নয়ন রায়, সোনাপুর : উত্তর সোনাপুরের সরকারপাড়া গ্রামে পঞ্চায়েত সমিতি নিয়ন্ত্রিত দেড় কিলেমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা ৭ বছর থেকে সংস্কার হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। রাস্তাটির বর্তমানে বেহাল দশা। পিচের চাদরও উঠে গিয়েছে। ছোট-বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। তাতে জল জমে মারণফাঁদের আকার নিচ্ছে। ২০১৩ সালে সাংসদের এলাকা উন্নয়ন তহবিল থেকে কয়েক লক্ষ টাকা খরচ করে আলিপুরদুয়ার-১ পঞ্চায়েত সমিতি রাস্তাটির সংস্কার করে। তবে তারপর থেকে রাস্তাটি আর সংস্কার করা হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। রাস্তার এই ভয়াবহ পরিস্থিতি জেনেও প্রশাসন কেন সংস্কারে হাত লাগাচ্ছে না সেই প্রশ্ন তুলছেন এলাকাবাসীরা। স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কারের দাবি তুলছেন।

আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের চকোয়াখেতির সরকারপাড়া গ্রামের মাঝবরাবর গিয়েছে এই রাস্তাটি। সরকারপাড়া গ্রামের জেলা পরিষদের রাস্তা থেকে পশ্চিমে সোনাপুর বি কে উচ্চবিদ্যালয় লাগোয়া অপর একটি রাস্তা পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ এই রাস্তাটি। সারা রাস্তায় কাটা পাথরের টুকরো ছড়িয়েছিটিয়ে থাকায় পথচারীদের যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। মাঝেমধ্যে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও ঘটছে।

- Advertisement -

স্থানীয় বাসিন্দা হীরা রায়, ধীরাজ সরকার জানান, রাস্তাটি সংস্কার হওয়ার একবছরের মধ্যেই পিচের আস্তরণ উঠতে শুরু করে। বর্তমানে রাস্তার পরিস্থিতি খুবই খারাপ। চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার দরকার। রাস্তাটি সংস্কারের জন্য মাসখানেক আগে এলাকাবাসীদের পক্ষ থেকে  উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের কাছে আর্থিক বরাদ্দ চেযে একটি স্মারকলিপিও দেওয়া হয়েছিল। পরে দপ্তরের এক আধিকারিক ভাঙা রাস্তা পরিদর্শনে এসে তা সংস্কারের আশ্বাসও দেন বলে দাবি তাঁদের। কিন্তু তা সত্ত্বেও ভাঙা রাস্তার কোনও সংস্কার হয়নি।

সরকারপাড়া, খালপাড়া, মথুরা, বাবুরহাট প্রভৃতি এলাকার বহু মানুষ রাস্তাটি দিয়ে চলাফেরা করেন। পড়ুয়ারাও এই রাস্তাটিই ব্যবহার করেন। অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষিতীশ রায়, অমূল্য বর্মন বলেন, হেঁটে এবং বাইক নিযে এই রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তা সত্ত্বেও আমাদের বাচ্চারা বাধ্য হয়ে ওই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যাতাযাত করছে। প্রশাসন দ্রুত রাস্তাটির সংস্কারের উদ্যোগ নিলে ভালো হয়। পড়ুযাদের মধ্যে দেবাশিস রায়, অর্পিতা রায় এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াতে তাদের সমস্যার কথা জানায়। সরকারপাড়া গ্রামের স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য শান্তি রায় বলেন, রাস্তার পরিস্থিতি ভীষণ খারাপ। এই সমস্যাটি নিয়ে আমি নির্দিষ্ট মহলে কথা বলব। আলিপুরদুয়ার-১ পঞ্চায়েত সমিতির সহসভাপতি লক্ষ্মীকান্ত রাভা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নেওযা হবে। সবদিক খতিযে দেখে প্রশাসনিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।