বারবার দাবি জানিয়ে সেতু হয়নি, সাঁকো বানালেন গ্রামবাসীরা

314

নাগরাকাটা : গত কয়েকবছরে নানা মহলে দরবার করেও সুরাহা হয়নি। বর্ষার আগে খরস্রোতা ঝোরার ওপর তাই স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো তৈরি করলেন ভুক্তভোগী দুই গ্রামের বাসিন্দারা। নাগরাকাটার ঘাসমারি বস্তিতে ১৫ দিন ধরে নির্মীয়মাণ ওই সাঁকোর কাজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। তার  উদ্বোধন হল বুধবার।

বালুঝোরায় সেতু না থাকার কারণে এতদিন ঘাসমারি বস্তির কাঁঠালধুরা ও মহেন্দ্রপাড়া গ্রামের অন্তত ৫০০ বাসিন্দাকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। সবচেয়ে সমস্যায় পড়তে হত মহেন্দ্রপাড়াকে। বর্ষার সময় তাদের কাঁঠালধুরায় আসতে ৬ কিলোমিটার ঘুরতে হত। অথচ নদী পেরোলে সেই দূরত্ব বড়জোর আধ কিলোমিটার। স্কুলে যাওয়া, রেশন তোলা, বাজারঘাট করা থেকে শুরু করে যাবতীয কাজকর্মের জন্য সেখানকার বাসিন্দা ও পড়ুযাদের কাঁঠালধুরা আসা ছাড়া আর কোনও বিকল্প নেই। মহেন্দ্রধুরা থেকে ব্লক সদর নাগরাকাটায আসার যে বিকল্প রাস্তাটি রয়েছে সেটিও ভাঙা। গত বছরের বর্ষায গাঠিয়া নদীর জলোচ্ছ্বাসে প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় নির্মিত ওই রাস্তাটির ১০০ মিটার ভেঙে যায়।  সম্প্রতি সেখানে প্রথমে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলেও লকডাউনের কারণে এখন কাজ বন্ধ আছে। বর্ষার আগে ওই রাস্তা তৈরি হবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ।

- Advertisement -

সমস্যা দূর করতে বাসিন্দারা এর আগে পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে জনপ্রতিনিধি প্রত্যেকের সঙ্গেই যোগাযোগ করেছিলেন। একবার প্রশাসনের তরফে মাপজোখ করা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। যে কারণে এবার সেখানকার বাসিন্দারা নিজেরাই উপকরণ ও স্বেচ্ছাশ্রম দিযে ৮২ ফুট দীর্ঘ ওই সাঁকো তৈরির কাজ শুরু করেন। সময় লেগেছে ১৫ দিন। পালা করে গ্রামবাসীরা ওই কাজ করেছেন। রাজু নার্জিনারি, মংরু ওরাওঁ, শংকর বোড়ো, রতিরাম ওরাওঁ, নন্দগোপাল সাহু, প্রদীপ ওরাওঁ প্রমুখ জানান, কেউই তাঁদের সমস্যা বোঝার চেষ্টা করেনি। এছাড়া আর কোনও উপায় ছিল না। তাঁদের আশা, এরপর প্রশাসন স্থায়ী সেতু তৈরির কাজে এগিযে আসবে।

ছবি- বাঁশের সাঁকো বানিয়েছেন গ্রামবাসীরা।