সুবীর মহন্ত, বালুরঘাট : আবাস যোজনার উপভোক্তা তালিকায় বিজেপির তোলা অসংগতি ও দুর্নীতির ভিত্তি খুঁজে না পেলেও, এই প্রকল্পে আরও নজরদারি বাড়াচ্ছে পুরপ্রশাসন। নজরদারি বাড়াতেই উঠে এল নানা তথ্য। সবার জন্যে গৃহপ্রকল্পের টাকা পেলেও ঘর তৈরি করছেন না অনেকে। এই ধরনের চিহ্নিত উপভোক্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করতে চলেছে পুরপ্রশাসন। প্রথমে নোটিশ ও প্রয়োজনে এফআইআর করা হতে পারে তাদের বিরুদ্ধে।

গত লোকসভা নির্বাচনে ভালো ফলাফল করার পর, আগামী  নির্বাচনে বালুরঘাট পুরসভাতেও ভালো ফল করতে মরিয়া বিজেপি। গত কয়ে মাস ধরে সিএএ সমর্থনে বিভিন্ন কর্মসূচি চালানোর পর, এবারে দুর্নীতি ইশ্যুতে তৃণমূলকে চেপে ধরতে ঝাপাচ্ছে বিজেপি। তারা হাতিয়ার করেছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাস পর্যন্ত বালুরঘাট পুরসভায় তৃণমূল পরিচালিত বোর্ড ছিল। তারপর থেকে এই পুরসভা রয়েছে প্রশাসকের অধীনে। তৃণমূল পরিচালিত বোর্ডের সময়ে শহর জুড়ে সবার জন্য গৃহপ্রকল্পের উপভোক্তা তালিকা তৈরি করা হয়েছিল। কাঁচা ছাদ থাকা পরিবারগুলিকে পাকা ছাদযুক্ত বাড়ি দেওয়ার সরকারি এই প্রকল্পের উপভোক্তারা টাকাও পেয়েছে। কিন্তু এই তালিকাতেই স্বজনপোষণ ও দুর্নীতি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। এমনকি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে স্বজনপোষণ এবং দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

- Advertisement -

গত মাসেই খোদ বালুরঘাট পুরসভার বিগত তৃণমূল পরিচালিত পুরবোর্ডের উপপুরপ্রধান বেবি বর্মনের বিরুদ্ধে তাঁর মা ও স্বামীর নামে এই প্রকল্পের টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ জানিয়েছিল বিজেপি। ওই ওয়ার্ডের অনেক গরিব পরিবার আবেদন জানালেও, তাদের বঞ্চিত করেই উপপুরপ্রধান একাজ করেছিলেন বলে বিজেপির তরফে বালুরঘাটের মহকুমা শাসককের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছিল। শুধু উপপুরপ্রধানই নন, বিভিন্ন ওয়ার্ডের তৃণমূলের দলীয় চেয়ারম্যান, সভাপতি সহ বিভিন্ন নেতা-কর্মীদের নামের তালিকা তুলে ধরে আন্দোলনে নেমেছিল বিজেপি। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে ময়দানে নেমে পড়েন সাংসদ সুকান্ত মজুমদারও। দুই দফায় একগুচ্ছ নেতার নামের তালিকা তুলে দিয়ে তদন্তের দাবিও করা হয়েছিল।

কিন্তু পুরপ্রশাসনের তরফে প্রাথমিক তদন্তে বিজেপির করা অভিযোগের সত্যতা তেমন মেলেনি। তবে আবাস যোজনা প্রকল্পের নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, আবাস যোজনা প্রকল্পের বাড়ির টাকা পেতে অন্তত ৫ দফা অপেক্ষা করতে হয়। প্রতি দফায় ঘরের কাজ হওয়ার পর নির্দিষ্ট পরীক্ষানিরীক্ষার পরেই পরের দফার টাকা পান উপভোক্তারা। তবে প্রথম দফার টাকা পেয়ে, ঘর করেনি, এমন চারজন উপভোক্তাকে চিহ্নিত করেছে পুরপ্রশাসন। টাকা পেলেও তারা ঘর যেমন করেননি, তেমনি তাদের কোনও খোঁজও মিলছে না বলে জানা গিয়েছে।

মহকুমা শাসক তথা পুরপ্রশাসক বিশ্বরঞ্জন মুখোপাধ্যায় বলেন, টাকা পেয়ে বাড়ি তৈরি করবে না, এটা আমরা বরদাস্ত করব না। যদিও এমন প্রবণতা এই শহরে সংখ্যাটাও অনেক কম। তবুও যারা বাড়ির টাকা পেয়ে ঘর করেননি, তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হচ্ছে। এছাড়াও বাড়ি না করে পুরোনো কোনও নির্মাণ দেখিয়ে দেওয়া হলেও, তার বিরুদ্ধেও পদক্ষেপ করব আমরা।