত তাপস চক্রবর্তী জানান, ৫০০ বছর আগে দশমীতে এই গ্রামে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রচুর ফসল, ঘর-বাড়ির ক্ষতি হয়। বহু মানুষ মারা যান। সেই থেকেই গ্রামের মঙ্গল কামনায় পুজো শুরু হয়। রীতি অনুযায়ী যাঁতে বাসিন্দারা পূজার্চনা করতে পারেন, সেইজন্য প্রতিমা বিসর্জন না দিয়ে বট-পাকুড় গাছের প্রাচীন মন্দিরে রেখে দেওয়া হয়। প্রতিবছর বিশ্বকর্মা পুজোর পরেরদিন পুরোনো মূর্তির বিসর্জন হয়। বিসর্জনের পরে মৃৎশিল্পীদের প্রতিমার বরাত দেওয়া হয়। বংশ পরম্পরায় শিল্পীরা এই প্রতিমা গড়েন। পুরোহিতরাও বংশ পরম্পরায় পুজো করে আসলেও ছয় বছর ধরে পুরোহিতের বংশধরের কোনও পুরুষ না থাকায় অন্য পুরোহিত দিয়ে পুজো শুরু হয়েছে। পুজোর পাঁচদিন পুরোহিত মঙ্গলযজ্ঞ করেন। এরপর দূর-দূরান্ত থেকে আসা ভক্তদের উৎসর্গ করা পায়রা সহ ৫০০টি বলি হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাত থেকে কয়েকশো ভক্ত অঞ্জলি দেন। প্রসাদ হিসেবে খিচুড়ি, মিষ্টি ও ফল দেওয়া হয়। পুজো উপলক্ষ্যে এক সপ্তাহ ধরে মেলা বসলেও গত দু’বছর যাবৎ করোনার কারণে মেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। পুজো কমিটির সভাপতি ফুলকান্ত বর্মন ও পুজো কমিটির কার্যকরী সম্পাদক সুরেন্দ্রনাথ বর্মন জানান, পুজো মোট পাঁচদিন হবে। পুজোর জন্য কোনও চাঁদা তোলা হয় না। এই পুজো দেখতে শুধু রায়গঞ্জ নয় দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষের সমাগম হয়।