বালাসনের মজুরের এখন লড়াই আদর্শের যুদ্ধে

107

মহম্মদ হাসিম, বাগডোগরা : একটা সময় সংসারের হাল ধরতে বালাসন নদীতে বালি-পাথর তুলে ট্রাকে বোঝাই করতেন। তখন স্কুলে পড়াশোনা চলছে। স্কুলের ফি চালানোর জন্য সে কাজ করতে হত। এখন তিনি নকশালবাড়ি-মাটিগাড়া বিধানসভা কেন্দ্রে প্রার্থী। কোন দলের প্রার্থী? আদর্শের টানে হরিশ্চন্দ্র বর্মন এসইউসির হয়ে লড়ছেন। তাঁর নাম বা ছবি নিয়মিত কাগজে দেখা যায় না। ওসব নিয়ে তাঁর অত চিন্তা নেই। তাঁর ভাবনায় দল।

মাটিগাড়া সমষ্টি উন্নয়ন দপ্তর থেকে প্রায় ছয় কিলোমিটার দূরে পালপাড়া পেরিয়ে  আঠারোখাই গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত পূর্ব রঙ্গিয়া শিসাবাড়ি এলাকায় তিনি থাকেন। সংসার চালাতে বালাসন কলোনিতে রয়েছে একটা ছোট ওষুধের দোকান। ছোটবেলায় বাবা মারা যাওয়ায় অভাব ও দারিদ্র‌্য ছিল নিত্যসঙ্গী। ১৯৯১ সালে বাগডোগরা চিত্তরঞ্জন হাইস্কুল থেকে মাধ্যমিক পাশ করার পরে সংসারের হাল ধরেন তিনি।

- Advertisement -

কেন ভোটে দাঁড়াতে গেলেন? প্রশ্ন শুনে যা বললেন তাতে বোঝা গেল, প্রথমে ইচ্ছে না থাকলেও দলের নীতি এবং আদর্শকে টিকিয়ে রাখার জন্য তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। গর্বের সঙ্গে বললেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় সত্যিকারের পরিবর্তন আনতে হলে আন্দোলনই একমাত্র পথ। যেটা আমাদের দলের আদর্শে রয়েছে। অন্য রাজনৈতিক দলগুলি পরিবর্তনের নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও আমাদের জীবনযাত্রার মৌলিক চাহিদাগুলি থেকে এখনও বঞ্চিত।

তাঁর মুখে উঠে এল বালাসন নদীর কথা। যেখানে তিনি একদা বালি-পাথর তুলে ট্রাক বোঝাই করতেন। সেসব তো আর বদলাল না। কতদিন সে কাজ করেছেন, এখন মনে নেই। বলছিলেন, এখনও বালাসন নদীতে দেখা যাবে, শিশু কোলে রেখে কড়া রোদে মহিলা-পুরুষ শ্রমিকরা পেটের ভাত জোগানোর জন্য দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। সেই বালাসন সেতুর ওপর দিয়ে হাই প্রোফাইল নেতাদের যাতায়াত সবসময় আমরা দেখি। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় কোনও পরিবর্তন এখনও দেখিনি। বেআইনি খনন, নদী দখল বরাবরই চলছে।

দোকান সামলে কী করে প্রচার চালান?  দোকানে ছেলেকে রেখে প্রচারে বেরিয়ে পড়েন তিনি। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রচারের জন্য প্রচুর টাকা ছড়িয়ে দিলেও হরিশবাবুর প্রচারের একমাত্র ফান্ড হল, সাধারণ মানুষের দেওয়া চাঁদার টাকা। সেই টাকার উপর নির্ভর করেই তিনি দেওয়াল লিখন করেন। বিভিন্ন জায়গায় সভা করেন। নিজ এলাকায় হেঁটে প্রচার সারলেও দূরের জন্য সঙ্গে থাকে বাইক।

ভোটে জেতায় আশাবাদী তো নন, স্বপ্ন কী দেখেন? তিনি শোনালেন, সাধারণ মানুষের বিভিন্ন দাবিদাওয়া, সমস্যার সমাধানে আন্দোলন গড়ে তোলার একটি রাস্তা করার চেষ্টা করব। কেউ নমিনেশন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দিয়ে থাকলেও আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।

তাঁর লড়াইকে কীভাবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা? গোলরাম রায় স্পষ্ট বলেন, বালাসন নদীতে দীর্ঘদিন ধরে আমি শ্রমিকের কাজ করেছিলাম। কষ্ট কাকে কয় ভালো মতোই জানি। এখন নদী নালাতে পরিণত হয়েছে। দেখার কেউ নেই। বয়স হয়েছে, ওষুধের প্রয়োজন হলেই তার কাছে আসি। সাহায্য পাই। অন্য এক বাসিন্দা  বিশ্বজিৎ পালের মুখেও তাঁর প্রশংসা।