বৃষ্টিতে জলমগ্ন বালুরঘাট শহর, বেহাল নিকাশি ব্যবস্থা

382

বালুরঘাট: বর্ষার প্রথম বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ল বালুরঘাট শহর। পুরসভা এলাকার একাধিক রাস্তা শুক্রবার দুপুরের বৃষ্টিতেই জলের নিচে ডুবে যায়। ব্যহত হয় যান চলাচল। চরম ভোগান্তির মধ্যে পড়েন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বল্প বৃষ্টিতেই বালুরঘাটের রাস্তায় জল জমে থাকার সমস্যা দীর্ঘদিনের। নর্দমা ও রাস্তা বৃষ্টির জমা জলে একাকার। বালুরঘাট পুরসভা এলাকার দিপালীনগর, খাদিমপুর বটতলা, ত্রিধারা ক্লাবপাড়া, ডাকবাংলো পাড়া, টাউন ক্লাবপাড়া, সাহেব কাছারি পাড়াসহ একাধিক জায়গায় বৃষ্টির জল দীর্ঘক্ষণ জমে থাকে। অপরদিকে, প্লাস্টিক-আবর্জনা সহ নর্দমায় ফেলার জেরে নিকাশি ব্যবস্থা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। পথচারীদের অভিযোগ, এইসব এলাকার বিভিন্ন রাস্তা খানাখন্দে ভর্তি। জল জমে থাকার কারণে যেকোনো সময় বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।

- Advertisement -

মাঝিয়ান আবহাওয়া কেন্দ্রের আবহাওয়া পর্যবেক্ষক সুমন সূত্রধর জানান, শুক্রবার বালুরঘাটে মাঝারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আনুমানিক ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুদিনও এমন বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সাহেব কাছারি এলাকার বাসিন্দা কাঞ্চন সাহা বলেন, আমাদের এলাকায় এমনিতেই রাস্তার বেহাল দশা। অনেকদিন রাস্তা মেরামত করা হয়নি। হাটখোলা মোড়ে রাস্তার পিচ উঠে খানাখন্দে পরিণত হয়েছে।

ত্রিধারা ক্লাব পাড়া এলাকার বাসিন্দা শান্তনু সরকার বলেন, অল্প বৃষ্টিতেই আমাদের এলাকার রাস্তা জলে ডুবে যায়। ঘন্টার পর ঘন্টা রাস্তায় জল জমে থাকে। নিকাশি ব্যবস্থা ভালো না হওয়া জল জমে থাকার অন্যতম কারণ। বেশ কিছু জায়গায় হাইড্রেনগুলো উন্মুক্ত রয়েছে। নর্দমায় জমা জলের কারণে ডেঙ্গির প্রকোপ বেড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে।

বালুরঘাট পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সুচেতা বিশ্বাসের অভিযোগ, পুরসভা এলাকার জল নিকাশি ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে। নিয়মিত নর্দমা গুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে না। নজরদারির অভাবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় নর্দমার জল আটকে থাকছে।

বালুরঘাট পুরসভার কার্যনির্বাহী আধিকারিক অতনু মন্ডল বলেন, শহরে জল জমার অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করে সমস্যার সমাধান করা হবে। এই মুহূর্তে সবকিছু ভেঙে নতুন করে তৈরি করা তো সম্ভব নয়। আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা চালাচ্ছি। তবে, কিছু অসচেতন নাগরিক নর্দমার মুখে প্লাস্টিক ফেলছে। ফলে জলনিকাশি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে। মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। পুরসভার তরফে সচেতনতার প্রচার চালানো হয়। আরও সচেতন করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিদিন আবর্জনা তোলার গাড়ি প্রতিটি ওয়ার্ডে যায়। সেখানে আবর্জনা ফেললেই এই সমস্যা দেখা দেবে না। তাছাড়াও আমাদের পুরসভা কর্তৃপক্ষের তরফে কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। সেই অনুযায়ী আগামীতে কাজ হবে।