বর্ষা আসতেই সাঁকো ভেঙেছে, কলার ভেলায় চলছে যাতায়াত

পলাশবাড়ি : ত্রিশ বছরেও পাকা সেতুর দাবি পূরণ হয়নি। তাই এবারও বর্ষা আসতেই আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পলাশবাড়িতে সনজয় নদীর সাঁকো ভেঙে গিয়েছে। পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি, পূর্ব কাঁঠালবাড়ি ও কানাঘাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। ওইসব এলাকার বাসিন্দারা ঘুরপথে অথবা কলার ভেলায় নদী পারাপার করছেন। প্রতিবছর এই সমস্যার জন্য ক্ষুব্ধ স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতুর দাবি পূরণ না হলে ফের ভোট বয়কটের ডাক দেবেন বলে জানিয়েছেন।

পলাশবাড়ি থেকে উত্তর দিকের একটি রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করেন পশ্চিম কাঁঠালবাড়ি, পূর্ব কাঁঠালবাড়ি ও কানাঘাই এলাকার বহু মানুষ। এই রাস্তায় সনজয় নদীর উপর সাঁকোটি প্রায় এক সপ্তাহ আগে জলের তোড়ে ভেঙে যায়। বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসন থেকে জনপ্রতিনিধিদের কাছে বহুবার পাকা সেতুর দাবি জানানো হয়েছে। প্রায় ৩০ বছর ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু আজও পাকা সেতু হয়নি। প্রতি বর্ষায় এভাবে সাঁকো ভেঙে যায়। আর বর্ষার পর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে ফের নতুন সাঁকো তৈরি করা হয়। পলাশবাড়ি এলাকা ফালাকাটা বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। বিধায়কের মৃত্যুতে এই কেন্দ্রে উপনির্বাচনের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বাসিন্দাদের একাংশ সেতুর দাবি পূরণ না হওয়ায় ভোট বয়কটের চিন্তা করছেন বলে জানিয়েছেন।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা পেশায় অটোচালক স্বপন রায় বলেন, বাড়ি থেকে অনেকটা ঘুরপথে পলাশবাড়িতে অটো নিয়ে যেতে হয়। এজন্য রোজ ভোগান্তি হচ্ছে। আরেক বাসিন্দা শুভজিৎ রায় বলেন, সাঁকো ভেঙে যাওয়ায় অনেকের সমস্যা হচ্ছিল। এজন্য স্থানীয় যুবকরা কলার ভেলা তৈরি করেছেন। সাইকেল আরোহী, মহিলারা অনেকেই বাধ্য হয়ে কলার ভেলা দিয়ে বিপজ্জনকভাবে নদী পারাপার করছেন। স্থানীয় বাসিন্দা সুভাষ রায়, গালু মুন্ডা, রমণীকান্ত রায় প্রমুখ জানান, নির্বাচনের আগে নেতারা সেতুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কাজ হয়নি। তাঁরা ভোট ফুরোলেই প্রতিশ্রুতির কথা বেমালুম ভুলে যান। তাই এবারের ভোগান্তি নিয়ে উপনির্বাচন হলে ভোট বয়কটের ডাক দেওয়া হবে।

পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, গ্রাম পঞ্চায়েতের ফান্ড থেকে পাকা সেতু তৈরি করা সম্ভব নয়। এজন্য বর্ষার পর নতুন সাঁকো তৈরি করা হয়। আমাদের তরফে পাকা সেতুর দাবি জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো রয়েছে। আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি মনোরঞ্জন দে বলেন, বিষয়টি জানি। ওখানে সেতু তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।