ফালাকাটার ব্যস্ত রাস্তা বাঁশ ব্যবসায়ীদের কবজায়

303

ফালাকাটা : ফালাকাটা শহরে খোলামেলা জায়গার বড়োই অভাব। শহরের ফুসফুস হিসেবে পরিচিত একমাত্র টাউন ক্লাব মাঠে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের টাকায় বিশাল স্টেডিয়াম তৈরি হচ্ছে। হাটখোলাতেও কোনো ফাঁকা জায়গা নেই। তাই বছরের পর বছর ধরে শহরের মাঝখানে হাসপাতাল সরণি দখল করে বাঁশ কেনাবেচার কারবার চলছে। শহরের ওই ব্যস্ততম রাস্তার একপাশে রয়েছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল, অন্যদিকে কয়েকটি স্কুল। সেই রাস্তার একাংশ দখল করার পাশাপাশি নিকাশিনালাতেও রাখা হচ্ছে বাঁশের স্তূপ জমিয়ে রাখা হচ্ছে। এজন্য এলাকার নিকাশি ব্যবস্থা যেমন ভেঙে পড়েছে তেমনই প্রতিদিন দুর্ঘটনাও হচ্ছে। বাঁশ হাট অন্যত্র সরানো হচ্ছে না কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে বাঁশ ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রশাসন বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করা হলে তাঁরা অন্যত্র সরে যেতে রাজি আছেন। ফালাকাটার বিডিও সুপ্রতীক মজুমদার বলেন, ‘বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সংশ্লিষ্ট গ্রাম পঞ্চায়েতকেও বিষয়টি জানাচ্ছি।’

এক সময় ফালাকাটার টাউন ক্লাবের মাঠের ধারে বাঁশ কেনাবেচা চলত। তখন আশপাশের গ্রামাঞ্চল থেকে বাসিন্দারা শহরে বাঁশ বিক্রি করতে আসতেন। কিন্তু টাউন ক্লাবের গুরুত্বপূর্ণ মাঠে বাঁশ কেনাবেচায় আপত্তি জানান খেলাপ্রেমীরা। তারপর থেকে বাঁশের কারবার শুরু হয় হাসপাতাল সরণিতে। ফালাকাটার এশিয়ান হাইওয়ের সঙ্গে যুক্ত হাসপাতাল মোড় থেকে ওই রাস্তাটি থানা রোডে চলে গিয়েছে। রাস্তার পূর্ব দিকে রয়েছে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। দক্ষিণ দিকে একটি প্রাইমারি স্কুল ও ফালাকাটা গার্লস হাইস্কুল। ব্যস্ততম এই রাস্তা দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ চলাফেরা করেন। স্কুল পড়ুয়া, ব্যবসায়ী ও হাসপাতালে আসা মানুষজনকে সবসময় এই রাস্তা দিয়ে যাওয়া-আসা করতে হয়। অথচ এরকম এক ব্যস্ততম রাস্তায় প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর অবধি বাশেঁর হাট বসে। ফালাকাটার সাপ্তাহিক হাট হিসেবে সপ্তাহের মঙ্গল ও শুক্রবার বাঁশ কেনাবেচা বেশি হয়। অভিযোগ,স্থানীয় ব্যবসায়ীরাই রাস্তা দখল করে বাঁশের হাটটি চালাচ্ছেন। এখনও গ্রামাঞ্চল থেকে অনেকেই শহরে বাঁশ বিক্রি করতে আসেন। আবার শহরের ডেকোরেটররা ও নির্মাণকর্মীরা এখান থেকেই কাঁচা বাঁশ কিনে নেন। এজন্য বাঁশের ব্যবসায়ীরা রাস্তার দু’ধারে বাঁশের স্তূপ মজুত করে রাখেন। ওই রাস্তার পাশে থাকা নিকাশিনালার ওপরেও বাঁশের স্তূপ জমে থাকে। আবার সকাল থেকে দিনভর রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে ঠ্যালা,ভ্যান ও পিক আপ ভ্যানে বাঁশ ওঠানো-নামানোর কাজ চলে।

- Advertisement -

এই রাস্তার পাশেই রয়েছে ফালাকাটা গার্লস হাই স্কুলের ২ নম্বর গেট। ফলে স্কুল চলাকালীন একাংশ পড়ুয়া ও পথচারীদের চলাফেরা করতে খুবই সমস্যা হয়। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে। কয়েক মাস আগে জনতা কলোনির শম্ভু সাহা নামে এক ব্যক্তি পিকাপ ভ্যানের ধাক্কায় জখম হন। পরে জখম ব্যক্তির চিকিৎসাও হয় ফালাকাটা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। এছাড়া ছোটোখাটো দুর্ঘটনাও এই রাস্তায় লেগেই থাকে।

স্থানীয় বাসিন্দা সুকুমার ঘোষ বলেন, ‘শহরের উপকণ্ঠে এভাবে বাঁশের কারবার চলা খুবই বিপজ্জনক।’ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার নারায়ণ বিশ্বাসের অভিযোগ, প্রশাসনের চরম গাফিলতিতেই শহরের ব্যস্ততম রাস্তায় এভাবে বাঁশের কারবার চলছে। দ্রুত এই বাঁশের হাট অন্যত্র সরানোর দাবি জানান তিনি। ফালাকাটা গার্লস হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শিপ্রা সাহা রায় বলেন, ‘এজন্য পড়ুয়াদের চলাফেরায় সমস্যা হচ্ছে।’

সমস্যা যে হচ্ছে তা মেনে নিয়েছেন বাঁশ ব্যবসায়ীরা। স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘খুব সতর্কভাবেই বাঁশের স্তূপ রাখা হয়। তবে রাস্তার মধ্যে এই কারবার চলায় সাধারণ মানুষের কিছুটা সমস্যা তো হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করলে আমরা অন্যত্র সরে যেতে রাজি।’ ফালাকাটা-১ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান বিকাশ কুন্ডু বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনিকস্তরে আলোচনা করা হবে।’

ছবি- ফালাকাটা হাসপাতাল সরণিতেই চলছে বাঁশ কেনাবেচা।

তথ্য ও ছবি- সুভাষ বর্মন