কাজ নেই, মিলছে না ঋণ, বিপাকে বাঁশশিল্পীরা

98

রায়গঞ্জ: এক বছরের বেশি সময় ধরে করোনা অতিমারির জেরে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বাঁশশিল্পীরা। মেলা বন্ধের পাশাপাশি দোকান ও হাট-বাজার সেভাবে চালু না থাকায় হাতের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করা যাচ্ছে না। পুজোপার্বন হচ্ছে নামেমাত্র। গতবারের মতো এবারও জামাইষষ্ঠী কাটবে নমো নমো করেই। ফলে কুলা, চালুন, পাখা সহ অন্যান্য সামগ্রীর চাহিদা নেই বললেই চলে। এই অবস্থায় মিলছে না ব্যাংক ঋণও। গ্রামের মহাজন এবং বেসরকারি ঋণদানকারী সংস্থাগুলি থেকে চড়া সুদে ধার নিতে হচ্ছে বাঁশশিল্পীদের।

রায়গঞ্জের সুভাষগঞ্জ এলাকায় বেশ কয়েকজন বাঁশশিল্পী আছেন। সারাবছর বাঁশ দিয়ে নানারকম সামগ্রী তৈরি করেন। সেগুলি হাটে, বাজারে এবং দোকানে বিক্রি করে কোনওমতে সংসার চালান। প্রতিবছর রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় মেলা হত। মেলায় নিজেদের তৈরি সামগ্রী বিক্রি করতে পারতেন তাঁরা। কিন্তু করোনার জেরে গত এক বছরের বেশি সময় ধরে মেলা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছেন শিল্পীরা।

- Advertisement -

শিল্পী সুকুমার দাস, ভারতী দাস ও শোভা দাসের মতো আরও অনেকেই বাঁশ দিয়ে নানারকম সামগ্রী তৈরি করেন। বংশ পরম্পরায় তাঁরা এই কাজ করে আসছেন। কিন্তু করোনা অতিমারিতে তাঁদের জীবন একেবারে বিপন্ন। শিল্পী সুকুমার দাস সহ আরও অনেকে জানান, বাজারে বাঁশের জিনিসের কোনও চাহিদা নেই। ফলে বাড়িতে কাজ নেই। সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তাঁরা। ব্যাংক থেকে কোনও ঋণও পাচ্ছেন না। আবার ঋণ পেলেও চড়া সুদে তা শোধ করতে হচ্ছে। লোকশিল্পীদের মতো তাঁদেরও ভাতা দিতে হবে বলেও দাবি জানান।