সরকারের বাধায় ‘স্বেচ্ছাসেবী’র আড়ালে বাংলায় ত্রাণ বিলি বঙ্গ-বিজেপির

323

কলকাতা: রাজ্যজুড়ে রাজনৈতিক কারণেই ত্রাণ বিলিতে বাধা দেওয়া হচ্ছে তাদের দলের নেতা কর্মীদের বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। তাই রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক বাধা এড়িয়ে ত্রাণ বিলির জন্য নতুন কৌশল নিল তারা। এবার সামাজসেবী সংগঠনের মাধ্যমে রাজ্যের মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দেবার বড়সড় পরিকল্পনা নিয়েছে রাজ্য বিজেপি।

উল্লেখ্য দলের সাংসদ অর্জুন সিংহ, সুকান্ত মজুমদার, জন বার্লার, নিশীথ প্রামাণিকেরা ত্রাণ বিলির সময় বার বার পুলিশের বাধা পেয়েছেন। বাধা পেয়ে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন সাংসদ সুকান্ত মজুমদার, নিশীথ প্রামাণিকেরা। তাতেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। এমনকি ত্রাণ বিলির আগেই আটকে দেওয়া হয়েছে বিধান নগরের প্রাক্তন মেয়র সব্যসাচী দত্তকেও। যার ফলে সাংসদ ও দলের হেভিওয়েট নেতারা মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিতে পারছেন না।

- Advertisement -

সেইজন্য বিজেপির সর্বভারতীয় সংগঠন সম্পাদক শিবপ্রকাশ এক নতুন কৌশলে ত্রাণ বিলির পরিকল্পনা করেছেন। সরাসরি বিজেপি নয়, এবার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে ত্রাণ বিলি করবে বিজেপি। তার জন্য রাজ্যের কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে দলের রাজ্য দপ্তর থেকে। এছাড়া যেখানে সম্ভব সেখানে বিজেপি নেতাদের সামনে রেখে অরাজনৈতিক ব্যানারে ত্রাণবিলির কাজ করার পরিকল্পনা করেছে দল।

শিবপ্রকাশের এই পরিকল্পনা মত ইতিমধ্যে গোটা রাজ্যজুড়ে ত্রাণ বিলির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। সোমবার সকালে সেভ বেঙ্গল নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মাধ্যমে নদীয়ার কল্যাণীতে ত্রাণবিলি শুরু করেছেন বিজেপির নেতারা। কল্যাণী পুরসভার চার নম্বর ওয়ার্ডে শাকসব্জী সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস বিলি করেছেন গেরুয়া শিবিরের কর্মীরা। এদিন কল্যাণী পুরসভা এলাকায় প্রায় ৭০০ মানুষের মধ্যে ত্রাণ বিলি করা হয়েছে বলে বিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। চাল, ডাল, সোয়াবিন, তেল সহ মোট ১৩ প্রকার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তারা বিলি করা করেছে বলে জানা গিয়েছে।

এদিন সকাল থেকে এই ত্রাণ বিলিতে রাজনৈতিক গন্ধ রয়েছে তা মানতে নারাজ ত্রাণ কর্মসূচীর অন্যতম উদ্দ্যোক্তা তথা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রধান অধ্যাপক প্রবীর কুমার বৈদ্য। তিনি বলেন, আমরা নদীয়াবাসীর সাহায্যের জন্য কাজ করছি। গরিব মানুষকে একটু সুরাহা দিতেই এমন কর্মসূচী নিয়েছি। এর পিছনে কোনও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। তবে এই সংগঠনের বেশিরভাগ মানুষ যে বিজেপির মতাদর্শে বিশ্বাসী তা মেনে নেন অধ্যাপক প্রবীর কুমার বৈদ্য।

অপরদিকে রাজ্য বিজেপি দপ্তর সূত্রের খবর, প্রত্যেকটি জেলায় এইভাবেই বুথস্তরের নেতাদের সামনে রেখে ত্রাণ কর্মসূচীতে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে দিল্লি। যা দলের সংগঠন সম্পাদক শিবপ্রকাশ সরাসরি দেখছেন বলে বিজেপির রাজ্য দপ্তর থেকে জানানো হয়।